ঋতুস্রাব বিষয়ে ছেলেদেরও জানা জরুরি

প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬

ছবি: এআই/রোদসী
ছবি: এআই/রোদসী

‘‘মেয়েদের পাশাপাশি মায়েদের উচিত ছেলেদেরও ঋতুস্রাব সম্পর্কে সঠিক শিক্ষা দেওয়া, যেন তারা সহানুভূতিশীল হয়ে ওঠে।’’ সম্প্রতি একটি পডকাস্টে এই কথাগুলো বলেছেন অভিনেত্রী সারিকা সাবরিন। 


জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) বলছে, ঋতুস্রাব একটি স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়া। এটি নিয়ে নীরবতা, লজ্জা বা কুসংস্কার নয়; প্রয়োজন বৈজ্ঞানিক তথ্যভিত্তিক শিক্ষা এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা।


মা সন্তানের প্রথম শিক্ষক। মেয়েকে যেমন তিনি ঋতুস্রাবের বাস্তবতা বোঝার জন্য মানসিকভাবে  প্রস্তুত করেন, তেমনি ছেলেকেও বোঝাতে পারেন—এটি কোনো রোগ নয়, কোনো অশুচিতা নয়, বরং নারীর শরীরের স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। ছোটবেলা থেকেই যদি ছেলেরা এ বিষয়ে সঠিক ধারণা নিয়ে বড় হয়, তাহলে ভবিষ্যতে তারা বন্ধু, সহপাঠী, স্বামী কিংবা সহকর্মী হিসেবে আরও সংবেদনশীল আচরণ করতে শিখবে।


যুক্তরাষ্ট্রের লেখিকা ও নারী অধিকারকর্মী গ্লোরিয়া স্টেইনেম একবার বলেছিলেন, “Men should think twice before making widowhood women’s only path to power.” তাঁর এই বক্তব্য মূলত লিঙ্গসমতার প্রসঙ্গে হলেও এর মূল শিক্ষা হলো—সমাজের পরিবর্তনে পুরুষদেরও অংশীদার হতে হবে। ঋতুস্রাব সম্পর্কেও একই কথা প্রযোজ্য। বিষয়টি শুধু নারীর দায়িত্ব নয়; পুরুষদেরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।


আমাদের দেশে অনেক পরিবারে এখনো ঋতুস্রাবের সময় মেয়েদের আলাদা থালা-বাসন ব্যবহার করতে বলা হয়, রান্নাঘরে যেতে দেওয়া হয় না কিংবা ধর্মীয় আচার থেকে দূরে রাখা হয়। এসব বিশ্বাসের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। অথচ যদি পরিবারের ছেলেরা ছোটবেলা থেকেই সত্য তথ্য জানে, তাহলে ভবিষ্যতে তারা এসব কুসংস্কার প্রশ্ন করতে শিখবে।


স্কুলেও যৌন ও প্রজননস্বাস্থ্য শিক্ষা প্রায়ই মেয়েদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। অনেক সময় ছেলেদের আলাদা করে দেওয়া হয়, যেন বিষয়টি তাদের জানার নয়। বাস্তবে এই বিভাজন অজ্ঞতাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। বরং একই শ্রেণিকক্ষে বয়সোপযোগী ও বৈজ্ঞানিকভাবে ঋতুস্রাব সম্পর্কে আলোচনা হলে পারস্পরিক সম্মান ও সহমর্মিতা গড়ে ওঠে।


মায়ের ভূমিকা এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ছেলের কোনো প্রশ্ন এড়িয়ে না গিয়ে সহজ ভাষায় উত্তর দেওয়া, প্রয়োজন হলে বই বা নির্ভরযোগ্য উৎস দেখানো এবং মেয়েদের নিয়ে বিদ্রূপ বা অপমানজনক মন্তব্যকে নিরুৎসাহিত করা—এসব ছোট উদ্যোগই বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।


ঋতুস্রাবকে স্বাভাবিকভাবে দেখার শিক্ষা শুধু মেয়েদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় না, ছেলেদেরও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। কারণ একজন সচেতন ছেলে ভবিষ্যতে একজন সংবেদনশীল বাবা, সহানুভূতিশীল স্বামী এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।


সমাজে লিঙ্গসমতা প্রতিষ্ঠা করতে হলে শিক্ষা শুধু এক পক্ষের জন্য হতে পারে না। মেয়েদের পাশাপাশি মায়েদের উচিত ছেলেদেরও ঋতুস্রাব সম্পর্কে সঠিক শিক্ষা দেওয়া। কারণ সচেতনতা যখন সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে, তখন লজ্জা নয়, জন্ম নেয় সম্মান; কুসংস্কার নয়, তৈরি হয় সহমর্মিতার সমাজ। 

sidebar ad