ডেঙ্গু জ্বর হলেই যে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে, এমন নয়। অনেক রোগী বাড়িতে বিশ্রাম ও পর্যাপ্ত তরল গ্রহণের মাধ্যমে সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে জ্বর কমে যাওয়ার সময়টিই অনেক সময় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই কিছু সতর্কতামূলক লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালে যেতে হবে।
১. তীব্র পেটব্যথা বা পেটে চাপ দিলে ব্যথা: ডেঙ্গুর সময় হঠাৎ তীব্র পেটব্যথা, পেটের অস্বস্তি বা পেটে চাপ দিলে ব্যথা হলে এটিকে সতর্কসংকেত হিসেবে দেখা হয়।
২. বারবার বমি হওয়া: বারবার বমি হলে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি এটি গুরুতর ডেঙ্গুর একটি সতর্কতামূলক লক্ষণও হতে পারে।
৩. নাক, মাড়ি বা অন্য কোথাও রক্তপাত: নাক দিয়ে রক্ত পড়া, মাড়ি থেকে রক্ত বের হওয়া, বমি বা পায়খানায় রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। শরীরে অস্বাভাবিক রক্তপাতকে অবহেলা করা উচিত নয়।
৪. অতিরিক্ত দুর্বলতা, অস্থিরতা বা ঝিমুনি: রোগী অস্বাভাবিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়া, খুব বেশি অস্থির হওয়া, ঘুম ঘুম ভাব বা সাড়া দিতে সমস্যা করলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।
৫. শ্বাসকষ্ট বা শরীরের বিভিন্ন অংশ ফুলে যাওয়া: শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, দ্রুত শ্বাস নেওয়া কিংবা পেট বা শরীরের কোনো অংশ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।
জ্বর কমে গেলেই বিপদ কেটে গেছে—এমন নয়
ডেঙ্গুর বিপজ্জনক পর্যায় অনেক সময় জ্বর কমার পর শুরু হতে পারে। সাধারণত জ্বরের তৃতীয় থেকে সপ্তম দিনের মধ্যে সতর্ক থাকা বিশেষ জরুরি। তাই জ্বর কমে যাওয়ার পরও রোগীর শারীরিক অবস্থা, পানি খাওয়ার পরিমাণ এবং সতর্কতামূলক লক্ষণগুলো নজরে রাখতে হবে।
ডেঙ্গু সন্দেহ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা ও চিকিৎসা নেওয়া উচিত। নিজের ইচ্ছায় ব্যথানাশক ওষুধ, বিশেষ করে অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেনজাতীয় ওষুধ না খাওয়াই নিরাপদ। জ্বর ও ডেঙ্গুর চিকিৎসায় কোন ওষুধ উপযুক্ত, তা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নেওয়া উচিত।
ডেঙ্গুতে শুধু প্লেটলেটের সংখ্যা নয়, রোগীর সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা ও সতর্কতামূলক লক্ষণগুলোও গুরুত্বপূর্ণ। এসব লক্ষণের কোনোটি দেখা দিলে দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতাল বা চিকিৎসাকেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।
তথ্যসূত্র: WHO ও CDC