ভালোবাসার সম্পর্কে ঝগড়া: দূরত্ব বাড়ায়, নাকি কাছে আনে?

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

রাত প্রায় ১২টা। ঘরের আলো নিভানো। একই বেডে দুজন পাশাপাশি শুয়ে আছেন। অথচ কেউ কারও দিকে তাকাচ্ছেন না। কিছুক্ষণ আগেও সব স্বাভাবিক ছিল। তারপর হঠাৎ একটা ছোট্ট বিষয় নিয়ে শুরু হলো কথা কাটাকাটি। তারপর যা হয় আর কি! অভিযোগের ফুলঝুরি। কে ফোন করেনি, কে সময় দেয়নি, কে আগের কথাটা মনে রাখেনি; কথা বাড়তে বাড়তে পুরোনো সব  অভিযোগ। ফলাফল একজন চুপ, অন্যজনও মুখ ফিরিয়ে নিলেন। বাহিরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে, আরেকটি ঝগড়া, মানে সম্পর্কের মাঝে আরেকটি খারাপ রাত!


কিন্তু যদি বলি এই ঝগড়ার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে সম্পর্কটিকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসার একটি সুযোগ?


কথাটা হয়তো অদ্ভুত শোনাতে পারে। কারণ আমাদের কাছে সুখী দম্পতি মানে অলওয়েজ 'হাম সাথ সাথ হ্যায়'। অথচ সম্পর্ক বিষয়ক গবেষক জন গটম্যান ও জুলি গটম্যান বলছেন ভিন্ন কথা। তাঁদের মতে, বাস্তবতা এত সরল নয়। সুস্থ সম্পর্কেও ঝগড়া হয়, দ্বন্দ্ব থাকে; পার্থক্য তৈরি করে সেই দ্বন্দ্ব কিভাবে সামলানো হচ্ছে তার ধরনের উপর। 


ঝগড়া না হওয়াই কি সুখী সম্পর্কের লক্ষণ?


ভালো সম্পর্ক মানেই যেখানে কখনো ঝগড়া হয় না, এমন নয়। বরং মাঝে মাঝে সুস্থ মতামত বা ঝগড়া হওয়া স্বাভাবিক। একটি সম্পর্কে মতবিরোধ থাকবেই। দুজন মানুষ যত কাছেরই হোন, যত একে অপরের আপন হোন; তাঁদের ব্যক্তিত্ব, অভ্যাস, পছন্দ, প্রত্যাশা ও জীবনের স্বপ্ন এক হবে না। ফলে মতের অমিল হওয়া অস্বাভাবিক নয়। 


প্রাপ্ত গবেষণা অনুযায়ী দেখা যায় যে, অধিকাংশ সময়ে এই দাম্পত্য দ্বন্দ্বের সূচনা হয় এমন কিছু বিষয়কে নিয়ে, যা পুরোপুরি সমাধান হবার নয়। এই ধরনের সমস্যাকে বলা হয় চিরন্তন দ্বন্দ্ব, যা সম্পর্কের বিভিন্ন সময়ে আবারও ফিরে আসতে পারে।


দুজনের মাঝে একজন হয়তো চায় খুব হিসাব করে টাকা খরচ করতে, অন্যজন হয়তো বা জীবনকে একটু উপভোগ করতে চান। একজন হয়তো অনেক টকেটিভ, কথা বলতে, মিশতে পছন্দ করেন; অন্যজনের কাছে হয়তো কাজ শেষে কিছুটা নীরবতা থাকতে চাওয়া শ্রেয়। একজন সামাজিক, অন্যজন অন্তর্মুখী। একজন সন্তানকে কঠোর নিয়মের মাঝে বড় করতে চান, অন্যজন চান প্যারেন্টিং এর মাঝে কিছু স্বাধীনতা দিতে।


এসব পার্থক্য সবসময় মুছে ফেলা সম্ভব নয়। বরং এসব পার্থক্য থাকাটাই স্বাভাবিক। তাহলে এখন কি এতে সম্পর্কও ভেঙে যাবে?


