বলিরেখা নয়, আগে বাঁচান কোলাজেন

প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বয়স বাড়ার সঙ্গে বলিরেখা আসবেই—তবে কখন, কতটা এবং কত দ্রুত আসবে, তার অনেকটাই নির্ভর করে আমাদের প্রতিদিনের অভ্যাসের ওপর। দামি প্রসাধনীর চেয়ে সূর্য থেকে সুরক্ষা, সঠিক ত্বকের যত্ন এবং কিছু সচেতন জীবনযাপনই হতে পারে ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।


ভোগ ম্যাগাজিনের তথ্য, কোলাজেন নষ্ট হওয়ার আগেই সেটিকে সুরক্ষিত করুন। তাহলে ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে প্রতিদিন কী করা উচিত? বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে দেখে নেওয়া যাক।


প্রথম শর্ত: সূর্য থেকে ত্বককে বাঁচান


বলিরেখা প্রতিরোধের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে সানস্ক্রিন। প্রতিদিন এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি মাত্রার সানস্ক্রিন ব্যবহার করাই ফটোএজিং প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।


সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের কোলাজেন ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এর ফলে সময়ের সঙ্গে ত্বকে সূক্ষ্ম রেখা, বলিরেখা, অসম টেক্সচার ও রঙের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।


তাই পরামর্শ একেবারেই সহজ—বৃষ্টি হোক বা রোদ, বাইরে বের হওয়ার আগে সানস্ক্রিন লাগান।


বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপীয় ও কোরীয় সানস্ক্রিনও ব্যবহার করা যেতে পারে। এসব পণ্যে উন্নত ইউভি ফিল্টার থাকতে পারে এবং অনেক ফর্মুলা তুলনামূলকভাবে হালকা ও দীর্ঘস্থায়ী।


সানস্ক্রিনের পাশাপাশি চাই বাড়তি সুরক্ষা


শুধু সানস্ক্রিন লাগিয়েই দায়িত্ব শেষ নয়। দিনের তীব্র রোদে, অর্থাৎ প্রায় সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সরাসরি সূর্যালোক এড়িয়ে চলা ভালো। আরেকটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস হলো সানগ্লাস পরা।


যুক্তরাজ্যের ত্বকের যত্নবিষয়ক বিশেষজ্ঞ কেট ড্যানিয়েল বলেন, ‘উজ্জ্বল আলোতে বারবার চোখ কুঁচকে তাকানোর অভ্যাসও চোখের চারপাশে সূক্ষ্ম রেখা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।’


অর্থাৎ, সানগ্লাস শুধু চোখকে ইউভি রশ্মি থেকে সুরক্ষা দেয় না, চোখ কুঁচকানোর অভ্যাসও কমাতে পারে।


রাতে রেটিনয়েড, দিনে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট


ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে একটি নিয়মিত ত্বকের যত্নের রুটিনও গুরুত্বপূর্ণ।


বিশেষজ্ঞরা বলেন, রেটিনয়েড কোলাজেন ও ইলাস্টিনের উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে, ত্বকের টেক্সচার উন্নত করে এবং সময়ের সঙ্গে সূক্ষ্ম রেখা কমাতে পারে।


তবে নতুন কোনো সক্রিয় উপাদান ব্যবহারের আগে নিজের ত্বকের ধরন ও সহনশীলতা বিবেচনা করা জরুরি।


দিনের সঙ্গী হোক ভিটামিন সি


সকালে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ব্যবহার করলে তা ইউভি রশ্মি ও দূষণের কারণে তৈরি হওয়া ফ্রি র‍্যাডিক্যালের ক্ষতি থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করতে পারে। আর অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কথা উঠলে ভিটামিন সি অন্যতম আলোচিত উপাদান।


ত্বকে ব্যবহারের জন্য ভিটামিন সি-কে সবচেয়ে বেশি গবেষণা করা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি ত্বকের সামগ্রিক চেহারা ভালো রাখা এবং ফটোএজিং প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।


ভিটামিন সি কিনলেই হবে না, সংরক্ষণও জানতে হবে


ভিটামিন সি ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি বিষয় অনেকেই খেয়াল করেন না—অক্সিডেশন। সময়ের সঙ্গে কোনো ভিটামিন সি পণ্য গাঢ় বাদামি রঙ ধারণ করলে উপাদানটি অক্সিডাইজড হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সে ক্ষেত্রে পণ্যটির কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।


তাই ভিটামিন সি সিরাম সাধারণত আলো, তাপ ও বাতাস থেকে দূরে এবং প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী সংরক্ষণ করা উচিত।


বিশেষজ্ঞরা বলেন, বোতল খোলার পর প্রায় ছয় মাসকে বাস্তবসম্মত ব্যবহারকাল হিসেবে ধরা যেতে পারে। তবে পণ্যের ফর্মুলা ও প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী সময় ভিন্ন হতে পারে।


বলিরেখা একেবারে শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব নয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে ত্বকের পরিবর্তন স্বাভাবিক। তবে সেই পরিবর্তনকে ধীর করা এবং ত্বককে দীর্ঘদিন সুস্থ, মসৃণ ও প্রাণবন্ত রাখতে প্রতিদিনের যত্নের ভূমিকা অনেক।


তাই ত্বকের যত্নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিয়মিত থাকা। সানস্ক্রিন ব্যবহার, অতিরিক্ত রোদ এড়িয়ে চলা, ত্বকের উপযোগী উপাদান ব্যবহার এবং নিয়মিত ত্বকের যত্ন—এসব অভ্যাসই দীর্ঘদিন ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে।

sidebar ad