পায়ুপথে কফি প্রবেশের ট্রেন্ড ‌‌'কফি এনেমা' কী সত্যিই লিভারকে ডিটক্স করে?

প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হঠাৎ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কফি এনেমা। দাবি করা হচ্ছে, পায়ুপথে কফি প্রবেশ করালে নাকি শরীরের টক্সিন বের হয়ে যায়, লিভার পরিষ্কার হয় এবং বিভিন্ন রোগ থেকেও উপকার পাওয়া যায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এসব দাবির পেছনে কি সত্যিই বৈজ্ঞানিক প্রমাণ আছে?


কফি এনেমা আসলে কী?


কফি এনেমা হলো পায়ুপথ দিয়ে তরল কফি বৃহদান্ত্রে প্রবেশ করানোর একটি পদ্ধতি। এটি সাধারণত “ডিটক্স” বা শরীর পরিষ্কারের বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে প্রচার করা হয়।


লিভার কি এতে ডিটক্স হয়?


এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই কোনো। ২০২০ সালে প্রকাশিত একটি systematic review-তে কফি এনেমার কার্যকারিতা নিয়ে পাওয়া গবেষণাগুলো পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে কফি এনেমা কার্যকর—এমন কোনো গবেষণা পাওয়া যায়নি। বরং পর্যালোচনায় থাকা একাধিক case report-এ ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা উঠে এসেছে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের বর্জ্য ও বিভিন্ন বিপাকীয় পদার্থ প্রক্রিয়াজাত করার ক্ষেত্রে লিভার ও কিডনিই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কোনো বিশেষ “ডিটক্স” পদ্ধতি দিয়ে সুস্থ লিভারকে আলাদাভাবে পরিষ্কার করার প্রয়োজন নেই।


গবেষণায় নিয়মিত কফি পান করার সঙ্গে লিভারের কিছু রোগের ঝুঁকি কম থাকার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে পায়ুপথে কফি প্রয়োগ করলে একই উপকার পাওয়া যাবে।


কফি এনেমা কি ক্ষতিকর হতে পারে?


অতিরিক্ত বা ভুলভাবে কফি এনেমা ব্যবহার করলে— অন্ত্রে প্রদাহ বা colitis হতে পারে।


পায়ুপথ বা অন্ত্রে আঘাত ও জ্বালা হতে পারে। পানিশূন্যতা ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। কফি খুব গরম হলে পোড়া লাগতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে সংক্রমণসহ জীবন-ঝুঁকিপূর্ণ জটিলতাও হতে পারে।


২০২০ সালের একটি systematic review-তে কফি এনেমার পর colitis-সহ বিভিন্ন adverse event-এর রিপোর্ট পাওয়া যায় এবং গবেষকেরা স্বেচ্ছায় নিজে থেকে কফি এনেমা করার পরামর্শ দেননি।


লিভার ভালো রাখতে তাহলে কী করবেন?


লিভারকে “ডিটক্স” করার নামে ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতি অনুসরণ না করে বরং— সুষম খাবার খান, অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করুন, অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন এবং প্রয়োজন ছাড়া ওষুধ বা হারবাল সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করবেন না। আর জন্ডিস, পেট বা পা ফুলে যাওয়া, অস্বাভাবিক ক্লান্তি কিংবা দীর্ঘদিনের পেটের সমস্যা থাকলে “ডিটক্স” না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।


তথ্যসূত্র: মায়ো ক্লিনিক, ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক




sidebar ad