মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়ার মঞ্চ মাতিয়ে ক্লাউড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে গুগলে ফিরলেন উমাঙ্গা কুমাবত

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

একদিকে ঝলমলে র‍্যাম্প, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ আর সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চ। অন্যদিকে ল্যাপটপ, কোডিং, মিটিং আর করপোরেট জীবনের ব্যস্ততা। এই দুই ভিন্ন জগতকেই নিজের জীবনের অংশ করে নিয়েছেন ক্লাউড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে।



মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া ২০২৬-এর জাতীয় প্রতিযোগিতায় মধ্যপ্রদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন উমাঙ্গা। জয়পুরে ২৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত জাতীয় ফাইনালে ৫২ প্রতিযোগীর মধ্যে জায়গা করে নেন টপ ২০-তে। প্রতিযোগিতার মঞ্চে নিজের উপস্থিতি জানান দেওয়ার পর অবশ্য দীর্ঘ সময় গ্ল্যামার জগতে থাকেননি তিনি। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ফিরে গেছেন নিজের নিয়মিত পেশায়—গুগলের বেঙ্গালুরু কার্যালয়ে ক্লাউড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে।



সাধারণত বড় কোনো সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চে অংশ নেওয়ার পর মডেলিং, অভিনয় কিংবা বিনোদন জগতে নতুন সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা থাকে। উমাঙ্গার ক্ষেত্রে ছবিটা কিছুটা ভিন্ন। জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার পরও নিজের প্রযুক্তিনির্ভর ক্যারিয়ারকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে চলেছেন তিনি।



সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ‘ডে ইন মাই লাইফ’ ভিডিওতে সেই জীবনেরই কিছু মুহূর্ত তুলে ধরেছেন উমাঙ্গা। ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা প্রায় এক মিনিটের ভিডিওতে দেখা যায়, সকালে প্রস্তুতি নেওয়ার পর গুগল ক্যাম্পাসে পৌঁছান তিনি। কাজ শুরুর আগে ওয়েলনেস সেন্টারে ব্যায়াম করেন। এরপর ফিরে যান ডেস্কে—শুরু হয় মিটিং, ল্যাপটপে কাজ ও নানান পেশাগত দায়িত্ব।



তার দিনের একটি অংশ কাটে অফিসের কাজ নিয়ে, আবার নির্দিষ্ট সময়ে রয়েছে দুপুরের খাবার ও কফি ব্রেকও। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুপুরের পর ফের ডেস্কে বসে কাজ করেন তিনি এবং পরে ক্যাম্পাসের তুলনামূলক নিরিবিলি একটি লাউঞ্জে সময় কাটান। সব মিলিয়ে, মঞ্চের আলো থেকে করপোরেট জীবনের স্বাভাবিক ছন্দে তার ফিরে আসাটা ছিল বেশ দ্রুত ও স্বাভাবিক।



উমাঙ্গার এই পথচলায় তাই একই সঙ্গে দেখা যায় প্রযুক্তি ও গ্ল্যামারের দুই ভিন্ন জগত। একটি জায়গায় প্রয়োজন প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব, অন্যটিতে আত্মবিশ্বাস, উপস্থাপনা ও মঞ্চে নিজেকে প্রকাশ করার ক্ষমতা। দুটি পরিচয়কে আলাদা না করে পাশাপাশি এগিয়ে নেওয়াই যেন তার যাত্রার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।



মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়ার মঞ্চে কয়েক সপ্তাহের অভিজ্ঞতার পর আবার গুগলের ডেস্কে ফিরে যাওয়া উমাঙ্গার জীবনের নতুন কোনো অধ্যায়ের সমাপ্তি নয়; বরং তার বহুমাত্রিক ক্যারিয়ারেরই আরেকটি অধ্যায়। র‍্যাম্প থেকে ল্যাপটপ—দুটি জগতের মধ্যে এই যাতায়াতই এখন তার দৈনন্দিন জীবনের অংশ।

sidebar ad