কাজী লাবণ্য
এটি মূলত ২৪ সালে যখন দেশের বাইরে ছিলাম তখন লেখা হয়েছে। সাধারণত কিছু দৃশ্য দূর থেকে পরিষ্কার দেখা যায়। যেমন আয়নার গায়ে মুখ লাগিয়ে মুখ দেখা যায় না। দেশের বাইরে গেলে দেশকে খুব ভালোভাবে দেখা যায়। আখ্যানের প্রয়োজনেই চরিত্র সৃষ্টি হয়। একটি ছোট্ট চরিত্রও এমনি এমনি সৃষ্টি করা হয় না।
কোনো ব্যক্তি বা পেশাকে ছোট করার জন্য এই কাহিনি লিখিনি। একজন লেখকের কাজ সমাজকে পর্যবেক্ষণ করা, সেই সমাজের আলো-অন্ধকারের গায়ে আলো ফেলা এবং তা সাহিত্যের ভাষায় তুলে ধরা। এ আখ্যানের প্রধান চরিত্র ময়না। এই লড়াকু ময়নাকে আমি দেখেছি। কোথায় দেখেছি তা বলতে পারব না তবে দেখেছি এটি সত্য। আমাদের চারপাশে, আমাদের সাহিত্যিকদের কলমে দেখেছি। ময়নারা প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে, সংসার করে, সন্তান বড় করে, স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখে। একদিকে আছেন গ্রামের এই লড়াকু নারীরা, যারা হাড়ভাঙা পরিশ্রম, উপোষ, নুন-তেলের সূক্ষ্ম হিসেব, ত্যাগ আর তিতিক্ষায় সময়কে এগিয়ে নেয়। তাদের ঘামের দাম দেবার কথা স্বয়ং ঈশ্বরও ভুলে যান!
অন্যদিকে দেশের জনসংসংখ্যার উল্লেখযোগ্য মানুষ নেমেছে আজ ধর্ম ব্যবসায়। আছে এমন কিছু ধর্মীয় লেবাসধারী চরিত্র, যারা ধর্মের আদর্শিক শিক্ষা থেকে বিচ্যুত হয়ে অলসতা, কর্মবিমুখতা কিংবা সামাজিক দায়িত্বহীনতার প্রতীক হয়ে ওঠেছে। তাদেরকে প্রশ্ন করুন ‘বুকে হাত দিয়ে বলুনতো আপনি কি নিজের আহার নিজে কামাই করে উদরপূর্তি করেন?’ এইন প্রশ্নের উত্তর তাদের জানা নেই।
মানুষকে তার পরিচয়ে নয়, তার কর্মে বিচার করার বিশ্বাস থেকেই এই আখ্যানের জন্ম। এখানে যেমন সংগ্রামী মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা আছে, তেমনি ভন্ডামি, শোষণ, ও কর্মবিমুখতার কঠোর সমালোচনাও আছে। কেবলমাত্র ধর্মীয় পরিচয় ধারণ করলেই সৎ, জ্ঞানী, আলেম বা মানবিক মানুষ হওয়া যায় না।
সকলেই আলেম কিংবা বক্তা হলে মাঠে, ঘাটে, শ্রমিক হবে কারা? সাহিত্য কোনো প্রচারপত্র নয়, সাহিত্য প্রশ্ন তোলে, অস্বস্তি তৈরি করে,
আত্মসমালোচনার সুযোগ সৃষ্টি করে। সেই বিশ্বাস থেকেই এই কাহিনীর উৎপত্তি।