গটম্যান গবেষণা এই জায়গায় বলছে, আসল বিষয় হলো এই অমিল বা সমস্যা থেকে পালিয়ে যাওয়া নয়, বরং দম্পতি কীভাবে তা সামলে নিবেন সেটিই হয়ে ওঠে গুরুত্বপূর্ণ। দ্বন্ধ কখনো কখনো সম্পর্কের মাঝে যোগাযোগ বা হৃদয়ের টান বাড়াতেও পারে, যদি সেটি এমনভাবে সামলানো হয়, যাতে দুজন পরস্পরকে বুঝতে পারেন।সমস্যা প্রতিবার জিতে যাওয়ার চেষ্টা করা নয়, বরং একে অপরের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার চেষ্টা করাই এখানে মূল বিষয়। 


'লাভ ল্যাব-এ প্রেমের পরীক্ষা


সব দম্পতির মধ্যেই ঝগড়া হয়, কিন্তু কেউ কেউ কীভাবে কেবল জেতার পরিবর্তে একে অপরকে বোঝার লক্ষ্যে ঝগড়া করেন? গটম্যান দম্পতি এই ধারণাগুলো নিয়েই কাজ করেন এবং এই ব্যাপারে এক আস্ত বইও লিখেছেন, "ফাইট রাইট: হাউ সাকসেসফুল কাপলস টার্ন কনফ্লিক্ট ইনটু কানেকশন"।


এই ধারণাগুলো বা গবেষণা একদিনেই হঠাৎ তৈরি হয়নি। হাজার হাজার দম্পতির ওপর গবেষণা ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে জুলি ও জন গটম্যান তুলে ধরেছেন যে, কীভাবে দ্বন্দ্ব সম্পর্ককে আরও গভীর করতে পারে কিংবা সম্পর্কের সমাপ্তির ইঙ্গিত দিতে পারে। 


বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত গটম্যান দম্পতি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ‘দ্য লাভ ল্যাব’ এবং দম্পতিদের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে তাঁদের গবেষণার একটি বড় অংশ সেখানেই পরিচালিত হয়েছিল। ১৯৮৬ সালে 'ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন'-এ শুরু হওয়া এই গবেষণায়, গবেষকেরা শুধু তাঁদের কথাবার্তা ভিডিও করেননি; একই সঙ্গে হার্ট রেইট, ব্লাড প্রেশার, শ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়া, মানসিক চাপজনিত শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়া; সহ বিভিন্ন শারীরিক পরিবর্তনও পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। তাদের বিখ্যাত “লাভ ল্যাব” গবেষণায় প্রায় ৩,০০০ দম্পতি অংশ নিয়েছিলেন। বছরের পর বছর ধরে হাজারো দম্পতির ওপর এই গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। কিছু দম্পতিকে বহু বছর ধরে ফলোআপেও রাখা হয়েছিল।  


গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল শুধু দম্পতিরা কী নিয়ে ঝগড়া করেন বা তাদের মাঝে সম্পর্ক কেমন- তা জানা নয়; বরং তাঁরা কীভাবে একে অপরের সঙ্গে কথা বলেন, মুখের অভিব্যক্তি কেমন হয়, উত্তেজনার মুহূর্তে তাঁদের শরীর কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং দ্বন্দ্বের পর তাঁরা কীভাবে আবার নিজেদের মাঝে সংযোগ তৈরি করেন—সেসব বোঝা। 


কারণ একটি সম্পর্কের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অনেক সময় ঝগড়ার বিষয়বস্তুতে নয়, বরং ঝগড়ার ধরন, আবেগের তীব্রতা এবং পরে তা রিকভার করার ক্ষমতার মধ্যে লুকিয়ে থাকে।


আসল সমস্যা অনেক সময় ঝগড়ার বিষয় নয়


অনেক দাম্পত্য ঝগড়া বাইরে থেকে দেখলে খুব ছোট বিষয় নিয়ে হয়—


কে বাসার কাজ করবে?


কেন ফোন করনি?


টাকা কোথায় খরচ হবে?


শ্বশুরবাড়ি/বাবার বাড়িতে কতটা সময় দেওয়া হবে?


সন্তানকে কীভাবে বড় করা হবে?


কিন্তু এর নিচে থাকতে পারে আরও গভীর প্রশ্ন।


ধরুন, একজন স্ত্রী বলছেন, "তুমি বাসার কাজে আমাকে কখনো সাহায্য করো না"। খালি চোখে দেখলে মনে হবে ঝগড়াটা হচ্ছে বাসার কাজ নিয়ে। কিন্তু এর ভেতরে হয়তো অন্য একটি কথা লুকিয়ে আছে-


“আমি কি এই সংসারে একা?”


