‌’অ্যাডমিনের দায়িত্ব কাউকে ব্লক করা নয়।’

করেছে Sabiha Zaman

সুরাইয়া নাজনীন 

মোসেস অনলাইন ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের জন্য ফেসবুক প্ল্যাটফর্ম। ব্যবহারকারীদের ন্যূনতম আয়ের মাধ্যম। শুরু হয় ২০২০-এর জুলাইয়ে। প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডমিন জাকির পারভেজ।
জাকির পারভেজ বলেন, একজন উদ্যোক্তার প্রথম লক্ষ্য থাকে তার পণ্যের প্রচারণা। কিংবা তার উদ্ভাবনগুলোর প্রচারণা করা। আজ থেকে কয়েক বছর আগেও বিভিন্ন পণ্যের ব্র্যান্ডিং করা হতো ব্যানার, পোস্টার, হাটে-বাজারে প্রজেক্টরের মাধ্যমে কিংবা টিভি চ্যানেলগুলোতে। এখন যুগ পাল্টে গেছে। পুরো পৃথিবীটাকে নাম দেওয়া হয়েছে গ্লোবাল ভিলেজ। উদ্যোক্তাদের জন্য বিভিন্ন সামাজিক সাইট একটা আশীর্বাদস্বরূপ। তার মধ্যে অন্যতম হলো ফেসবুক। ফেসবুকের সহজলভ্যতাই এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে ছাত্রছাত্রী, বেকার, চাকরিজীবী, গৃহিণীসহ বিশাল এক জনগোষ্ঠী নিয়মিতই ফেসবুক ব্যবহার করছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো একজন উদ্যোক্তা এখন তার টার্গেট অরিয়েন্টেড কাস্টমারকে ফোকাস করতে পারছে, যা টিভি কিংবা প্রিন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে সম্ভব ছিল না। যে কোনো প্রচারণায় মুহূর্তেই জানতে পারছে কতগুলো মানুষ তার বিজ্ঞাপনটি দেখেছে এবং এ-ও জানতে পারছে কোন বয়সের কোন পেশার। আবার অন্যদিকে ফেসবুক গ্রুপগুলোও ফেসবুক ব্যবহারকারীদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। একজন উদ্যোক্তার জন্য ফেসবুক গ্রুপ খুবই কার্যকরী। গ্রুপের অজস্র মেম্বারের কাছে মুহূর্তেই পৌঁছে দিতে পারছে তার সেবা কিংবা পণ্যের বিজ্ঞাপন। আবার গ্রুপ মেম্বারদের সঙ্গে পণ্য নিয়ে সরাসরি ফিডব্যাকও নিতে পারছে। যেকোনো সার্ভে করতে পারছে খুবই অল্প সময়ে। ফলে উদ্যোক্তাদের জন্য উন্নতি করা এখন আরও সহজ।’

মোসেস গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও অ্যাডমিন জাকির পারভেজ।

