শুধু মা হওয়ার জন্য বিয়ে করা প্রয়োজনীয় নয়: রাইমা সেন

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

অভিনয় যেন রাইমা সেনের রক্তেই মিশে আছে। মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের নাতনি এবং অভিনেত্রী মুনমুন সেনের মেয়ে হিসেবে ছোটবেলা থেকেই তিনি বেড়ে উঠেছেন চলচ্চিত্রের আবহে। সেই পারিবারিক ঐতিহ্যের পথ ধরেই ভারতীয় সিনেমায় নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন রাইমা। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে নানা ধরনের চরিত্রে দেখা গেছে তাকে।


৪৭ বছর পেরিয়েও ব্যক্তিজীবনে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেননি এই অভিনেত্রী। তবে বিয়ে না করা মানেই মাতৃত্ব নিয়ে তার কোনো ভাবনা নেই—বিষয়টি এমন নয়। বরং সন্তান ও মাতৃত্ব নিয়ে নিজের ভাবনা বেশ খোলামেলাভাবেই জানিয়েছেন রাইমা।


মা হওয়ার ইচ্ছা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে অভিনেত্রী জানান, তিনি শিশুদের খুব ভালোবাসেন। তবে শুধু ভালোবাসাই যে একটি শিশুর দায়িত্ব নেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়, সেটিও উপলব্ধি করেন তিনি। একটি শিশুকে বড় করে তোলার দায়িত্ব কতটা কঠিন, তা নিয়েও তার মধ্যে রয়েছে সংশয়।


রাইমার কথায়, সন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব তিনি ঠিকভাবে সামলাতে পারবেন কি না, সেটি নিয়ে তার ভয় রয়েছে। অর্থাৎ মাতৃত্বকে তিনি কেবল আবেগের জায়গা থেকে দেখছেন না; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্ব, সময় এবং যত্নের বিষয়গুলোকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন।


তবে ভবিষ্যতে তার সিদ্ধান্ত বদলাতেও পারে—সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি অভিনেত্রী। আর ভবিষ্যতের সেই সম্ভাবনাকে মাথায় রেখেই তিনি আগেভাগে নিজের ডিম্বাণু সংরক্ষণ বা এগ ফ্রিজ করিয়ে রেখেছেন বলে জানিয়েছেন। ফলে মাতৃত্বের দরজা তিনি পুরোপুরি বন্ধ করে দেননি, বরং নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়টুকু নিজের হাতেই রাখতে চেয়েছেন।


রাইমার বক্তব্যের আরেকটি দিক বিশেষভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তার কাছে শুধুমাত্র মা হওয়ার জন্য বিয়ে করা প্রয়োজনীয় নয়। অর্থাৎ মাতৃত্ব এবং বিয়েকে তিনি একই সিদ্ধান্তের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে যুক্ত করে দেখছেন না।


সমাজে এখনও অনেক ক্ষেত্রেই নারীর জীবনের সঙ্গে বিয়ে ও মাতৃত্বকে একসঙ্গে দেখার প্রবণতা রয়েছে। নির্দিষ্ট বয়সের পর বিয়ে না করলে কিংবা সন্তান না নিলে একজন নারীকে ঘিরে নানা প্রশ্নও তৈরি হয়। সেই প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে রাইমার বক্তব্যে উঠে এসেছে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ও নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের মতো করে ভাবার বিষয়টি।


তার সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হওয়া বা না হওয়া ব্যক্তিগত বিষয়। তবে নিজের জীবন, সম্পর্ক কিংবা মাতৃত্ব নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে একজন নারীর নিজের ইচ্ছা, প্রস্তুতি ও বাস্তব পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দেওয়ার যে প্রয়োজন রয়েছে, রাইমার বক্তব্য সেই আলোচনাকেই সামনে এনেছে।


অভিনেত্রীর জীবনেও তাই এখন বিয়ের চেয়ে নিজের কাজ, নিজের পছন্দ এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনাগুলোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মাতৃত্বের সিদ্ধান্ত যদি কখনো নেন, সেটিও যে নিজের সময় ও প্রস্তুতি অনুযায়ী নিতে চান—তার কথায় সেই ইঙ্গিতই স্পষ্ট।

sidebar ad