প্রেমের এত নাম! আধুনিক সম্পর্কের নতুন অভিধান

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬

ছবি: এআই/রোদসী
ছবি: এআই/রোদসী

টম হ্যানসেন, একজন প্রশিক্ষিত স্থপতি যিনি একটি গ্রিটিং কার্ড কোম্পানিতে লেখক হিসেবে কাজ করেন। একদিন অফিসে নতুন সেক্রেটারি হিসেবে যোগ দেয় সামার ফিন। প্রথম দেখাতেই তার প্রেমে পড়ে যান টম। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে এখানেই। সামার ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর। টম যেখানে সম্পর্কের মধ্যে ভালোবাসা ও নিশ্চয়তা খোঁজে, সামার সেখানে নির্দিষ্ট কোনো সম্পর্কের পরিচয়ের বাঁধনে নিজেকে বাঁধতে চায় না। 


সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। একে অপরের কাছে আসেন তাঁরা। তবে সামারের দেয়া শর্ত থাকে একটাই, তারা কোনো সিরিয়াস সম্পর্কে নিজেদের জড়াবে না, কারণ সে কোনো সম্পর্কে বা কাউকে ভালোবাসার বাঁধনে বিশ্বাস করে না। টম মনে কষ্ট পেলেও সামারকে হারানোর ভয়ে তার এই শর্ত মেনে নেয়। কিন্তু এক পর্যায়ে এসে টম "স্রেফ বন্ধু" পরিচয়ের আড়ালে থাকা সম্পর্ক নিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং সে তাদের সম্পর্কের একটি প্রাতিষ্ঠানিক নাম চায়। তাদের একে অপরের প্রতি আবেগ আছে, একসঙ্গে কাটানো মুহূর্ত আছে; শুধু নেই সম্পর্কটির কোনো স্পষ্ট পরিচয়।  আর এরই জের ধরে সে সামারের কাছে জানতে চায়, তাঁদের সম্পর্কটা আসলে কী? তাঁরা কি শুধুই বন্ধু, নাকি এর চেয়েও বেশি কিছু? 


সিনেমার এই গল্পটি এক দশকেরও বেশি পুরোনো। অথচ টমের করা এই প্রশ্ন যেন আজকের সময়েই আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। বর্তমান সময়ে সম্পর্কের ধরন, প্রতিশ্রুতি নিয়ে দ্বিধা, আবেগের টানাপোড়েন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব— সবকিছু নিয়েই চলে এক ধোঁয়াশাভাব। সম্পর্ক আছে, আবেগ আছে, নিয়মিত কথাও হচ্ছে; কিন্তু সম্পর্কটির পরিচয় কী, দুজনের প্রত্যাশা একই কি না—সেই প্রশ্নের উত্তরই অনেক সময় অস্পষ্ট।


আগে যেখানে সম্পর্ককে সহজভাবে প্রেম, বন্ধুত্ব বা বিয়ের মতো পরিচয়ে বোঝানো হতো, কিন্তু এখনকার সম্পর্কের জগতে ঢুঁ মারলে মনে হতে পারে, প্রেমের জন্য বুঝি নতুন অভিধান খুলতে হবে! এখন সেখানে এসেছে নানান নাম, নানান সংজ্ঞা। একেকটি শব্দের পেছনে লুকিয়ে আছে একেক ধরনের সম্পর্ক, প্রত্যাশা, আচরণ কিংবা আবেগের গল্প। তবে মনে রাখা জরুরি যে, সম্পর্কের ধরন বুঝতে এগুলো সাহায্য করলেও এসব  শব্দ অভিধানস্বীকৃত বা মনোবিজ্ঞানের আনুষ্ঠানিক পরিভাষা নয়।



সম্পর্কের পরিচয় যখন অস্পষ্ট!


