বাবা-মা-ই টিম লিডার

করেছে Sabiha Zaman

প্যারেন্টিং একটি টিমওয়ার্ক, আর এই টিমের লিডার কিন্তু একজন নয়। মা এবং বাবা দুজনেই এই টিমের লিডার। তাই এই দুজনের মধ্যে যদি প্যারেন্টিং নিয়ে একতা না থাকে, তবে গোলযোগ দেখা দেওয়ার অনেক বেশি আশঙ্কা থাকে। প্যারেন্টিং করতে বাবা-মায়ের একমত থাকা খুব জরুরি। এ নিয়েই লিখেছেন শারমিন শামুন-

অনেক সময়ই শিশুটি হয়তো কাঁদছে বাবা এসে মাকে ধমক দিলেন যে কেন ও কাঁদছে বা কেন আমার ছেলেকে বা মেয়েকে কাঁদাচ্ছ। মা বেচারি তখন কিছুটা অপমানিত হন এবং একই সঙ্গে স্বামীর ওপর অসন্তুষ্ট হন। আবার একই ঘটনা কিন্তু বাবার ক্ষেত্রেও ঘটতে পারে। বাবা হয়তো শিশুটির কোনো আচরণ সংশোধনের জন্য একটু কঠিন মনোভাব দেখালেন। কিন্তু মা এসে বললেন কেন আমার বাচ্চার সঙ্গে এমন নিষ্ঠুর আচরণ করছ। তখন বাবা বেচারাও কিছুটা বিব্রত হন এবং স্ত্রীর ওপর মন খারাপ করেন। এ তো গেল স্বামী-স্ত্রীর কথা। এই দ্বন্দ্বের বা অমিলের সবচেয়ে বড় ক্ষতিটি যার হয় সে হলো ছোট শিশুটি। একে তো মা-বাবার মতানৈক্যে সঠিক শিক্ষাটা তার পাওয়া হলো না, তার ওপর কখনো মাকে বাবার চেয়ে ভালো, আবার কখনো বাবাকে মায়ের চেয়ে ভালো মনে হলো। শিশুর আচরণ সংশোধনে যে বেশিসংখ্যক বার বাধা দেবে, সন্তান তার বিপক্ষে চলে যেতে পারে।

এটা কোনোভাবেই প্যারেন্টিংয়ের সঠিক পদ্ধতি নয়। সাধারণত মা-বাবা দুজনেই সন্তানকে ভালোবাসেন। তাই সবার আগে মা-বাবার মধ্যে একতা দরকার। মা-বাবার মধ্যে এই বিষয়টি পরিষ্কার থাকতে হবে তারা কীভাবে প্যারেন্টিং করবেন।

কিছু বিষয়ে আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়ে রাখা ভালো যে একে অন্যের সিদ্ধান্তকে সম্মান করবেন এবং একে অন্যকে সহযোগিতা করবেন। কোনো ভুল থাকলে তা ব্যক্তিগতভাবে নিজেদের মধ্যে আলাপ করে সংশোধন করে নেবেন, সন্তানের সামনে একে অন্যকে হেয় করবেন না। তাতে করে সন্তান সহজে, সুন্দরভাবে দরকারি নির্দেশনা পাবে এবং মা-বাবা উভয়কেই সমানভাবে সম্মান করা শিখবে।

আমাদের দেশে অনেক পরিবারে দুটি চিত্র দেখা যায়
১. যে পরিবারে মা যথাযথ সম্মান পায় না, সেই পরিবারে হয় সন্তান মায়ের পক্ষে চলে যায় এবং বাবার সঙ্গে সম্পর্ক ভালো থাকে না অথবা মাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে যেমনটা বাবা বা অন্যদের মায়ের সঙ্গে করতে দেখে।
২. আবার কিছু পরিবারে দেখা যায় বাবা মূল্যহীন বা তৃতীয় ব্যক্তির মতো হয়ে যান এবং সন্তানের জীবন হয়ে ওঠে মূলত মা-প্রধান। প্রবাসী পরিবারগুলোতে কখনো কখনো এমনটা দেখা যায়। এ ক্ষেত্রে বাবা দূরে থাকায় এমনটা বেশি ঘটে। আবার কোনো কোনো পরিবারে মায়েরা সন্তানদের সামনে বাবাকে ভুলভাবে বা নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করার কারণেও এমনটা হয়ে থাকে।

সঠিক এবং সুন্দর প্যারেন্টিং চর্চায় মা-বাবা উভয়ের যথাযথ অংশগ্রহণ সব থেকে ভালো ফলাফল দিতে পারে। তবে মা-বাবা হিসেবে ভালো প্যারেন্টিং করতে হলে আগে আমাদের নিজেদের একে অন্যকে সম্মান করার মানসিকতা থাকা জরুরি। নিজেদের ভেতর সম্মান না থাকলে এর প্রভাব সন্তানের ওপর পড়ে একদম ছোট থেকেই।
শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। বাবা-মার পাশাপাশি শিশুরা পরিবারের সব সদস্যকেই অনুকরণ করে। আমাদের দেশে এখনো অনেক যৌথ পরিবার রয়েছে। যেহেতু শিশুরা সবাইকে দেখে শেখে, তাই পরিবারের সব সদস্যের মধ্য সুন্দর সম্পর্ক থাকা জরুরি। প্রতিটি সদস্যের ভেতর অন্যকে সম্মান করার মনোভাব থাকতে হবে। বাবা-মা শিশুর সংশোধনের জন্য শাসন করলে অন্য সদস্যদের যৌক্তিকতা বুঝতে হবে। পরিবারের সব সদস্যের একতা আর সম্মান শিশুর বিকাশের জন্য জরুরি।

শারমিন শামুন
প্যারেন্টিং-বিষয়ক লেখক
ও অ্যাডমিন প্যারেন্টিংয়ের পাঠশালা

ছবি: রোদসী ও ইন্টারনেট

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

11 + 18 =