দেশের প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে নবনির্বাচিত বিএনপি সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নামে একটি বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে। এই কর্মসূচির আওতায় প্রথমেই সুবিধা পাবেন হতদরিদ্র ও নারী প্রধান পরিবারগুলো। কার্ডধারীরা মাসিক ভিত্তিতে নগদ অর্থ অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাবেন।
সরকারের এই উদ্যোগকে ‘মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র’ গঠনের অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সম্প্রতি সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় পাঁচ কোটি পরিবারকে এই কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। বৈঠক শেষে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন সাংবাদিকদের জানান, দেশের সব দরিদ্র পরিবারকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনা সরকারের মূল লক্ষ্য।
নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিকভাবে প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা বা সমমূল্যের পণ্য সরবরাহ করা হবে। ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে এই সহায়তার পরিমাণ বাড়ানোর কথাও জানিয়েছে সরকার। ইতিমধ্যেই এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে ১৫ সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রীকে সভাপতি করে গঠিত এই কমিটিতে সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশুবিষ্যক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবরা সদস্য হিসেবে রয়েছেন।
কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ হিসেবে আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই পাইলট প্রকল্প চালু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরিবেশমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু জানান, শুরুতে হতদরিদ্র ও নারী প্রধান পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে আট বিভাগের আটটি উপজেলায় এই পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এর ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী ধাপে দরিদ্র পরিবারগুলোকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
কমিটির অন্যতম সদস্য ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ সম্পূর্ণ রাজনীতিমুক্ত থাকবে। তিনি বলেন, এই কর্মসূচিতে কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ নেই। কার্ড সরাসরি পরিবারের নারী সদস্যদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, সরকারের চলমান অন্যান্য ভাতা কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে এবং ফ্যামিলি কার্ড হবে এর একটি সংযোজন।
জাতীয় পরিচয়পত্র ও জাতীয় খানা তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা (এমআইএস) গড়ে তোলা হচ্ছে, যাতে সুবিধাভোগী নির্বাচন ও সহায়তা প্রদান প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হয়। কমিটি আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নে এই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।