টকিং স্টেজ (Talking Stage):


প্রেম শুরু হওয়ার আগের পরিচয়-পর্ব। দুজন নিয়মিত কথা বলছেন, একে অন্যকে জানছেন, পছন্দ-অপছন্দ বোঝার চেষ্টা করছেন। এটি মূলত বন্ধুত্বের চেয়ে বেশি কিন্তু প্রতিজ্ঞাবদ্ধ সম্পর্কের চেয়ে কম। অর্থাৎ, প্রেমের সম্ভাবনা আছে, তবে সম্পর্কের পরিচয় এখনো চূড়ান্ত নয়। এই পর্যায় স্বাভাবিকভাবেই সুন্দর হতে পারে। সমস্যা দেখা দেয় তখনই, যখন দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা সম্পর্ককে একজন পরবর্তী ধাপে নিতে চান, আর অন্যজন দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তা বজায় রাখেন।


সিচুয়েশনশিপ (Situationship):


আধুনিক সম্পর্কের আলোচনায় বহুল ব্যবহৃত একটি শব্দ। দুজনের মধ্যে প্রেমের মতো ঘনিষ্ঠতা আছে, নিয়মিত যোগাযোগ হয়, একসঙ্গে সময় কাটানো হয়, কিন্তু সম্পর্কটির সংজ্ঞা কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিষ্কার বোঝাপড়া নেই। এক কথায়, সম্পর্কের মতো সবকিছু আছে, কিন্তু কোন কমিটমেন্ট থাকেনা। 


মেবি-রিলেশনশিপ (Maybe-relationship):


নাম শুনেই বোঝা যায়, এখানে রয়েছে ‘হয়তো’। যা মূলত জেন-জি (Gen Z) প্রজন্মের ডেটিং কালচারে উঠে আসা একটি অনিশ্চিত সম্পর্কের ধরন। দুজনের মধ্যে ভালো লাগা বা আবেগ থাকলেও, সম্পর্কটি প্রেমের নাকি বন্ধুত্বের—তার কোনো নির্দিষ্ট নাম বা স্বীকৃতি থাকে না। হয়তো সম্পর্কটি প্রেমে গড়াবে, হয়তো গড়াবে না। দুজনের মধ্যে আকর্ষণ ও ঘনিষ্ঠতা থাকলেও তাঁরা কেউই নিশ্চিত নন, সম্পর্কটি কোন দিকে এগোবে।


অনেক ক্ষেত্রে এটি সিচুয়েশনশিপ-এর কাছাকাছি অর্থে ব্যবহৃত হয়। মূল বিষয় হলো অনিশ্চয়তা; সম্পর্কটি শুরু হয়েছে কি না, শুরু হলে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা নিয়ে দুজনেরই সংশয় থাকতে পারে।



বন্ধুত্বের চেয়ে বেশি, প্রেমের চেয়ে কম?


ফ্রেন্ডস উইথ বেনিফিটস (Friends with Benefits বা FWB):


ফ্রেন্ডস উইথ বেনিফিটস! অর্থাৎ দাবিদাওয়াহীন, মু্ক্ত সম্পর্ক। অনেকটা ওপেন রিলেশনশিপের মতো। দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব আছে, পাশাপাশি শারীরিক ঘনিষ্ঠতাও থাকতে পারে; কিন্তু তাঁরা প্রচলিত অর্থে প্রেমের সম্পর্ক বা দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতিতে আবদ্ধ নন। 


এখানে দুজনের সম্মতি, প্রত্যাশা ও সীমারেখা গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু সম্পর্কটা পুরোপুরি শর্তহীন, তাই সেখানে একবার শর্ত বা প্রত্যাশা ঢুকে পড়লেই বিরাট গোলমাল বেধে যেতে পারে। তাই কোনওরকম প্রত্যাশা বা দাবিদাওয়া ঢুকতে না দেওয়াটাই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।


ক্যাজুয়াল ডেটিং (Casual Dating):


কাউকে পছন্দ করে দেখা করা, একসঙ্গে সময় কাটানো কিংবা পরস্পরকে জানার চেষ্টা করা—কিন্তু শুরু থেকেই বিয়ে বা দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের প্রতিশ্রুতি না থাকা। এটিকে ক্যাজুয়াল ডেটিং বলা হয়।


