একজন শিক্ষার্থীর চারপাশের পরিবেশও তার মনোযোগ, পড়ার আগ্রহ ও দৈনন্দিন রুটিনে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পরীক্ষার সময় পড়ার টেবিলের পাশাপাশি পুরো ঘরটিকেও এমনভাবে সাজানো উচিত, যাতে ঘরে ঢুকলেই পড়াশোনার জন্য একটি শান্ত ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি হয়।
ঘর হোক পরিষ্কার ও অপ্রয়োজনীয় জিনিসমুক্ত
একজন শিক্ষার্থীর ঘরে অতিরিক্ত আসবাব, খেলনা, পুরোনো কাগজ, অপ্রয়োজনীয় সাজসজ্জার জিনিস বা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কাপড় রাখা ঠিক নয়। এলোমেলো ঘর যেমন অস্বস্তি তৈরি করে, তেমনি প্রয়োজনীয় বই বা জিনিস খুঁজে পেতেও সময় নষ্ট হয়। তাই ঘরে যতটা সম্ভব প্রয়োজনীয় জিনিসই রাখুন। প্রতিটি জিনিসের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা থাকলে ঘর গুছিয়ে রাখাও সহজ হবে।
পড়ার জন্য আলাদা জায়গা রাখুন
সম্ভব হলে ঘরের একটি নির্দিষ্ট অংশ শুধু পড়াশোনার জন্য রাখুন। সেখানে থাকবে পড়ার টেবিল, চেয়ার, বই-খাতা ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ। বিছানায় শুয়ে বা ঘরের এদিক-ওদিক বসে পড়ার পরিবর্তে নির্দিষ্ট জায়গায় পড়ার অভ্যাস তৈরি করলে মস্তিষ্কও ধীরে ধীরে ওই জায়গাটিকে পড়াশোনার সঙ্গে যুক্ত করে নিতে পারে।
বই-খাতার জন্য নির্দিষ্ট ব্যবস্থা
সব বই এক জায়গায় স্তূপ করে না রেখে বিষয়ভিত্তিকভাবে সাজিয়ে রাখুন। একটি বুকশেলফ, ছোট র্যাক বা আলাদা বাক্স ব্যবহার করা যেতে পারে। যে বই বা খাতা প্রতিদিন বেশি প্রয়োজন, সেগুলো হাতের কাছে রাখুন। আর যেগুলো কম ব্যবহার হয়, সেগুলো আলাদা জায়গায় রাখুন। এতে প্রয়োজনের সময় বই খুঁজতে সময় নষ্ট হবে না।
দেয়ালে পড়ার রুটিন রাখতে পারেন
ঘরের দেয়ালের এমন একটি জায়গা বেছে নিন, যেখানে প্রতিদিনের পড়ার রুটিন, পরীক্ষার সময়সূচি বা গুরুত্বপূর্ণ কাজের তালিকা রাখা যায়। তবে দেয়ালে অতিরিক্ত কাগজ, পোস্টার বা নানা ধরনের নোট লাগিয়ে রাখবেন না। পরীক্ষার আগে কোন বিষয়ে কতটা প্রস্তুতি হয়েছে, কোন অধ্যায় বাকি—এসব ছোট নোট বা পরিকল্পনা সামনে থাকলে পড়াশোনার অগ্রগতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সহজ হয়।
পর্যাপ্ত আলো-বাতাস নিশ্চিত করুন
ঘর এমন হওয়া উচিত যেখানে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো ও বাতাস প্রবেশ করতে পারে। দিনের বেলায় সম্ভব হলে জানালার কাছাকাছি বসে পড়া যেতে পারে। রাতে পড়ার জন্য পর্যাপ্ত আলো থাকা জরুরি। তবে খুব বেশি তীব্র আলো, চোখে সরাসরি পড়া আলো কিংবা একেবারে অন্ধকার ঘরে শুধু টেবিল ল্যাম্পের আলোয় দীর্ঘ সময় পড়া এড়িয়ে চলা ভালো।
ঘরে মোবাইল ও টিভির প্রভাব কমান
পড়ার ঘরে টেলিভিশন থাকলে বা মোবাইল ফোন সবসময় হাতের কাছে থাকলে মনোযোগ সহজেই অন্যদিকে চলে যেতে পারে। বিশেষ করে পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও বা গেম পড়ার সময়কে অজান্তেই অনেকটা কমিয়ে দিতে পারে। তাই পড়ার সময় মোবাইল অন্য জায়গায় রাখা এবং সম্ভব হলে টিভি বা অন্যান্য বিনোদনের ব্যবস্থা পড়ার জায়গা থেকে দূরে রাখাই ভালো।
দেয়ালে ঘড়ি রাখতে পারেন
একটি সাধারণ ঘড়ি শিক্ষার্থীর সময় ব্যবস্থাপনায় কাজে আসতে পারে। কতক্ষণ ধরে পড়ছে, কখন বিরতি নিতে হবে কিংবা দিনের নির্দিষ্ট কাজ কখন শেষ করতে হবে—এসবের দিকে নজর রাখা সহজ হয়। তবে ঘড়িকে এমনভাবে রাখা উচিত নয়, যাতে বারবার সময়ের দিকে তাকিয়ে পড়ার মনোযোগ নষ্ট হয়।
ঘরে আরামদায়ক কিন্তু অতিরিক্ত আরাম নয়
পড়ার চেয়ার এমন হওয়া উচিত যাতে দীর্ঘ সময় বসে পড়লেও অস্বস্তি না হয়। তবে ঘর বা পড়ার জায়গা অতিরিক্ত আরামদায়ক করে তোলাও ঠিক নয়। বিছানা, বালিশ বা এমন পরিবেশ যেখানে বসার কিছুক্ষণ পরেই ঘুম পেতে পারে—সেগুলো পড়ার জায়গা থেকে আলাদা রাখাই ভালো।
রঙ ও সাজসজ্জায় থাকুক সরলতা
শিক্ষার্থীর ঘর সুন্দর করার জন্য অনেক সাজসজ্জার প্রয়োজন নেই। শান্ত ও পরিপাটি পরিবেশই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দেয়ালে অতিরিক্ত পোস্টার, ছবি বা নানা ধরনের ডেকোরেশন না রেখে প্রয়োজনীয় ও অনুপ্রেরণামূলক কিছু জিনিস রাখা যেতে পারে। তবে সাজসজ্জা যেন পড়াশোনার চেয়ে বেশি আকর্ষণের কারণ না হয়ে ওঠে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
ঘর প্রতিদিন গুছিয়ে রাখুন
পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় প্রতিদিন দিনের শেষে কয়েক মিনিট ঘর গুছিয়ে রাখার অভ্যাস করুন। ব্যবহৃত বই-খাতা নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা, ময়লা কাগজ সরিয়ে ফেলা, কাপড় গুছিয়ে রাখা—এসব ছোট কাজ পরদিনের পড়ার পরিবেশকে অনেক বেশি সুন্দর করে তুলবে।
আরও পড়ুন: মনের প্রশান্তি দেবে ভার্টিক্যাল গার্ডেন
ঢাকা/আরএস