সবাইকে সময় দিলেন, এবার নিজের জন্য ৩০ মিনিট রাখুন


ছবি: এআই/রোদসী
ছবি: এআই/রোদসী

সকাল থেকে রাত—পরিবার, অফিস, সন্তান, ঘরের কাজ কিংবা প্রিয় মানুষের প্রয়োজন মেটাতে দিন কেটে যায়। কে কী খেল, কার কী লাগবে, কোন কাজটা বাকি—সবকিছুর হিসাব রাখতে রাখতে নিজের কথা ভাবার সময়ই যেন আর হয়ে ওঠে না। বিশেষ করে অনেক নারীর জীবনে নিজের জন্য সময় বের করাটা রীতিমতো বিলাসিতা।


কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, সবার যত্ন নিতে গিয়ে নিজের যত্নটাই সবচেয়ে বেশি অবহেলা করছেন না তো?


দিনের মাত্র ৩০ মিনিট রাখুন নিজের জন্য। এই সময়টুকুতে কাউকে কিছু বুঝিয়ে বলতে হবে না, কোনো কাজ শেষ করার তাড়াও থাকবে না। সময়টা শুধুই আপনার।


৩০ মিনিটে কী করবেন?


১০ মিনিট—নিজের সঙ্গে থাকুন। ফোনটা একপাশে রেখে চুপচাপ বসুন, বারান্দায় দাঁড়িয়ে আকাশ দেখুন কিংবা এক কাপ চা নিয়ে নিজের ভাবনাগুলো গুছিয়ে নিন।


১০ মিনিট—পছন্দের কিছু করুন। বই পড়ুন, গান শুনুন, গাছের যত্ন নিন, ডায়েরি লিখুন কিংবা প্রিয় কোনো শখে সময় দিন। কাজটি কতটা উৎপাদনশীল, তার হিসাব রাখার দরকার নেই। ভালো লাগাটাই যথেষ্ট।


১০ মিনিট—শরীর ও মনের যত্ন নিন। হালকা হাঁটাহাঁটি, সহজ কিছু স্ট্রেচিং, ধীর শ্বাস নেওয়া কিংবা চোখ বন্ধ করে বিশ্রাম—যেটি আপনার ভালো লাগে, সেটিই বেছে নিন।


নিজের জন্য সময় চাওয়া কি স্বার্থপরতা?


একেবারেই নয়। পরিবারের যত্ন নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু নিজের প্রয়োজনকে সব সময় পিছিয়ে রাখাও সমাধান নয়। নিজের জন্য সময় চাওয়া মানে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া নয়; বরং নিজের ভালো থাকাকেও গুরুত্ব দেওয়া।


প্রতিদিন ৩০ মিনিট পাওয়া সম্ভব না হলে সপ্তাহে কয়েক দিন দিয়ে শুরু করুন। পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কাজ ভাগ করে নিন। প্রয়োজন হলে স্পষ্ট করে বলুন, এই সময়টুকু আপনার বিশ্রামের জন্য।


মনে রাখবেন, নিজের যত্ন নিতে সব কাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না। কারণ কাজের তালিকা কখনোই পুরোপুরি শেষ হয় না।


সবাইকে সময় দিতে গিয়ে নিজেকে ভুলে যাবেন না। প্রতিদিনের ব্যস্ততায় অন্তত ৩০ মিনিট হোক শুধু আপনার—কোনো অপরাধবোধ নয়, কোনো ব্যাখ্যা নয়; শুধু নিজের মতো করে বাঁচার একটু সময়।

sidebar ad