স্তনে হঠাৎ কোনো চাকা বা গুটি অনুভব হলে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক তৈরি হয়—এটি কি ক্যানসারের লক্ষণ? চিকিৎসাবিজ্ঞানের উত্তর হলো, না। স্তনে চাকা হওয়া মানেই ক্যানসার নয়। আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, স্তনের বেশির ভাগ গুটিই ক্যানসারবিহীন বা বিনাইন। তবে নতুন কোনো চাকা অনুভূত হলে সেটিকে অবহেলা করাও ঠিক নয়। কারণ পরীক্ষা ছাড়া বোঝার উপায় নেই, গুটিটি নিরীহ নাকি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখার মতো।
দেখে নিন কী কারণে স্তনে চাকা হতে পারে?
যুক্তরাষ্ট্রের মায়ো ক্লিনিক-এর চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, স্তনে গুটি হওয়ার বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে—
ফাইব্রোঅ্যাডেনোমা: সাধারণত ক্যানসারবিহীন শক্ত গুটি; তুলনামূলকভাবে কম
বয়সীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।
ব্রেস্ট সিস্ট: তরলভর্তি থলি, যা অনেক সময় মাসিকের সঙ্গে আকারে পরিবর্তিত
হতে পারে।
লিপোমা: চর্বিযুক্ত টিস্যুর তৈরি সাধারণ গুটি দেখা যায়।
মাস্টাইটিস বা সংক্রমণ: বিশেষ করে স্তন্যদানকালে স্তনে ব্যথা, লালচে ভাব
ও গুটি হতে পারে।
এছাড়া আঘাত বা অস্ত্রোপচারের পরও স্তনে কিছু ধরনের গুটি তৈরি হতে পারে।
তাহলে কোন গুটি নিয়ে বেশি সতর্ক হতে হবে?
শুধু গুটির আকার, ব্যথা বা শক্তভাব দেখে ক্যানসার নিশ্চিত করা যায় না।
তবে নতুন গুটি শক্ত ও স্থির মনে হলে, কয়েক সপ্তাহেও না কমলে বা আকার ও অনুভূতিতে পরিবর্তন
হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি। মায়ো ক্লিনিক পরামর্শ দিয়েছে বিশেষভাবে নতুন,
শক্ত বা স্থির গুটি এবং ৪–৬ সপ্তাহেও থেকে যাওয়া গুটি পরীক্ষা করানোর।
এর পাশাপাশি নিচের পরিবর্তনগুলো থাকলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে—
১. স্তনের ত্বকে টান পড়া বা ছোট ছোট গর্তের মতো পরিবর্তন
২. স্তনের আকার বা আকৃতিতে নতুন পরিবর্তন
৩. নিপল ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়া
৪. নিপল থেকে অস্বাভাবিক, বিশেষ করে রক্তমিশ্রিত তরল বের হওয়া, বগলে নতুন
গুটি বা ফোলা
৫. স্তনের ত্বকের রং বা গঠনে পরিবর্তন।
কীভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়?
চাকা অনুভব করলেই সরাসরি ক্যানসার ধরে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। আবার শুধু হাতে
স্পর্শ করে অবহেলা করাও ঠিক নয়। চিকিৎসক প্রথমে স্তন ও আশপাশের অংশ পরীক্ষা করবেন।
প্রয়োজন অনুযায়ী ম্যামোগ্রাম বা আল্ট্রাসাউন্ড করা হতে পারে। সন্দেহ থাকলে বায়োপসি
করে গুটির কোষ পরীক্ষা করা হয়। এনএইচএস (NHS)-এর তথ্য অনুযায়ী, এসব পরীক্ষা করার পর
অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে গুটিটি ক্যানসার নয়।
ব্যথা না থাকলেই গুটি নিরাপদ—এমন ধারণাও ভুল।
আবার ব্যথা থাকলেই ক্যানসার—এটিও ঠিক নয়। স্তনের অনেক নিরীহ সমস্যাতেও
ব্যথা বা অস্বস্তি হতে পারে। তাই গুটির প্রকৃতি বোঝার সবচেয়ে নিরাপদ পথ হলো চিকিৎসকের
শারীরিক পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ইমেজিং/ল্যাব পরীক্ষা। আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটিও বলছে,
বেশির ভাগ ব্রেস্ট লাম্প বিনাইন হলেও প্রতিটি নতুন গুটি বা অস্বাভাবিক পরিবর্তন স্বাস্থ্যকর্মীর
মাধ্যমে পরীক্ষা করানো উচিত।
সূত্র: মায়ো ক্লিনিক, আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটি, এনএইচএস
ঢাকা/টিএ