২৪ ঘন্টাই ডিভাইস!

করেছে Sabiha Zaman

প্রযুক্তির যুগে আমাদের জীবনটা অনেক বেশি সহজ করে দিয়েছে স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, ডেক্সটপের মতো ডিভাইসগুলো। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কিংবা মনের ভাব আদান-প্রদান করতে এখন আর অপেক্ষা করতে হয় না ল্যান্ডফোনের জন্য কিংবা সময় গুনতে হয় না চিঠিপত্র আনা-নেওয়ার। কারণ, এখন অনেক বেশি সহজ। স্মার্টফোনের একটি আমাদের কানেক্ট করে দিচ্ছে বিশ্বের অপর প্রান্তের মানুষটির সঙ্গে। তা-ও মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই। শপিং, এডুকেশন কিংবা গুরুত্বপূর্ণ ডাটা আদান-প্রদানের জন্য আমাদের সবচেয়ে বেশি কানেক্টেড থাকতে হয় ডিজিটাল ডিভাইসগুলোর সঙ্গে।

কিন্তু আমরা অনেকেই আসক্ত হয়ে পড়ছি ডিজিটাল ডিভাইসগুলোর ফাঁদে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাপস, লাইভ স্ট্রিমিং, গেমসসহ আরও অসংখ্য সুযোগ-সুবিধা থাকায় আমরা বেশির ভাগ সময় ব্যয় করছি ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে, যার ভেতর অন্যতম স্মার্টফোন। ডিজিটাল ডিভাইস আসক্তি নিয়েই আজ আলোচনা করব। লিখেছেন সাবিহা জামান।

বাচ্চা থেকে বুড়ো প্রায় আমরা সবাই একটি দিনের দীর্ঘ সময় ব্যয় করছি স্মার্ট ডিভাইসগুলো ব্যবহার করে। ধীরে ধীরে এ অবস্থায় আমাদের আসক্ত করে ফেলে ডিজিটাল ডিভাইসগুলোর সঙ্গে। তখনই বুঝতে পারবে যে তুমি স্মার্ট ডিভাইসে আসক্ত হয়ে পড়ছ। তখন তা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করো। তার জন্যই নিচে কিছু টিপস শেয়ার করলাম।

যুক্তি খুঁজে বের করো
তুমি কেন এখন ডিজিটাল ডিভাইসটি ব্যবহার করছ। এর কোন যৌক্তিকতা আছে এর কারণ খুঁজে বের করতে চেষ্টা করো। যদি দেখো আসলেই প্রয়োজন রয়েছে, তবে ঠিক আছে কিন্তু যদি প্রয়োজন না থাকে, তবে কেন তুমি সময় নষ্ট করছ। এ সময় তো অন্য কোনো কাজ করা যেতে পারে। তুমি যখন বুঝতে পারবে তুমি অকারণে স্মার্টফোন অথবা যেকোনো ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করছ, তখন বুঝতে পারবে যে তুমি আসলে এসবে আসক্ত হয়ে গেছ। আর যেকোনো আসক্তি খারাপ কিছুর কারণ হতে পারে। তখনই বের হয়ে আসার চেষ্টা করতে শুরু করে দাও।

রুটিন করে কাজ
আমাদের জীবনের সময়গুলো সঠিকভাবে ব্যয় করার জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে রুটিন। জন্য অনেক ভালো একটি উপায় হচ্ছে রুটিন তৈরি করা। যেখানে সকাল থেকে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তুমি কী করবে তার একটি বিবরণ থাকবে। রুটিনে থাকা তোমার কর্মপরিকল্পনা তোমাকে ডিভাইস আসক্তি থেকে অনেক দ্রুত বের হয়ে আসতে সাহায্য করবে।

ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের সময়সীমা
দিনের কত ঘণ্টা সময় তুমি স্মার্টফোন বা ডিজিটাল ডিভাইসে ব্যয় করবে, সেটা ঠিক করে নাও। ব্যবহার করতে পারো স্মার্ট টাইম ট্র্যাকিং অ্যাপস। তুমি ডিজিটাল ডিভাইস কত সময় ব্যবহার করছ, তার তদারকিতে থাকবে এই অ্যাপস। এটি কাজে দেবে তোমার ফোনের আসক্তি কাটিয়ে তুলতে।

স্কিন ফ্রি ডে
আমরা তো এখন আমাদের বেশির ভাগ সময়টাই ডিভাইসে ব্যবহার করছি আর এখন এই করোনাকালে বাসায় বসে অফিসের কাজে আমরা আরও বেশি সময় ব্যয় করছি। অন্তত ছুটির দিন হলেও চেষ্টা করো ওই দিন কোনো প্রকার ডিভাইস ব্যবহার না করতে আর যদি করেও থাকো, সেটা খুব অল্প পরিমাণ সময়। এটা তোমাকে ডিভাইস আসক্তি থেকে খুব দ্রুত বের করে আনতে সাহায্য করবে।

ঘুমানোর আগে ৩০ মিনিটের বেশি ডিভাইস নয়
আমরা রাতে অনেক বশি সময় ব্যয় করি ডিভাইস ব্যবহার করে। যার ফলে রাতে পর্যাপ্ত ঘুম হয় না। তাই নিয়ম করে ফেলো ঘুমানোর আগে ৩০ মিনিটের বেশি ডিভাইস ব্যবহার করবে না। দিনের বেলা ঘুমালেও এ পন্থা ব্যবহার করো।

নোটিফিকেশন বন্ধ
খুবই প্রয়োজনীয় বিষয় ছাড়া বাকি সব মাধ্যমের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখো। এর ফলে অকারণে ফোন হাতে নেওয়া বা স্ক্রিন টাইম কমবে।

ছবি: সংগৃহীত

 

 

 

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

17 − 9 =