যারা বর্তমানে ক্যরিয়ার বা পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত এবং সম্পর্কের পেছনে বেশি সময় দিতে পারছেন না, যারা কোনো দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক বা ব্রেকআপের পর কিছুটা বিরতি চান কিংবা যারা কেবল নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হতে ও সামাজিকতা বজায় রাখতে ভালোবাসেন- তাদের কাছে এটি বেশ পছন্দনীয়। 


ডেলুশনশিপ (Delusionship):


এবার একটু অন্য রকম সম্পর্কের কথা বলি। ডেলুশনশিপ (Delusionship) হলো একটি আধুনিক শব্দ যা মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (যেমন টিকটক) ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এটি ইংরেজি শব্দ "Delusion" (বিভ্রম বা অবাস্তব কল্পনা) এবং "Relationship" (সম্পর্ক) এর সমন্বয়ে গঠিত।


সহজ কথায়, কারো সাথে বাস্তবে কোনো প্রেমের সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও মনের মধ্যে তার সাথে গভীর সম্পর্কের অবাস্তব রূপকথা বা কল্পনা তৈরি করাকে ডেলুশনশিপ বলে। 

ধরা যাক, কেউ একজনের প্রতিটি পোস্টে প্রতিক্রিয়া দেখেন, ছোটখাটো আচরণের মধ্যে বিশেষ ইঙ্গিত খোঁজেন, এমনকি মনে মনে ভবিষ্যতের সম্পর্কও কল্পনা করেন। অথচ অপর ব্যক্তি তাঁকে বন্ধুর বাইরে অন্যভাবে ভাবছেন, এমন প্রমাণ নেই।



হঠাৎ উধাও, আবার ফিরে আসা!


ঘোস্টিং (Ghosting):


সম্পর্কের ক্ষেত্রে ঘোস্টিং (Ghosting) বলতে কোনো ধরনের পূর্বাবাস, স্পষ্ট কারণ বা যোগাযোগ ছাড়াই হুট করে সঙ্গী বা পরিচিত কোনো ব্যক্তির জীবন থেকে পুরোপুরি হারিয়ে যাওয়াকে বোঝায়। এটি আধুনিক ডেটিং এবং সম্পর্কের জগতে একটি অত্যন্ত পরিচিত কিন্তু বেদনাদায়ক এক প্রবণতা। মেসেজের উত্তর নেই, ফোন ধরা হচ্ছে না, দেখা করার পরিকল্পনাও নেই—অথচ কী ঘটেছে, তার কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না।


কখনো মানুষ সম্পর্কের ইতি টানার ক্ষেত্রে জটিল পরিস্থিতি এড়াতে, কোনো ব্যক্তির প্রতি হুট করে আকর্ষণ বা আগ্রহ কমে গেলে নীরবে সরে যান। তবে ব্যস্ততা, অসুস্থতা বা নিরাপত্তাজনিত কারণে যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার ঘটনাকে ঘোস্টিং বলা যায় না। ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যাখ্যাহীনভাবে যোগাযোগ ছিন্ন করার আচরণটিই এখানে মূল বিষয়।


স্লো ফেড (Slow Fade):


স্লো ফেড (Slow Fade) হলো আধুনিক ডেটিং এবং সম্পর্কের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত একটি বহুল পরিচিত শব্দ, যার অর্থ কোনো সরাসরি ব্রেকআপ বা আলোচনা ছাড়াই ধীরে ধীরে যোগাযোগ এবং মানসিক দূরত্ব বাড়িয়ে একসময় সম্পর্কটি পুরোপুরি শেষ করে দেওয়া। এটিকে সম্পর্কের একটি "নীরব বিদায়" বলা যায়, যেখানে একজন সঙ্গী হুট করে উধাও (Ghosting) না হয়ে, ধাপে ধাপে নিজের উপস্থিতি কমিয়ে নেয়। 


