নারী- বাংলা দুই অক্ষরের এই একটা শব্দের মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে অর্ধেক পৃথিবী, সভ্যতার আধখানা আকাশ।

করেছে Rodoshee

নারী- বাংলা দুই অক্ষরের এই একটা শব্দের মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে অর্ধেক পৃথিবী, সভ্যতার আধখানা আকাশ। সভ্যতার গোড়া থেকেই একেবারে আজকের দিন পর্যন্ত নারীর অস্তিত্ব অবহেলিত হয়েও উদ্্যাপিত হয়েছে, বঞ্চিত হয়েও স্বীকৃত হয়েছে। হয়তো সেই উদ্্যাপন, সেই স্বীকৃতির ধরন একটু আলাদা। হয়তো নিজের কথা বলার জন্য স্কুল থেকে ফেরার পথে গুলি খেতে হয়েছে ১৩ বছরের মালালাকে। আর্তের সেবা করবেন বলে প্রদীপ হাতে সারা রাত দাঁড়িয়ে থেকেছেন ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল। তিনিই হতে পেরেছিলেন ‘লেডি উইথ দ্য ল্যাম্প’। অন্ধের হৃদয়ে আলো জ্বালবেন বলেই নিজে অন্ধ-বধির হয়েও বিশ্বের ৩৯টি দেশ ঘুরে বেড়িয়ে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছেন হেলেন কেলার! এসব নারীর প্রতি কুর্নিশ জানিয়ে যেমন এবারের সংখ্যা, তেমনি চারপাশের খুব সাধারণ মেয়েদের নিত্যকার বেঁচে থাকাকে স্বাগত জানিয়েও এই সংখ্যা।

এই বিশেষ সংখ্যায় আমরা নারীর কয়েকটা মুখ, সামান্য কয়েকখানা অবয়ব তুলে ধরার চেষ্টা করলাম। তার একজন হলেন সাইদা খানম। দেশের প্রথম নারী আলোকচিত্রী। পরিচয়টা নিশ্চয় অনেক গৌরব বহন করে। সেই ১৯৪৯ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে যে মানুষটা আলোকচিত্রী হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন, সারা জীবন সংসারে বাঁধাধরা পথে পা না মাড়িয়ে সে কাজই করে গেছেন নিষ্ঠার সঙ্গে। সমাজ তাকে কটু কথা বলতে ছাড়েনি। তাই বলে দমে যাননি সাইদা খানম।

একালে, অর্থাৎ ফেসবুক, ট্ইুটার, ইউটিউবের যুগে কিছু নারী তাদের সৃজনশীলতার মাধ্যমে আলাদাভাবে পরিচিত হচ্ছেন। ইউটিউব চ্যানেল খুলে বিভিন্ন ভিডিওর মাধ্যমে যেমন নিজের কথাকে অন্যের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন, তেমনি পাচ্ছেন সেলিব্রেটি খ্যাতি। এসব নারীর সাফল্যগাথা দিয়ে সাজানো হয়েছে এই সংখ্যার প্রচ্ছদ প্রতিবেদন।
মোটকথা নারী তার মুঠো থেকে শেষ কুটোটুকু আলগা হয়ে যেতে দেয়নি কখনোই। ঠিক যখন গোটা দুনিয়া ধরে নিয়েছে নারীর পরাজয় নিশ্চিত, তখনই আবার উঠে দাঁড়িয়েছে আগুন থেকে, ফিনিক্স পাখির প্রবাদটাকে বারবার সত্যি করে দিতেই বোধ হয়। তবে নারী কখনো সাম্প্রদায়িক হয়ে ওঠেনি। কিন্তু একবারও কি ভেবে দেখেছে কেউ আমরা, নারীরা কতখানি অসাম্প্রদায়িক? কেউ কেউ হয়তো গায়ের জোরের কথা তুলে প্রসঙ্গটিকে ছোট করতে চাইবে। কিন্তু নারী কখনো রামদা হাতে তার শক্তির জানান দেয়নি। নারীর অস্ত্র সব সময় উৎপাদন-উন্নয়নের কথা বলেছে।

৮ মার্চ বিশ্বের প্রতিটি দেশে খুব শ্রদ্ধা আর আবেগের সঙ্গে পালিত হবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এবার পরিবর্তনের জন্য নারীকে সাহসী হয়ে ওঠার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ ‘বি বোল্ড ফর চেঞ্জ’। জীবনের সব কটা দিক সমানভাবে ছুঁতে পারে না কেউই। কিন্তু সব মিলিয়ে নিজের চাওয়া-পাওয়ার হিসাব মিলিয়ে চারপাশের সবাইকে সামলে রাখতে পারে যে নারী, ঘর থেকে সমাজ, রান্নাঘর থেকে বোর্ড মিটিংয়ে- নিজের অস্তিত্বকে সাবলীলভাবে বজায় রাখতে পারে যে নারী, সেই তো সাহসী। তার হাত ধরেই আসবে পরিবর্তন! সবার জন্য শুভকামনা।

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

13 − nine =