চোখ বড় দেখাতে

করেছে Shaila Hasan

শায়লা জাহান

 

মানুষের পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের মধ্যে চোখ অন্যতম। কত কত উপমা আছে এই চোখ নিয়ে। ডাগর চোখ, হরিণী চোখ, পটোলচেরা- চোখ সুন্দর হলে আর কী ই বা দরকার? তবে যেমনই চোখের আকার হোক না কেন, চোখের আসল সৌন্দর্য কিন্তু বাড়ায় চোখের পাতা বা আইল্যাশ। আর এই ল্যাশ ঘন ও সুন্দর করা নিয়ে আজ রয়েছে কিছু টিপস।

সৌন্দর্যের সবচেয়ে লোভনীয় বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে একটি হল লম্বা, ফ্ল্যাটারিং, গাঢ় চোখের পাতা। যদিও কিছু সংখ্যক মানুষ জমকালো ল্যাশ নিয়েই জন্মগ্রহন করে, আর বাকিদের এর ওয়ে খুঁজে বের করতে হয়। যদিও অকেশনালি ল্যাশে আমরা মাসকারা ব্যবহার করে থাকি, কিন্তু মাসকারা হল দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার একটি দ্রুত সমাধান মাত্র। ল্যাশ ঘন, দীর্ঘ এবং স্বাস্থ্যকর করার বিভিন্ন ঘরোয়া উপায় রয়েছে।

ঘন ল্যাশের জন্য চোখের পাতা যত্নের পদক্ষেপ

সঠিক যত্ন দীর্ঘ ও ঘন ল্যাশ পেতে সাহায্য করে। পাতার যত্ন নিতে নিচের এই টিপসগুলো অনুসরণ করা যেতে পারে।

-সবসময় মেকআপ ও ময়লা ধুয়ে ফেলতে হবে। একটি মৃদু মেকআপ রিমুভার ও কটন বলের সাহায্যে চোখের মেকআপ ভালোভাবে তুলে ফেলতে হবে। এক্ষেত্রে তেল ভিত্তিক ক্লিনজার ব্যবহার করলে, এটি ল্যাশগুলোকে হাইড্রেটিং এবং ময়েশ্চারাইজ করার পাশাপাশি মেকআপ ও ময়লা সহজেই তুলে ফেলে। ময়লা ভালোভাবে না তুললে এগুলো জমে চোখের সংক্রমণ হতে পারে এবং এতে ল্যাশ ঝরে পড়ে যেতে পারে। তাই প্রতিদিন চোখ পরিষ্কার রাখতে হবে।

-একটি স্পুলি বা পরিষ্কার মাসকারা ব্রাশ দিয়ে হালকা হাতে উপরের দিকে স্ট্রোক দিয়ে ল্যাশ ব্রাশ করো। যদিও ব্যাপারটি ফানি মনে হলেও এর কিন্তু অনেক সুবিধা আছে। ল্যাশ ব্রাশ করার মাধ্যমে এর চুলকে জটমুক্ত করে, যা চোখের ল্যাশ সোজা হতে দেয়। আর এছাড়াও এতে কোন ময়লা আটকে থাকলে তাও দূর হয়।

-স্বাস্থ্যকর খাবার চোখের পাতার স্বাস্থ্যেও অবদান রাখতে পারে। ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড যেমন মাছ, শাকসবজি এবং অ্যাভোকাডো- যা চোখের পাপড়িকে পুরু এবং শক্তিশালী হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি দেয়।

-মাসকারার মোটা কোট এবং ভারী ল্যাশ এক্সটেনশন চুলের ফলিকলগুলোতে চাপ বাড়ায়, এতে ল্যাশের ক্ষতি হয়। ঘনঘন যদি মেকআপ করার অভ্যাস থাকে তবে এতে কিছুটা বিরতি দেয়া উচিৎ। চুলকানি, জ্বালাপোড়া চোখ এবং শুকনো চোখ হলে তবে চোখকে কিছুদিন মেকআপ থেকে দূরে রাখতে হবে। এছাড়াও, ঘন ঘন আইল্যাশ কার্লার এবং ফলস ল্যাশ ব্যবহারে চোখের পাতা দুররল হয়ে যায় এবং ঝরে পড়ে যায়।

ল্যাশ ঘন করার ঘরোয়া উপায়

আইল্যাশের যত্নের পাশাপাশি কিছু ঘরোয়া উপাদান আছে যা ব্যবহারে এটি ঘন ও দীর্ঘ হতে পারে। যেমন-

তেল

ভিটামিন ই, ক্যাস্টর অয়েল, অলিভ অয়েল এমনকি পেট্রোলিয়াম জেলির মতো তেল চোখের পাতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। যে কোন তেল নিয়ে এতে মাসকারার ব্রাশ ডুবিয়ে তা চোখের পাতায় ভালো করে লাগিয়ে নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, চোখের ভেতর যাতে তেল না ঢুকে যায়। এই তেল চোখের ফলিকলকে ময়েশ্চারাইজ করতে এবং বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

গ্রিন টি

ল্যাশ বৃদ্ধিতে এটি একটি চমৎকার উপায়। চিনি ছাড়া এক কাপ গ্রিন টি প্রস্তুত করে তাতে একটা তুলার বল ডুবিয়ে, সেই উষ্ণ তরলটি সোয়াইপ করে দিতে হবে। গ্রিন টি স্বাস্থ্যকর ল্যাশ বজায় রাখতে সহায়ক অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে পূর্ন এবং ক্যাফেইন এবং ফ্ল্যাভোনয়েড নতুন বৃদ্ধিকে উদ্দীপিত করে।

এলোভেরা

শুষ্ক, ভঙ্গুর ল্যাশ হাইড্রেট ও শক্তিশালী করার আরেকটি ডিআইওয়াই পদ্ধতি হলো অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করা। প্রশান্তিদায়ক এবং ময়েশ্চারাইজিং উভয়ই , অ্যালোভেরা কোলাজেনকে বাড়িয়ে তোলে, যা ল্যাশকে পুষ্ট করে। অ্যালোভেরা জেলে এলার্জি থাকলে এর পরিবর্তে পেট্রোলিয়াম জেলি প্রয়োগ করা যেতে পারে।

গ্রোথ সিরাম প্রয়োগ

পেপটাইড এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মতো চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে এমন পুষ্টি দিয়ে তৈরি, ল্যাশ সিরামগুলো বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে উদ্দীপিত করতে সাহায্য করে, যার ফলে স্বাস্থ্যকর, লম্বা চোখের পাতা হয়। আইল্যাশ গ্রোথ সিরাম প্রয়োগ করতে, ল্যাশ লাইন জুড়ে সিরামটি সোয়াইপ করো। তবে ব্যবহারের আগে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বা চোখের ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিলে ভালো হয়।

সাপ্লিমেন্টস গ্রহন

কোলাজেন এবং বায়োটিন উভয়ই চুল বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে। ল্যাশ পাতলা ও দূর্বল হলে, কোলাজেন বা বায়োটিন সম্পুরক গ্রহনের কথা বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে তোমার রুটিনে নতুন সম্পুরক যোগ করার আগে, ডাক্তারের সাথে পরামর্শ নেয়া উচিৎ।

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

15 + 18 =