সকালটা শুরু হয় দশ রকম কাজ করে—ঘরের কাজ কী শুধুই নারীর?

প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬

ছবি: এআই/রোদসী
ছবি: এআই/রোদসী

ভোরের আলো তখনো পুরোপুরি জানালা পেরিয়ে বিছানার চাদরে ছড়িয়ে পড়েনি। অথচ ঘরের একজন মানুষ দিনের কাজ শুরু করে দিয়েছেন অনেক আগেই। ঘুমন্ত পরিবারের কাউকে না জাগিয়ে রান্নাঘরে ঢুঁ মারা, সকালের নাশতার প্রস্তুতি, বাচ্চাদের স্কুলের ব্যাগ গোছানো, কাপড় ধোয়ার ব্যবস্থা, ঘর গুছিয়ে নেওয়া—একটার পর একটা কাজ যেন তাঁর অপেক্ষায় থাকে।


এই মানুষটি পরিবারের নারী—মা, স্ত্রী, বোন কিংবা মেয়ে।


সকাল বাড়তে থাকে, তাঁর ব্যস্ততাও তত বাড়ে। অন্যরা যখন নাশতা করে কর্মস্থল বা স্কুলের উদ্দেশে বের হওয়ার প্রস্তুতি নেয়, তখনো তাঁর কাজ শেষ হয় না। বরং ঘরের কাজের তালিকা যেন শেষ না হওয়া এক অধ্যায়।


প্রশ্ন হলো, ঘরের কাজ কি শুধুই নারীর দায়িত্ব?


সমাজে বহুদিন ধরেই একটি ধারণা প্রচলিত—রান্না, ঘর পরিষ্কার, কাপড় ধোয়া, সন্তান দেখাশোনা—এসব নারীর স্বাভাবিক দায়িত্ব। আর পুরুষের দায়িত্ব মূলত উপার্জন করা। সময় বদলেছে, কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে, কিন্তু অনেক পরিবারে ঘরের কাজ ভাগাভাগির মানসিকতা এখনো সেভাবে বদলায়নি।


ফলে একজন কর্মজীবী নারীকে প্রায়ই দুটি পূর্ণকালীন দায়িত্ব সামলাতে হয়—বাইরের চাকরি এবং ঘরের কাজ।


অথচ ঘরের কাজ কোনো ‘নারীর কাজ’ নয়; এটি পরিবারের কাজ। যে পরিবারে কয়েকজন মানুষ একসঙ্গে বসবাস করেন, সেই পরিবারের দৈনন্দিন জীবন সচল রাখার দায়িত্বও সবার।


একটু ভেবে দেখুন, একজন পুরুষ সকালে সন্তানকে স্কুলের জন্য প্রস্তুত করতে পারেন। বাজার করে আনতে পারেন, রান্নাঘরের কাজে হাত লাগাতে পারেন, কাপড় ভাঁজ করতে পারেন কিংবা রাতে থালা-বাসন পরিষ্কার করতে পারেন। এগুলো ‘সাহায্য’ নয়—এগুলো তাঁর নিজের পরিবারের প্রতি দায়িত্বের অংশ।


তাছাড়া, একজন পুরুষ যখন নিজের ঘরের কাজ নিজে করেন, তখন তিনি শুধু একজন নারীকে সাহায্য করেন না; বরং পরিবারের দায়িত্ব ভাগ করে নেন।


এই উপলব্ধিই হয়তো পরিবর্তনের শুরু


পরিবারে কাজ ভাগাভাগি মানে শুধু নারীর ওপর চাপ কমানো নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সম্মান, সমতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা। আর একটি মানবিক সম্পর্কের জন্য এসবই সবচেয়ে জরুরি।

sidebar ad