জাপানি নারীদের টাকা জমানোর ৭ কৌশল

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

কম বেশি সব জাপানি নারী কিছু কৌশল মেনে অর্থ সঞ্চয় করেন। তাদের পরিবারে নারীরা পারিবারিক অর্থ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন—এমন গবেষণাও আছে।



দেখে নিন জাপানি নারীদের টাকা জমানোর ৭ কৌশল—যা আপনিও অনুসরণ করতে পারেন


টাকা আয় করা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, আয় করা টাকা ধরে রাখার অভ্যাসও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। জাপানি জীবনযাত্রার একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো পরিকল্পিত খরচ ও ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়ের প্রবণতা। বিভিন্ন জরিপে জাপানি পরিবারগুলোর সঞ্চয়ের অন্যতম বড় কারণ হিসেবে অবসরকাল, অসুস্থতা ও জরুরি পরিস্থিতির প্রস্তুতির কথা উঠে এসেছে।


১. আগে সঞ্চয়, পরে খরচ: বেতন হাতে পাওয়ার পর বাকি টাকা সঞ্চয় করার পরিবর্তে সঞ্চয়ের টাকা আগে আলাদা করে রাখার অভ্যাস করুন। এরপর অবশিষ্ট অর্থ দিয়ে মাসের খরচ পরিচালনা করুন।



২. প্রতিটি খরচের হিসাব রাখুন: জাপানে জনপ্রিয় ‘কাকেইবো’ পদ্ধতির মূল দর্শন হলো—কোথায়, কেন এবং কত টাকা খরচ হচ্ছে তা সচেতনভাবে লিখে রাখা। মাসের শুরুতেই আয় ও সম্ভাব্য খরচের হিসাব করলে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ধরা সহজ হয়।


৩. ‘প্রয়োজন’ আর ‘ইচ্ছা’ আলাদা করুন: কোনো কিছু কেনার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন—“এটি কি সত্যিই প্রয়োজন, নাকি শুধু ভালো লাগছে বলে কিনছি?” এই ছোট প্রশ্নটি impulsive shopping কমাতে সাহায্য করতে পারে।


৪. ছোট ছোট খরচকে গুরুত্ব দিন: প্রতিদিনের কফি, বাইরে নাশতা, অনলাইন শপিং কিংবা অপ্রয়োজনীয় সাবস্ক্রিপশন—একেকটি খরচ ছোট মনে হলেও মাস শেষে বড় অঙ্ক দাঁড়াতে পারে। তাই ছোট খরচগুলোও নজরে রাখুন।


৫. নির্দিষ্ট লক্ষ্যে সঞ্চয় করুন: শুধু ‘টাকা জমাব’ বললে অনেক সময় সঞ্চয় ধরে রাখা কঠিন হয়। বরং লক্ষ্য ঠিক করুন— জরুরি তহবিল, সন্তানের শিক্ষা, বাড়ি, ভ্রমণ কিংবা অবসর জীবন। লক্ষ্য নির্দিষ্ট থাকলে সঞ্চয়ের প্রতি দায়বদ্ধতা বাড়ে।


৬. কেনাকাটায় পরিকল্পনা রাখুন: প্রয়োজনের তালিকা তৈরি করে বাজারে যাওয়া, ছাড় দেখেই সবকিছু না কেনা এবং ঘরে থাকা জিনিসের পুনরায় তালিকা না করা—এসব অভ্যাস অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাতে পারে।


৭. ভবিষ্যতের জন্য ‘নিরাপত্তার টাকা’ রাখুন: জাপানি পরিবারগুলোর সঞ্চয়ের অন্যতম বড় উদ্দেশ্য ভবিষ্যতের নিরাপত্তা। একটি জরুরি তহবিল তৈরি করা তাই গুরুত্বপূর্ণ। হঠাৎ অসুস্থতা, চাকরি হারানো বা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে এই অর্থ কাজে আসতে পারে।


ঢাকা/আরএস

sidebar ad