নিজেকে ভালো রাখার ৯ সূত্র

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মানুষের সবচেয়ে নিবিড় সম্পর্ ক থাকে নিজের সঙ্গে। নিজে ভালো না থাকলে, পৃথিবীর কোনো কিছুই আর ভালো লাগে না। পরিবারের প্রয়োজন, কর্মক্ষেত্রের দায়িত্ব, সামাজিক যোগাযোগ—সবকিছুর ভিড়ে নিজের জন্য আলাদা করে সময় রাখার কথা অনেকেই ভুলে যান। অথচ ভালো থাকার জন্য সব সময় বড় কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। প্রতিদিনের ব্যস্ততার মাঝেই কিছু ছোট অভ্যাস নিজের শরীর ও মনকে অনেকটাই ভালো রাখতে পারে। নিজের যত্ন মানে দামি কোনো আয়োজন নয়। বরং নিজের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া, একটু বিশ্রাম নেওয়া, পছন্দের কাজ করা কিংবা প্রিয় মানুষের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোও হতে পারে আত্মযত্নের অংশ।


পর্যাপ্ত পানি পান করুন


অনেকেই ব্যস্ততার কারণে দিনের মধ্যে ঠিকমতো পানি পান করতে ভুলে যান। শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ঠিক রাখতে পর্যাপ্ত পানি প্রয়োজন। তাই কাজের ফাঁকে ফাঁকে পানি পান করার অভ্যাস করুন। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর, বাইরে যাওয়ার আগে কিংবা ডেস্কে কাজ করার সময় পাশে পানির বোতল রাখতে পারেন।


কৃতজ্ঞতার তালিকা লিখুন


প্রতিদিনের জীবনে কী নেই, সেদিকে আমাদের মন সহজেই চলে যায়। তার বদলে জীবনে কী কী ভালো আছে, তা মনে করার অভ্যাস মানসিকভাবে ইতিবাচক থাকতে সাহায্য করতে পারে। রাতে ঘুমানোর আগে এমন তিনটি বিষয় লিখে রাখতে পারেন, যেগুলোর জন্য আপনি কৃতজ্ঞ—হতে পারে পরিবারের ভালোবাসা, বন্ধুর সহযোগিতা, একটি সুন্দর দিন কিংবা নিজের কোনো ছোট অর্জন।


ঘুমকে গুরুত্ব দিন


ঘুমকে অনেক সময় কাজের তুলনায় কম গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়। অথচ পর্যাপ্ত বিশ্রাম ছাড়া শরীর ও মন দুটিই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর চেষ্টা করুন। ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় ফোন বা অন্যান্য স্ক্রিনে ব্যস্ত না থেকে নিজেকে ধীরে ধীরে বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত করাও ভালো অভ্যাস।


পছন্দের কাজে সময় দিন


দিনের সব কাজ শেষ হওয়ার পর যদি নিজের জন্য সময় থাকে—এমনটা সব সময় হয় না। তাই নিজের পছন্দের কাজের জন্য আলাদা সময় নির্ধারণ করুন। বই পড়া, গান শোনা, রান্না করা, ছবি আঁকা, বাগান করা কিংবা কোনো পুরোনো শখে ফিরে যাওয়া—যে কাজটি আপনাকে আনন্দ দেয়, সেটির জন্য প্রতিদিন অল্প সময় রাখুন।


নিজেকে সময় দিন


সব সময় অন্যের প্রয়োজন পূরণ করতে গিয়ে নিজের অনুভূতিগুলোকে উপেক্ষা করা ঠিক নয়। দিনে অন্তত কিছুটা সময় একান্ত নিজের জন্য রাখুন। এই সময়ে চাইলে নীরবে বসে থাকতে পারেন, নিজের দিনের কথা ভাবতে পারেন কিংবা আগামী দিনের পরিকল্পনা করতে পারেন। নিজের সঙ্গে নিজের এই সময়টুকুও মানসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।


একটু রোদে থাকুন


সকালের নরম রোদে কিছু সময় কাটানোও হতে পারে দৈনন্দিন যত্নের একটি সহজ অংশ। দিনের শুরুতে বারান্দা, ছাদ কিংবা খোলা জায়গায় কিছু সময় কাটাতে পারেন। তবে অতিরিক্ত তীব্র রোদ এড়িয়ে চলা এবং ত্বকের সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি।


মনের মতো গান শুনুন

পছন্দের গান অনেকের মন ভালো করার সহজ একটি উপায়। কাজের চাপের মাঝে কয়েক মিনিট নিজের পছন্দের গান শোনা মনকে কিছুটা বিরতি দিতে পারে। বিশেষ করে এমন সময়ে যখন মনে হয় সবকিছু একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে আপনি মানসিকভাবে ক্লান্ত।


প্রকৃতির কাছে ফিরুন


সবুজ গাছপালা, খোলা আকাশ কিংবা একটু নিরিবিলি পরিবেশ—প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি করুন। কাছের পার্কে হাঁটা, গাছের যত্ন নেওয়া কিংবা কিছুক্ষণ খোলা আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকাও ব্যস্ততার মধ্যে মানসিক বিরতি এনে দিতে পারে।


প্রিয় মানুষের সঙ্গে কথা বলুন


সব কথা নিজের মধ্যে জমিয়ে রাখা প্রয়োজন নেই। প্রিয় কোনো মানুষ—বন্ধু, পরিবারের সদস্য কিংবা এমন কেউ, যার কাছে নিজের কথা স্বচ্ছন্দে বলা যায়—তার সঙ্গে কিছু সময় কথা বলুন। আনন্দের কথা যেমন ভাগ করে নিতে পারেন, তেমনি মন খারাপের কথাও বলতে পারেন। কখনো কখনো সমাধানের চেয়েও মন খুলে কথা বলাটাই স্বস্তি দিতে পারে।

sidebar ad