আবার স্বামী যদি বলেন, “তুমি আমার সঙ্গে সময়ই কাটাও না।”


বিষয়টি শুনতে সময় দেওয়ার প্রশ্ন মনে হলেও এর ভেতরে থাকতে পারে—


“আমি কি এখনও তোমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ?”


অর্থাৎ অনেক সময় দম্পতিদের মাঝে যে বিষয় নিয়ে তর্ক হচ্ছে, সেটি আসল বিষয় নাও হতে পারে। তার নিচে চাপা থাকতে পারে আবেগ, প্রত্যাশা, নিরাপত্তার প্রয়োজন, সম্মান পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা কিংবা ভালোবাসা হারানোর ভয়। আর এই জায়গাটিকে বোঝা খুব গুরুত্বপূর্ণ।


যে চারটি আচরণ সম্পর্কের জন্য বিপজ্জনক


গবেষণায় সম্পর্ক ভাঙার পূর্বাভাস হিসেবে চারটি বড় আচরণকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যেগুলোকে রুপকভাবে "ফোর হর্সম্যান" বা "মহাপ্রলয়ের চার অশ্বারোহী" বলা হয়। 


সমালোচনা


কোনো নির্দিষ্ট কাজের পরিবর্তে সঙ্গীর ব্যক্তিত্ব বা চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা বা দোষারোপ করা। এটি কোনো বিষয় পর্যালোচনা করা বা অভিযোগ জানানোর থেকে ভিন্ন। অনেকটা ব্যক্তিগত আক্রমণ। এই সমালোচনা করার মাধ্যমে আপনি হয়তো তার সমগ্র সত্তাকেই ভেঙে ফেলছেন।

“আজ তুমি যে কাজটা করেছ, সেটা আমার খারাপ লেগেছে”—এর বদলে বলা, “তুমি এমনই, তোমার কোনো দায়িত্ববোধ নেই।”


অবজ্ঞা বা অবমূল্যায়ন 


সঙ্গীকে নিজের চেয়ে নিচু বা তুচ্ছ মনে করা। এটি এই চারটির মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক। এতে উপহাস, চোখে চোখ রেখে বিদ্রূপ করা (eye-rolling), কটূক্তি বা শ্লেষাত্মক কথা বলা বোঝায়। এতে অবজ্ঞার শিকার ব্যক্তি নিজেকে ঘৃণিত ও মূল্যহীন অনুভব করে। "তুমি একটা অপদার্থ, আমি তোমাকে বিয়েই বা কেন করেছিলাম"? এমন কথা এর অন্তর্ভুক্ত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়  হলো, অবজ্ঞাই বিবাহবিচ্ছেদের সবচেয়ে বড় কারণ হতে পারে। 


- আত্মপক্ষ সমর্থন 


এটি সাধারণত সমালোচনার একটি প্রতিক্রিয়া। নিজের ভুল স্বীকার না করে নিজেকে ভুক্তভোগী সাজানো বা পাল্টা আক্রমণ করা। দুর্ভাগ্যবশত, এই কৌশলটি প্রায় কখনোই সফল হয় না। আমাদের অজুহাতগুলো আমাদের সঙ্গীকে শুধু এটাই বোঝায় যে, আমরা তাদের উদ্বেগগুলোকে গুরুত্ব দিই না এবং নিজেদের ভুলের দায়ভার নেব না।


- নীরবতা অবলম্বন করা


এটি সাধারণত অবজ্ঞার প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা দেয়। আলোচনার সময় সঙ্গীর কথা পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়া, চলমান কথোপকথন থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ সরিয়ে নেওয়া, কোনো প্রতিক্রিয়া না দিয়ে চুপ থাকা বা ঘর ছেড়ে চলে যাওয়া।  এই ধরনের আচরণগুলো দ্বন্দ্বের সমাধান তো করেই না; বরং দুজনকে আরও আলাদা করে দিতে পারে।  



