ইশরাত জাহান ইনা
বাইরে টুপটাপ বৃষ্টি পড়ছে। এমন সময় যদি ঘরের কেউ জিজ্ঞেস করে, আজ কী খাবে? তাহলে উত্তর খুঁজতে ফ্রিজের সামনে দাঁড়িয়ে থাকার দরকার নেই। কারণ বর্ষা যেন নিজেই বলে দিচ্ছে, আজ চাই একটু গরম, একটু ঝাল, আর একটু মজাদার কিছু যা মুড টাই চেঞ্জ করে দেবে।
খিচুড়ির বাইরেও আছে এমন অনেক মুখরোচক খাবার, যা বৃষ্টিভেজা বিকেল বা সন্ধ্যাকে আরও মজার করে তুলতে পারে। চলুন, দেখে নেওয়া যাক বর্ষার দিনে জিভে জল আনা কিছু দারুণ খাবারের তালিকা।
যদি বর্ষার দিনের জন্য একটু ভিন্নধর্মী, আনকমন ও মুখরোচক খাবারের তালিকা চান, তাহলে এগুলো হতে পারে দারুণ পছন্দ।বাচ্চা থেকে বুড়ো সবার কাছে আংগুল চেটে খাওয়ার মত কিছু আইটেমের নাম দিলাম।
থুকপা, কখনো হয়তো নাম শোনা হয়নি, এটা তিব্বতি গরম নুডলস স্যুপ।
টক ঝাল স্যুপ-ভরা ডাম্পলিং।
জাপানি স্টাইলে হালকা ব্যাটারে ভাজা চিংড়ি বা সবজি।
যদি দেশি, ঝাল-ঝাল কিন্তু একটু আনকমন খাবারের কথা বলেন, তাহলে এগুলো দারুণ হতে পারে,
চুইঝাল গরুর মাংস: চুইঝালের ঝাঁজে রান্না করা দক্ষিনাঞ্চলের বিখ্যাত পদ।
শুঁটকি ভুনা: বিভিন্ন ধরনের শুঁটকি দিয়ে ঝাল ভুনা।
ঝাল হাঁসের মাংস: কাঁচা মরিচ ও গরম মসলায় রান্না।
চিংড়ি ভর্তা: সরিষার তেল ও কাঁচা মরিচে মাখানো ঝাল ভর্তা।
মরিচ ভর্তা: পোড়া শুকনা মরিচ বা কাঁচা মরিচ দিয়ে তৈরি তীব্র ঝাল ভর্তা।
বেগুন পোড়া ভর্তা: শুকনা মরিচ দিয়ে গরম ভাতের সঙ্গে দারুণ লাগে।
চিতল মাছের মুঠিয়া ঝাল: একটু ভিন্ন কিন্তু অসাধারণ স্বাদের ঐতিহ্যবাহী পদ।
ডিমের কষা ভুনা: ঝাল মশলায় ভালোভাবে কষানো ডিম।
ধনিয়া কাঁচা মরিচ দিয়ে দেশি মুরগির ভুনা: ঝাঁঝালো ও সুগন্ধি স্বাদে ভরা।
বর্ষার দিনে গরম ভাতের সঙ্গে এসব ঝাল খাবার খেতে দারুণ লাগে, বিশেষ করে যদি সঙ্গে থাকে লেবু, কাঁচা পেঁয়াজ আর ধোঁয়া ওঠা চা।
এবার বলি বর্ষার দিনে খাওয়ার জন্য ঝাল ঝাল ও মুখরোচক স্ন্যাকস: ঝাল চানাচুর মিক্স (চানাচুর + পেঁয়াজ + কাঁচা মরিচ + ধনেপাতা + সরিষার তেল।
মজার মচমচে কুড়মুড়ে একটা স্ন্যাকস এর রেসিপি দিচ্ছি যা আপনার বিকেলে চায়ের আড্ডা জমিয়ে দেবে।
পুঁই পাতা ও কুমড়ো পাতার মিক্স পাকোড়া
উপকরণ-
পুঁই পাতা – ১০–১৫টি (কুচি করা), কুমড়ো পাতা – ১০–১২টি (শিরা ফেলে কুচি করা), পেঁয়াজ কুচি – ১টি বড়, কাঁচা মরিচ কুচি – ৪–৫টি, ধনেপাতা কুচি – ২ টেবিল-চামচ, বেসন – ১ কাপ, চালের গুঁড়া – ২ টেবিল-চামচ (মচমচে করার জন্য), লাল মরিচ গুঁড়া – হাফ চা-চামচ, হলুদ গুঁড়া পরিমানমতো, ভাজা জিরা গুঁড়া – হাফ চা-চামচ, কালোজিরা – হাফ চা-চামচ (ঐচ্ছিক), লবণ – স্বাদমতো, বেকিং সোডা – এক চিমটি (ঐচ্ছিক), পানি – প্রয়োজনমতো, সয়াবিন তেল – ভাজার জন্য।
প্রস্তুত প্রণালি-
কুমড়ো পাতার শক্ত শিরা ও লোম ছাড়িয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
পুঁই পাতাও ধুয়ে কুচি করুন।
একটি বড় পাত্রে দুই ধরনের পাতা, পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ ও ধনেপাতা একসঙ্গে মিশিয়ে নিন।
এবার বেসন, চালের গুঁড়া, সব মসলা ও লবণ দিয়ে মিশিয়ে নিন।
অল্প অল্প পানি দিয়ে এমন ব্যাটার তৈরি করুন যাতে পাতাগুলো ভালোভাবে মাখানো থাকে, কিন্তু খুব পাতলা না হয়।
কড়াইয়ে তেল গরম করে হাত বা চামচ দিয়ে ছোট ছোট পাকোড়ার আকারে ছেড়ে দিন।
মাঝারি আঁচে দুই পাশ সোনালি ও মচমচে হওয়া পর্যন্ত ভেজে তুলে নিন।
পরিবেশন-
গরম গরম পরিবেশন করুন।টমেটো সস অথবা
ধনেপাতা পুদিনার চাটনি দিয়ে।
মচমচে করার টিপস-
বেসনের সঙ্গে অবশ্যই একটু চালের গুঁড়া মেশান। ব্যাটারে বেশি পানি দেবেন না। তেল ভালোভাবে গরম হলে তবেই পাকোড়া ছাড়ুন, তাহলে বাইরেটা ক্রিসপি আর ভেতরটা নরম হবে।
বর্ষার দিনে এই পুঁই পাতা ও কুমড়ো পাতার মিক্স পাকোড়া গরম আদা চায়ের সঙ্গে পরিবেশন করলে দারুণ জমে যাবে।