আগে নিয়মিত কথা হতো, এখন উত্তর আসতে দেরি হয়। কথোপকথন ছোট হয়ে আসে, দেখা করার আগ্রহ কমে যায়। একসময় যোগাযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে অন্য ব্যক্তি বুঝতে পারেন না, সম্পর্কটি শেষ হচ্ছে, নাকি সাময়িক দূরত্ব তৈরি হয়েছে।


জম্বিইং (Zombieing):


জম্বিইং (Zombieing) হলো আধুনিক ডেটিং বা সম্পর্কের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত আরেকটি প্রচলিত শব্দ, যা মূলত 'ঘোস্টিং (Ghosting)'-এর পরবর্তী ধাপ। সহজ কথায়, কোনো ব্যক্তি যখন আপনার সাথে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়ে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই হঠাৎ হারিয়ে যায় (যাকে ঘোস্টিং বলে), এবং দীর্ঘদিন পর হঠাৎ করে আবার অলৌকিকভাবে আপনার জীবনে ফিরে আসে—যেন কিছুই হয়নি—তখন তাকে 'জম্বিইং' বলা হয়। 


তবে ফিরে আসা মানেই যে ব্যক্তি আবার সম্পর্ক চান, এমন নয়। তাঁর উদ্দেশ্য জানতে হলে কথার চেয়ে ধারাবাহিক আচরণ ও স্পষ্ট যোগাযোগের দিকে নজর দিতে হবে।


অরবিটিং (Orbiting):


সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ, কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ব্যক্তির উপস্থিতি রয়ে গেছে। আপনার স্টোরি নিয়মিত দেখা, পোস্টে লাইক দেওয়া কিংবা অনলাইনে আপনার কার্যকলাপ অনুসরণ করা, কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে কথা না বলা- এই আচরণকে অরবিটিং বলা হয়। যেন মানুষটি আপনার জীবনের কক্ষপথে ঘুরছেন, কিন্তু কাছে আসছেন না।


কেন এমন করেন? কৌতূহল, অভ্যাস কিংবা অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে। শুধু স্টোরি দেখা বা লাইক দেওয়ার ভিত্তিতে তাঁর উদ্দেশ্য নিশ্চিতভাবে জানা সম্ভব নয়।


হন্টিং (Haunting):


সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘হন্টিং’ (Haunting) হলো এমন একটি পরিস্থিতি যেখানে একজন প্রাক্তন সঙ্গী (Ex) সরাসরি কোনো যোগাযোগ না করেও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আপনার জীবনের ওপর নজর রাখে বা নিজের উপস্থিতি জানান দেয়। সহজ কথায়, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর তারা আপনাকে কোনো মেসেজ বা কল করবে না, কিন্তু আপনার সোশ্যাল মিডিয়া স্টোরি দেখবে, ছবিতে লাইক দেবে বা রিঅ্যাক্ট করবে। 


একে অনেক সময় "ডিজিটাল হন্টিং" বা "সোশ্যাল মিডিয়া হন্টিং"-ও বলা হয়। ভূত যেমন অদৃশ্য থেকে নিজের উপস্থিতি জানান দেয়, এখানে প্রাক্তন সঙ্গীও ঠিক তেমনি নীরব থেকে আপনাকে তার কথা মনে করিয়ে দেয়। 


এগুলো ছাড়াও সম্পর্কের আড়ালে লুকানো আরও কিছু টার্ম রয়েছে। যেমন লাভ বম্বিং (Love Bombing), ব্রেডক্রাম্বিং (Breadcrumbing), ক্যাটফিশিং (Catfishing), সফট লঞ্চ (Soft Launch), মাইক্রো-চিটিং (Micro-cheating) ইত্যাদি। 



সম্পর্কের এত নাম কেন?