সফট স্টার্টআপ: ঝগড়া যখন সম্পর্ককে কাছে আনে


গটম্যানের গবেষণা অনুযায়ী, যেকোনো আলোচনার প্রথম ৩ মিনিট ঠিক করে দেয় সেই আলোচনার পরিণতি কী হবে। আলোচনা যদি শুরু হয় আক্রমণ বা দোষারোপ দিয়ে, তবে সঙ্গী ডিফেন্সিভ বা আত্মরক্ষামূলক হয়ে ওঠেন। যেসব দম্পতির মাঝে বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে, পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে যে, তাদের আলোচনাই শুরু হয়েছিল নেতিবাচক আবেগ নিয়ে। তারা শুধু একে অপরের প্রতি নেতিবাচকই ছিলেন না, বরং তারা একে অপরের সমালোচকও ছিলেন। এক্ষেত্রে, সফট স্টার্টআপ এই নেতিবাচক পরিস্থিতি এড়াতে দারুণ কাজ করে। 


গটম্যান এপ্রোচের আর একটি পরিচিত ধারণা হলো এই সফট স্টার্টআপ। অভিযোগের শুরুটাই যেন আক্রমণাত্মক না হয়। অর্থাৎ সফট স্টার্টআপ হলো সম্পর্কের মধ্যে কোনো কঠিন বা জটিল আলোচনা শুরু করার একটি বিশেষ পদ্ধতি, যা সম্পর্কের ক্ষতি না করে বা ঝগড়া তৈরি না করে মনের কথা প্রকাশ করতে সাহায্য করে। 


“তুমি কখনো আমার কথা শোনো না।”


এর পরিবর্তে যদি বলা হয়—


“তুমি যখন ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকো, তখন আমার মনে হয় তুমি হয়তো আমার কথায় মন দিচ্ছ না। এতে আমার খারাপ লাগে।”


দুটো বাক্যের ভেতরের অভিযোগ প্রায় একই। কিন্তু প্রথমটি অন্য ব্যক্তিকে আক্রমণাত্মক করে তুলতে পারে আর দ্বিতীয় বাক্যে আক্রমণের বদলে নিজের অনুভূতিটা সামনে আসে।


সঙ্গীর সাথে কোনো মতবিরোধের বিষয় উত্থাপন করার সময় নিজের অবস্থানকে নরম করার জন্য কিছু পরীক্ষিত কৌশল অবলম্বন করতে পারেন-


- সাধারণভাবে অভিযোগ করুন, কিন্তু দোষারোপ করবেন না। সঙ্গীর সাথে তর্কের সময় আপনি এমন কিছু ছোট ছোট কথা বলে ফেলতে পারেন যা তাদের সমালোচিত বা দোষী সাব্যস্ত বোধ করায়। চোখ উল্টানোর মতো শারীরিক অঙ্গভঙ্গি এই ধরনের অনিচ্ছাকৃত, ধ্বংসাত্মক আচরণের একটি নিখুঁত উদাহরণ। সুতরাং, সবকিছু নির্ভর করে আপনি কীভাবে বিষয়টি উত্থাপন করছেন তার উপর।


- "তুমি”-এর পরিবর্তে “আমি” দিয়ে বাক্য শুরু করুন। যখন আপনি আমি দিয়ে বাক্য শুরু করেন, তখন আপনার সমালোচনামূলক হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। "তুমি সবসময় এমন করো"


এটি না বলে বলতে পারেন-


"আমার এমন লাগছে"।


- যা ঘটছে তা বর্ণনা করুন, কিন্তু মূল্যায়ন বা বিচার করবেন না। অর্থাৎ, অন্যের চরিত্রের বিচার না করে কেবল নির্দিষ্ট সমস্যা বা ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরুন। সমস্যা জানানোর পাশাপাশি ইতিবাচকভাবে স্পষ্ট করুন যে আপনার ঠিক কী প্রয়োজন।


