কিচেন এগজস্ট ফ্যান পরিষ্কার করুন নিমিষেই

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬

সংগৃহীত
সংগৃহীত

রান্নাঘরের একটি অতি প্রয়োজনীয় জিনিস হল এগজস্ট ফ্যান। ভেতরের গরম হাওয়া, রান্নার ধোঁয়া নিষ্কাশন আর তেলতেলে গন্ধ বাইরে বের করে দিতে এগজস্ট ফ্যানের জুড়ি নেই। কিন্তু প্রতিদিনের রান্নার ধোঁয়ার সঙ্গে উড়ে আসা তেল ও ময়লা ধীরে ধীরে জমে ফ্যানের ব্লেড ও ফিল্টারে তৈরি করে চিটচিটে আস্তরণ। ফলে ফ্যান দেখতে যেমন অপরিষ্কার লাগে, তেমনি ময়লা জমে গেলে এর কার্যকারিতাও কমে যেতে পারে।


অথচ নিয়মিত পরিষ্কার করার কথা আমরা অনেক সময় ভুলেই যাই। এই ব্যাপারে এক্সপার্ট কাউকে ফোন দেয়ার আগে নিজেই একবার চেষ্টা করে দেখতে পারেন। ভাবছেন, এগজস্ট ফ্যান পরিষ্কার করা বুঝি বেশ ঝামেলার কাজ? একেবারেই নয়। একটু সময়, কিছু সাধারণ উপকরণ আর সঠিক পদ্ধতি জানলেই ঘরেই সহজে পরিষ্কার করে নিতে পারেন।


- শুরুতেই সেফটি।

পরিষ্কার করার আগে ফ্যানের বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করুন। সম্ভব হলে প্লাগ খুলে রাখুন। ফ্যানের বৈদ্যুতিক অংশে পানি বা পরিষ্কার করার তরল যেন কোনোভাবেই না পৌঁছায়। হাতে রাবারের গ্লাভস পরলে তেল-ময়লা ও পরিষ্কার করার দ্রবণ থেকে হাতও সুরক্ষিত থাকবে।


- প্রথমেই সাবধানে চিটচিটে ফিল্টারটি সরিয়ে ফেলতে হবে। এগজস্ট ফ্যানের মডেল অনুযায়ী ফিল্টার খোলার পদ্ধতি ভিন্ন হতে পারে। সাধারণত লিভার, ক্লিপ বা ট্যাবের সাহায্যে এটি আটকানো থাকে। নির্দেশিকা দেখে অথবা সাবধানে ক্লিপ খুলে ফিল্টারটি বের করুন।

ফিল্টার আটকে থাকলে জোর করে টানাটানি করবেন না। এতে ফিল্টার বা ফ্যানের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।


- তেল জমাট অংশ নরম করতে হবে। এরজন্য ফিল্টারটি সরানো হলে তা বড় প্যান বা পাত্রে রাখতে হবে। পাত্রটির গভীরতা এমনভাবে নির্বাচন করতে হবে যাতে ফিল্টারটি তরল দ্রবনে সম্পূর্নভাবে ডুবে যেতে পারে। একটি বড় পাত্রে গরম পানি, কিছুটা ডিশওয়াশিং লিকুইড এবং অল্প বেকিং সোডা মিশিয়ে নিন। এতে ফিল্টারটি সম্পূর্ণ ডুবিয়ে ১৫–৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। 

গরম পানি ও ডিশওয়াশিং লিকুইড জমে থাকা তেল নরম করতে সাহায্য করবে, আর বেকিং সোডা ময়লা আলগা করতে সহায়ক হতে পারে।

তবে দ্রবণটি ফিল্টারসহ চুলায় বসিয়ে ফুটিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। খুব গরম পানি ব্যবহার করলেই যথেষ্ট। ফিল্টারের উপাদান ও প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিষ্কার করার পদ্ধতি অনুসরণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ।


- এবার ঘষে পরিষ্কার করার পালা। ভিজিয়ে রাখার পর নরম ব্রাশ বা স্পঞ্জ দিয়ে ফিল্টারের জালের দুই পাশ ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। যেখানে তেল বেশি জমে আছে, সেখানে একটু বেশি সময় নিয়ে ঘষতে হবে।

একবারে পুরোপুরি পরিষ্কার না হলে আবার কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রেখে স্ক্রাব করুন। খুব ধারালো কোনো বস্তু দিয়ে জালের অংশ খোঁচাবেন না—এতে ফিল্টার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।


- পরিষ্কার করার পর ফিল্টারটি পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। এরপর পানি ঝরিয়ে সম্পূর্ণ শুকিয়ে নিন। সেফটির জন্য ফিল্টারটি পুনরায় প্রতিস্থাপনের আগে সম্পুর্নভাবে শুকিয়েছে তা নিশ্চিত করতে হবে। 

ফিল্টার ভেজা অবস্থায় কখনোই ফ্যানে লাগাবেন না। সম্ভব হলে বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় রেখে পুরোপুরি শুকিয়ে নিন।


- ফিল্টার শুকানোর সময় ফ্যানের ব্লেড ও বাইরের অংশ পরিষ্কার করে নিতে পারেন। একটি হালকা ভেজা, ভালোভাবে নিংড়ে নেওয়া কাপড় বা স্পঞ্জ দিয়ে তেল-ময়লা মুছে ফেলুন।

তবে বৈদ্যুতিক মোটর, সুইচ, তার বা অন্যান্য ইলেকট্রিক্যাল অংশে পানি বা ক্লিনিং সলিউশন ঢালা যাবে না। এসব জায়গা পরিষ্কারের জন্য শুকনো বা সামান্য স্যাঁতসেঁতে কাপড় ব্যবহার করে অতিরিক্ত পানি এড়িয়ে চলুন। অতিমাত্রায় আর্দ্রতা ভিতরের যন্ত্রাংশগুলোর বৈদ্যুতিক ত্রুটি সৃষ্টি করতে পারে। 


- ফ্যান ও ফিল্টার দুটিই পুরোপুরি শুকিয়ে গেলে ফিল্টারটি আগের জায়গায় ঠিকভাবে বসিয়ে দিন। সবকিছু ঠিকঠাক আছে নিশ্চিত হওয়ার পর, আবার প্লাগ ইন করে স্বাভাবিকের মত ব্যবহার করতে পারেন।  


কতদিন পরপর পরিষ্কার করবেন?

রান্নার পরিমাণ ও ফ্যান ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে পরিষ্কারের প্রয়োজনীয়তা বদলায়। নিয়মিত রান্না হলে প্রতি কয়েক সপ্তাহ থেকে এক মাস পরপর ফিল্টার পরীক্ষা ও পরিষ্কার করা ভালো অভ্যাস। ফিল্টারে তেলের স্তর চোখে পড়লে পরিষ্কার করতে আর দেরি না করাই ভালো।

তবে, ফিল্টার একেবারে তেল জমে শক্ত হয়ে যাওয়ার অপেক্ষা করবেন না। ময়লা যত বেশি জমবে, পরিষ্কার করতেও তত বেশি সময় ও পরিশ্রম লাগবে।


পরিষ্কার এগজস্ট ফ্যান শুধু রান্নাঘরকে দেখতে পরিচ্ছন্ন রাখে না, বরং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে ফ্যানের কার্যকারিতা ধরে রাখতেও সাহায্য করে। তাই বড় কোনো ঝামেলা হওয়ার অপেক্ষা না করে, মাসে একদিন কয়েক মিনিট সময় দিন আপনার রান্নাঘরের এই নীরব কর্মীটিকেও।

sidebar ad