গ্যাস্ট্রিক ভেবে পাকস্থলীর ক্যানসারকে অবহেলা করছেন না তো?

প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

পেটে জ্বালাপোড়া, বদহজম, ঢেকুর, পেট ফাঁপা কিংবা খাওয়ার পর অস্বস্তি—এমন সমস্যাকে আমরা প্রায়ই ‘গ্যাস্ট্রিক’ বলে এড়িয়ে যাই। প্রয়োজন হলে ওষুধ খেয়ে কিছুদিন স্বস্তিও পাই। কিন্তু একই ধরনের সমস্যা যদি বারবার ফিরে আসে, তখন একটু সতর্ক হওয়া জরুরি। কারণ পাকস্থলীর ক্যানসারেও শুরুতে গ্যাস্ট্রিক বা বদহজমের মতো সাধারণ উপসর্গ দেখা দিতে পারে।


কোন লক্ষণগুলোকে গুরুত্ব দেবেন?


পাকস্থলীর ক্যানসারের সম্ভাব্য সতর্কসংকেতগুলোর মধ্যে রয়েছে—


১. দীর্ঘদিন ধরে বদহজম বা পেটে অস্বস্তি থাকা


২. অল্প খাবারেই পেট ভরে যাওয়ার অনুভূতি


৩. ক্ষুধা কমে যাওয়া


৪. বারবার বমি বা বমি বমি ভাব


৫. পেটের ওপরের অংশে ব্যথা বা অস্বস্তি


৬. কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া


৭. খাবার গিলতে অসুবিধা


৮. তিরিক্ত দুর্বল বা ক্লান্ত লাগা


৯. কালো পায়খানা বা বমির সঙ্গে রক্ত আসা


তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এসব উপসর্গ থাকলেই যে পাকস্থলীর ক্যানসার হয়েছে, তা নয়। গ্যাস্ট্রিক, আলসার, সংক্রমণসহ বিভিন্ন সাধারণ রোগেও একই ধরনের লক্ষণ দেখা দিতে পারে।


কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?


কোনো উপসর্গ দীর্ঘদিন ধরে থাকলে, বারবার ফিরে এলে বা সময়ের সঙ্গে বাড়তে থাকলে নিজের মতো করে শুধু ‘গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ’ খেয়ে না থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে অকারণে ওজন কমে যাওয়া, রক্তপাতের লক্ষণ, বারবার বমি, খাবার গিলতে সমস্যা বা তীব্র ও স্থায়ী পেটব্যথা থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। প্রয়োজনে চিকিৎসক এন্ডোস্কোপিসহ বিভিন্ন পরীক্ষা করে সমস্যার কারণ নির্ণয় করতে পারেন।


তাই পেটের সমস্যাকে সবসময় গ্যাস্ট্রিক বলে উড়িয়ে দেবেন না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এর কারণ গুরুতর নয়, কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী বা অস্বাভাবিক পরিবর্তন হলে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।


সচেতনতা রোগ নির্ণয় নয়—তবে সময়মতো চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করতে পারে।


তথ্যসূত্র: আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটি

sidebar ad