জীবন কতটা অনিশ্চিত!
মাত্র কয়েক দিন আগেও তিনি ছিলেন একজন মা।
হাসিমুখে কোলে নিয়েছিলেন দ্বিতীয় সন্তানকে। হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার সময় ফুল দিয়ে তাঁকে বরণ করে নেওয়া হয়েছিল।
স্বামীর ফেসবুক ওয়ালে রয়ে গেছে সেই আনন্দময় মুহূর্তের ছবিগুলো।
অথচ আজ সেই হাসিমুখের মানুষটি নেই। সাদা কাফনে ঢাকা তাঁর নিথর শরীর।
একটি পরিবারের আনন্দ মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে কীভাবে শোকের গল্প হয়ে যেতে পারে এমন ঘটনা আমাদের আবারও মনে করিয়ে দেয়, সন্তান জন্মের সঙ্গে মায়ের ঝুঁকি সবসময় শেষ হয়ে যায় না।
এর একটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে Postpartum Stroke সন্তান জন্মের পর স্ট্রোক।
সন্তান জন্মের পরও সতর্কতা জরুরি:
গর্ভাবস্থায় নারীর শরীরে রক্তের পরিমাণ, রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা এবং রক্তচাপসহ নানা শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন ঘটে।
এসব পরিবর্তনের প্রভাব প্রসবের পরও কিছু সময় থাকে।
গবেষণায় দেখা যায়, pregnancy-associated stroke বিরল হলেও গর্ভাবস্থা ও postpartum period-এ স্ট্রোকের ঝুঁকি সাধারণ সময়ের তুলনায় বাড়তে পারে। বিশেষ করে প্রসবের পর প্রথম কয়েক সপ্তাহ গুরুত্বপূর্ণ।
কিছু গবেষণায় প্রায় ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত বাড়তি ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে।
তাই বাচ্চা হয়ে গেছে, এখন আর কোনো ঝুঁকি নেই। এই ধারণা ঠিক নয়।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
বিশেষ করে যাদের রয়েছে
-উচ্চ রক্তচাপ
-preeclampsia বা eclampsia
-gestational hypertension
-gestational diabetes
-chronic kidney disease
-রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা
migraine-এর ইতিহাস
-ধূমপানের অভ্যাস
-কিছু pregnancy-related blood disorder
-তাদের বাড়তি সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
সিজারিয়ান delivery-এর সঙ্গেও postpartum stroke-এর বাড়তি ঝুঁকির association কিছু গবেষণায় পাওয়া গেছে। তবে সিজারিয়ান নিজেই সবসময় স্ট্রোকের কারণ এমন সিদ্ধান্ত ঠিক নয়।
pregnancy complications এবং delivery-এর কারণও এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
যে লক্ষণগুলো কখনো অবহেলা করবেন না:
প্রসবের পর হঠাৎ।
তীব্র বা অস্বাভাবিক মাথাব্যথা।
দৃষ্টিতে ঝাপসা বা অন্য পরিবর্তন।
মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া।
এক হাত বা পা দুর্বল/অবশ হয়ে যাওয়া।
কথা জড়িয়ে যাওয়া।
হঠাৎ মাথা ঘোরা বা ভারসাম্য হারানো।
খিঁচুনি বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া।
এসব দেখা দিলে ঘুমের অভাব’, দুর্বলতা বা ‘ডেলিভারির পরের স্বাভাবিক সমস্যা ভেবে অপেক্ষা করা উচিত নয়।
Stroke-এর ক্ষেত্রে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া জীবন বাঁচাতে পারে।
নতুন মায়ের যত্ন মানে শুধু শিশুর যত্ন নয়।
সন্তান জন্মের পর সবাই সাধারণত শিশুটিকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
কিন্তু মাকেও জিজ্ঞেস করতে হবে
‘তুমি কেমন আছ?’
‘মাথা ব্যথা করছে?’
‘চোখে ঠিকমতো দেখছ?’
‘রক্তচাপ মাপা হয়েছে?’
বিশেষ করে যাদের pregnancy-তে উচ্চ রক্তচাপ বা preeclampsia ছিল, তাদের postpartum follow-up অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গর্ভাবস্থা কোনো রোগ নয়। মাতৃত্বও ভয় পাওয়ার বিষয় নয়। কিন্তু এটি শরীরের জন্য একটি বড় শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তনের সময়। তাই প্রয়োজন ভয় নয়, সচেতনতা।
একটি শিশুর জন্ম যেন আরেকটি জীবন হারানোর কারণ না হয়।
মা ও শিশুর নিরাপত্তা দুটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ। সব pregnancy নিরাপদ হোক।
সব মা সুস্থ থাকুন।
কোনো শিশুকে যেন মায়ের ভালোবাসা হারিয়ে বড় হতে না হয়।
ঢাকা/টিএ