আধুনিক সম্পর্কের এই অভিধান দেখলে মনে হতে পারে, মানুষের ভালোবাসার ধরন বুঝি আগের চেয়ে অনেক বেশি জটিল হয়ে গেছে। বাস্তবতা হলো, অনিশ্চয়তা, একতরফা ভালোবাসা, প্রতিশ্রুতির ভয় কিংবা সম্পর্ক থেকে নীরবে সরে যাওয়ার প্রবণতা নতুন কোন বিষয় নয়। এসব প্রবণতা আগেও ছিল। নতুন যোগ হয়েছে সেগুলো নিয়ে কথা বলার ভাষা বা ধরনের। 


আগেকার দিনে সম্পর্ক ছিল খুব সহজ। হয় কেউ সম্পর্কে আছে, না হয় নেই। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া এবং ডেটিং অ্যাপস আসার পর সম্পর্কের মাঝে অনেকগুলো "ধূসর এলাকা" তৈরি হয়েছে। যেমন: কেউ আপনার সাথে ডেটে যাচ্ছে কিন্তু কোনো অফিশিয়াল ট্যাগ চাচ্ছে না (সিচুয়েশনশিপ), আবার কেউ সম্পর্ক ভেঙেও আপনার ইনস্টাগ্রাম স্টোরি দেখছে (অরবিটিং)। এই ডিজিটাল আচরণগুলো কিন্তু আগে ছিল না, তাই এগুলো বোঝাতে নতুন শব্দের প্রয়োজন হচ্ছে।


আরেকটি কারণ হতে পারে কমিটমেন্ট বা দায়বদ্ধতার ভয়। আধুনিক প্রজন্মের মাঝে একটি বড় সমস্যা হলো "আরও ভালো কাউকে পাওয়ার আশা" (Fear of Missing Out)। মানুষ এখন সহজে কোনো একটা সম্পর্কে পাকাপাকিভাবে জড়াতে ভয় পায়, কারণ তাদের কাছে অপশন অনেক বেশি। এই দায়বদ্ধতা এড়ানোর মানসিকতা থেকেই জন্ম নেয় মেবিরিলেশনশিপ বা সিচুয়েশনশিপ—যেখানে সুবিধা সব নেওয়া হবে, কিন্তু কোনো দায়িত্ব বা স্বীকৃতি দেওয়া হবে না। সম্পর্কের ক্ষেত্রে মানুষের আচরণ যখন বদলে যায়, তখন সেই আচরণকে সংজ্ঞায়িত করার জন্য ভাষারও বদল ঘটে।


 আবার সম্পর্কের প্রতিটি পর্যায়কে আলাদা নামে চিহ্নিত করার কিছু সুবিধাও আছে। নিজের অভিজ্ঞতা বোঝানো সহজ হয়, অন্যের সঙ্গে আলোচনা করা যায় এবং কোন আচরণে অস্বস্তি তৈরি হচ্ছে, সেটি শনাক্ত করা যায়। তবে কোনো একটি আচরণের সঙ্গে একটি লেবেল মিলে গেলেই কাউকে স্বার্থপর, প্রতারক কিংবা মানসিকভাবে অসুস্থ বলে ধরে নেওয়া যায় না।


প্রেমের নতুন অভিধানে শব্দের অভাব নেই। কিন্তু একটি সুস্থ সম্পর্কের জন্য শব্দের চেয়েও বেশি প্রয়োজন সততা, পারস্পরিক সম্মান, সম্মতি, সীমারেখার প্রতি শ্রদ্ধা এবং খোলামেলা যোগাযোগ। নাম নয়, সম্পর্কের স্বচ্ছতাই আসল। সম্পর্কের নাম যত আধুনিকই হোক, মানুষের আবেগ কিন্তু এখনো পুরোনো সেই জায়গাতেই—ভালো লাগা, ভালোবাসা, প্রত্যাশা, অভিমান আর আপন হয়ে ওঠার আকাঙ্ক্ষায়। শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা তাই শুধু ‘আমাদের সম্পর্কের নাম কী?’ নয়; বরং ‘আমরা কি দুজন একই সম্পর্ক চাই?’

sidebar ad