- আমাদের মাঝে অনেকেই এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছি: ক্লান্ত ও দিশেহারা হয়ে, মনে হয় যেন সমস্যার ঘূর্ণিপাকে ডুবে যাচ্ছি, আর একটার পর একটা সমস্যা এসে হাজির হচ্ছে। সে সময় দেখা যাচ্ছে নিজেদের আবেগ, অনুভূতি এবং প্রয়োজনগুলো চেপে রাখি। পরবর্তীতে কোন এক কথোপকথনের সময় আমরা হঠাৎ করেই সব সমস্যা উদগীরণ করে ফেলি, যা উত্থাপন করার কোনো ইচ্ছেই হয়তো আমাদের ছিল না। এই অনুভূতিগুলো চেপে রাখার কারণে আপনি হয়তো কিছুটা রেগেও যেতে পারেন। সাধারণত, এই ধরনের কথোপকথনে উঠে আসা সমস্যাগুলোর তালিকা আপনার সঙ্গীর কাছে ততটা প্রাসঙ্গিক বলে মনে হয় না। আবেগ এবং নেতিবাচক অনুভূতিতে আচ্ছন্ন থাকায়, উভয় পক্ষই কোনো সমাধানে পৌঁছাতে অক্ষম থাকে। 


এমতাবস্থায় এসব ব্যাপার এড়াতে সঙ্গীর সাথে কোনো সমস্যা উত্থাপন করতে দেরি করবেন না। যখনই কোনো উদ্বেগ বা প্রয়োজন দেখা দেয়, তখন একটি নরম সুরে তা প্রকাশ করলে আপনার দ্বন্দ্বের আলোচনা গুরুতর রূপ নেওয়া থেকে রক্ষা পাবে।


ঝগড়ার মাঝেও ভালোবাসার জায়গা থাকে


'লাভ ল্যাব’ গবেষণায় দেখা গেছে যে, একটি সুখী ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের জন্য দ্বন্দ্বে জড়ানোর সময়ও ইতিবাচকতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। 


একটি দ্বন্দ্ব বা ঝগড়ার সময় ৫:১ অনুপাত থাকা জরুরী। অর্থাৎ, প্রতি ১টি নেতিবাচক আচরণের বিপরীতে অন্তত ৫টি ইতিবাচক আচরণ থাকতে হবে। যদি কোনো দম্পতি এই ভারসাম্য বজায় রাখতে পারেন, তবে তাদের সম্পর্ক টিকে থাকার এবং সুখী হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।


এর মানে এই নয় যে দম্পতিকে বসে বসে গুনতে হবে, "আমি একটা রাগ করেছি, এখন পাঁচটা ভালো কথা বলতে হবে!”


বরং বিষয়টি হলো, ঝগড়ার মধ্যেও সম্পর্কের ইতিবাচক ভিত্তিটা যেন পুরোপুরি হারিয়ে না যায়। যে দম্পতিদের এই অনুপাত ৫:১ এর নিচে নেমে যায় (অর্থাৎ নেতিবাচকতা বেড়ে যায়), তাদের বিচ্ছেদের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।



কখন বিরতি নেওয়া দরকার?


 দ্বন্দ্ব যখন চরম পর্যায়ে চলে যায় তখন শরীরেও চাপের প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। হৃদস্পন্দন বেড়ে গেলে বা উত্তেজনা বেশি হলে তখন শান্তভাবে শোনা ও কথা বলা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই উত্তেজনা যখন খুব বেড়ে যায়, তখন কিছু সময়ের জন্য বিরতি নেওয়া ভালো।  তবে বিরতি আর নীরব থাকা এক নয়। “আমি এখন খুব উত্তেজিত। একটু শান্ত হয়ে পরে আবার কথা বলতে চাই”—এটি স্বাস্থ্যকর বিরতি। কিন্তু কিছু না বলে দিনের পর দিন এড়িয়ে যাওয়া হলো সম্পর্ক থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া।

একটিতে আছে ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি। অন্যটিতে আছে দূরে সরে যাওয়া।


শেষ পর্যন্ত একটি সম্পর্কে ঝগড়া হবে কি না, সেটি হয়তো দুজন মানুষের হাতে নেই। কারণ ভালোবাসার মানুষ দুজনও সবসময় একইভাবে ভাববেন না, একই জিনিস চাইবেন না। মতের অমিল থাকবে, অভিমান থাকবে, কখনো রাগও হবে। 


তাই পরেরবার কোনো ছোট্ট বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে ঝগড়া শুরু হলে, হয়তো একটু থামা যায়। কারণ সম্পর্কের মানুষটি আপনার প্রতিপক্ষ নন, পাশাপাশি হেঁটে চলার, নির্ভয়ে কাঁধে মাথা ঠেকানোর সাথীও বটে। 

sidebar ad