ভবিষ্যৎ কি অনলাইননির্ভর হবে? এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, অবশ্যই। মানবসভ্যতা দিন দিন প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা একটি প্রযুক্তিগত বিপ্লবের দোরগোড়ায়ও দাঁড়িয়ে আছি। যেখানে জীবনযাত্রার মান, কাজ করার ধরন এবং যোগাযোগের পদ্ধতিগুলো মৌলিকভাবে পরিবর্তন আসবে। একজন উদ্যোক্তাকে সেবা প্রদান বা তার ব্যবসায়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তির সঙ্গেও আপডেট থাকতে হবে।’
একজন অ্যাডমিনের দায়িত্ব এবং সুবিধা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা সাধারণত ফেসবুক গ্রুপের অ্যাডমিন বলতে বুঝি কাউকে ব্লক করা, গ্রুপ থেকে বের করে দেওয়া কিংবা গুরুত্বপূর্ণ সেটিংসগুলো নিয়ন্ত্রণ করা। কিন্তু আমি একটু ভিন্নভাবেই অ্যাডমিনদের দায়িত্বের কথা শেয়ার করব। একজন অ্যাডমিন গ্রুপের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে প্রতিটি মেম্বারকে ফলো করা এবং তাদের পোস্ট ও তাদের কমেন্টস অ্যানালাইসিস করা। গ্রুপে এমন অনেকেই থাকে, যাদের প্রতিভা আছে কিন্তু একটা প্ল্যাটফর্ম বা সাপোর্টের অভাবে সে নিজেকে বিকশিত করতে পারে না। একজন ফেসবুক গ্রুপের অ্যাডমিনের ইচ্ছা থাকলে এ ধরনের ট্যালেন্টেডদের খুঁজে বের করতে পারে। আবার অ্যাডমিন প্যানেল গ্রুপের মেম্বারদের জন্য ক্রিয়েটিভ কিছু ইভেন্টের মাধ্যমে মেম্বারদের প্রাণবন্ত করে রাখতে পারে, সঙ্গে সঙ্গে ফেসবুকে কাটানো কিছু অলস মস্তিষ্ক তারাও নিজেদের বিকশিত করতে পারবে এবং নতুন কিছু উদ্যোগ নিতেও সাহস পাবে। আর এখন তো প্রতিটি গ্রুপেই অসংখ্য নারী অনলাইন ব্যবসায়ের প্রচারণা করছে। একজন অ্যাডমিন তার গ্রুপের উদ্যোক্তাদের একত্র করে একটা টিমওয়ার্কের মাধ্যমে তাদের ব্যবসা স্মুদলি এগিয়ে নিতে মোটিভেশনাল, প্রফেশনাল ও টেকনিক্যাল বিভিন্ন ধরনের ট্রেনিং ও অ্যাওয়ারনেসের মাধ্যমে সাপোর্ট দিয়ে তাদের সহযোগিতা করতে পারে।’


অনলাইন বিজনেস বাড়ানোর জন্য কী কী পলিসি থাকতে হবে? কিংবা নতুন কোনো পলিসির প্রণয়ন দরকার আছে কি? এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা অনেকেই ব্যবসা করছি এবং করতে চাই। আমরা ভাবতেই পারি ব্যাপারটি খুব সহজ; কারণ ব্যবসা তো করব প্রফিটের জন্যই। কিন্তু প্রফিট সব সময় না-ও হতে পারে। তুমি ব্যবসা কত দিনের জন্য করবে সেটা আগে নির্ধারণ করতে হবে। সাধারণত সবাই বলবে ব্যবসা তো মানুষ একটা লম্বা সময়ের জন্যই করতে চায়। ঠিক, কিন্তু তারপরও অনেকেই কিছু দূর গিয়ে ব্যবসাটা আর চালিয়ে যেতে পারে না। আমরা আসলে উদ্যোক্তা আর ব্যবসায়ীকে এক করে ফেলি। কিন্তু ব্যবসায়ী এবং উদ্যোক্তার মধ্যে পার্থক্য আছে। ব্যবসা হলো শুধু প্রফিট করা। কোনো পণ্য কম দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করা। অপর দিকে একজন উদ্যোক্তার আলাদা কিছু দায়িত্ব থাকে, তার পারসেপশনটাই ভিন্ন থাকে। যেমন একজন উদ্যোক্তা সাধারণত চিন্তা করে তার যে অডিয়েন্স বা কাস্টমার থাকবে তাদের কী কী চাহিদা আছে, তাদের যে যে সমস্যা আছে, সে বিষয়গুলো কীভাবে লাঘব করা যায় এবং সেসব চাহিদা ও সমস্যাগুলোকে কমার্শিয়ালাইজ করে তা থেকে ব্যবসা বের করে আনা। মূলত একজন উদ্যোক্তা হলো প্রবলেম সলভার।’

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

2 × five =