ডেঙ্গু জ্বর কমে গেলেই কি শরীর থেকে ডেঙ্গুর জীবাণু চলে যায়? অনেকেই মনে করেন, জ্বর সেরে গেলেই ডেঙ্গু পুরোপুরি ভালো হয়ে যায়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, জ্বর কমে যাওয়ার পরও কিছু রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে পারে। তাই সুস্থ হওয়ার লক্ষণগুলো জানা জরুরি।
ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার লক্ষণগুলো কী কী?
১. জ্বর আর ফিরে আসছে না: শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসা সুস্থতার একটি লক্ষণ। তবে শুধু জ্বর চলে যাওয়াই সম্পূর্ণ সুস্থতার প্রমাণ নয়।
২. শরীরের দুর্বলতা কমছে: ধীরে ধীরে ক্লান্তি, মাথাব্যথা ও শরীরব্যথা কমে আসা ভালো লক্ষণ।
৩. খাওয়ার রুচি ফিরছে: খাবারে আগ্রহ বাড়া এবং স্বাভাবিকভাবে খেতে পারা সুস্থতার ইঙ্গিত দিতে পারে।
৪. প্রস্রাব স্বাভাবিক হচ্ছে: নিয়মিত প্রস্রাব হওয়া এবং শরীরে পানিশূন্যতার লক্ষণ না থাকা ইতিবাচক লক্ষণ।
৫. রক্তের পরীক্ষার ফল উন্নত হচ্ছে: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী করা রক্ত পরীক্ষায় প্লেটলেট ও হেমাটোক্রিটের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা হয়। তবে শুধু প্লেটলেটের সংখ্যা দেখেই ডেঙ্গু সেরে গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায় না।
ডেঙ্গুর জীবাণু শরীরে নেই, তা নিশ্চিত হবেন কীভাবে?
ডেঙ্গু ভাইরাস শরীর থেকে নির্মূল হয়েছে কি না, তা শুধু উপসর্গ দেখে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। আবার সব রোগীর ক্ষেত্রে বারবার ডেঙ্গু পরীক্ষা করাও প্রয়োজন হয় না।
ডেঙ্গু শনাক্ত করার জন্য NS1 অ্যান্টিজেন, PCR বা অ্যান্টিবডি পরীক্ষা ব্যবহৃত হতে পারে। রোগের কোন পর্যায়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে, তার ওপর ফলাফলের অর্থ নির্ভর করে। তাই পরীক্ষার ফল চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বুঝতে হবে।
জ্বর কমার পরও যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন-
তীব্র পেটব্যথা
বারবার বমি হওয়া
নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্তপাত
শ্বাসকষ্ট
অতিরিক্ত দুর্বলতা, অস্থিরতা বা অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব
হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া বা প্রস্রাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া
এগুলোর কোনোটি দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যান। জ্বর কমে যাওয়ার পরবর্তী ২৪–৪৮ ঘণ্টায় বিশেষ সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হওয়ার বিষয়টি শুধু জ্বর বা প্লেটলেটের সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না। রোগীর সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা, পানিশূন্যতা, রক্তচাপ এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ফল বিবেচনা করে চিকিৎসক সুস্থতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন।
তথ্যসূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)