পিরিয়ডের সময় শরীরে নানা ধরনের পরিবর্তন ঘটে। পেটব্যথা, কোমরব্যথা, ক্লান্তি, মাথাব্যথা কিংবা মেজাজের পরিবর্তনের কারণে অনেকেই এ সময় ব্যায়াম একেবারে বন্ধ করে দেন। আবার কেউ কেউ স্বাভাবিক রুটিন ধরে রাখতে গিয়ে শরীরের সক্ষমতার চেয়ে বেশি ব্যায়াম করে ফেলেন। দুটোই সবসময় প্রয়োজনীয় নয়।
পিরিয়ডের সময় ব্যায়াম করা সাধারণত নিষেধ নয়। বরং শরীরের অবস্থা অনুযায়ী হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার শরীরচর্চা অনেকের ক্ষেত্রে আরাম দিতে পারে। তবে এ সময় ব্যায়ামের ধরন ও তীব্রতার দিকে একটু বেশি নজর দেওয়া জরুরি।
হালকা ব্যায়াম হতে পারে উপকারী: হাঁটা, হালকা স্ট্রেচিং, যোগব্যায়াম বা কম-তীব্রতার ব্যায়াম পিরিয়ডের সময় অনেকের জন্য আরামদায়ক হতে পারে। এগুলো শরীরকে সচল রাখতে সাহায্য করে এবং কারও কারও ক্ষেত্রে পিরিয়ডের অস্বস্তি কমাতেও সহায়ক হতে পারে।
শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ দেবেন না: পিরিয়ডের সময় দুর্বলতা বা ব্যথা বেশি থাকলে আগের মতো উচ্চ-তীব্রতার ব্যায়াম করার প্রয়োজন নেই। ভারী ওজন তোলা, দীর্ঘ সময়ের কঠিন ওয়ার্কআউট বা অতিরিক্ত কার্ডিও করার আগে শরীরের সংকেত বিবেচনা করুন। প্রয়োজন হলে ব্যায়ামের সময় ও তীব্রতা কমিয়ে দিন।
ব্যথা বেশি হলে বিশ্রাম নিন: পিরিয়ডের ব্যথা বা শারীরিক অস্বস্তি বেশি হলে জোর করে ব্যায়াম চালিয়ে যাওয়ার দরকার নেই। সেদিন বিশ্রাম নেওয়া কিংবা শুধু হালকা হাঁটা ও স্ট্রেচিং করাই যথেষ্ট হতে পারে।
পানি ও পুষ্টির দিকে খেয়াল রাখুন: ব্যায়ামের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়াও জরুরি। বিশেষ করে অতিরিক্ত রক্তপাত হলে শরীরে আয়রনের ঘাটতির ঝুঁকি থাকতে পারে—তাই খাদ্যতালিকায় আয়রনসমৃদ্ধ খাবার রাখার বিষয়ে সচেতন থাকা ভালো।
কখন ব্যায়াম বন্ধ করবেন?
ব্যায়ামের সময় মাথা ঘোরা, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট, তীব্র ব্যথা বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে ব্যায়াম বন্ধ করে বিশ্রাম নিন। পিরিয়ডে অস্বাভাবিক বেশি রক্তপাত বা অসহনীয় ব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—পিরিয়ডের সময় ব্যায়ামের ক্ষেত্রে সবার জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। নিজের শরীরের অবস্থা বুঝে ব্যায়ামের ধরন ও তীব্রতা ঠিক করাই সবচেয়ে ভালো। ব্যায়াম করা ভালো অভ্যাস, তবে শরীরের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি চাপ দেওয়া কখনোই লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়।
তথ্যসূত্র: Office on Women’s Health (U.S. Department of Health & Human Services)