ছবির পাতায় মাতৃত্বের গল্প

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬

ছবির পাতায় মাতৃত্বের গল্প

নিজের জীবনের কোন মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে আমরা তা ক্যামেরা বন্দী করে রাখি। জন্মদিন বা বিয়ে অথবা হোক কোন গ্যাদারিং পার্টি সবকিছুই আমরা ক্যাপচার করে রাখি। তেমনি মাতৃত্ব চলাকালীন সময়কে স্মৃতির পাতায় তা ধরে রাখার জন্য করা হয় মাতৃত্বকালীন ফটোশুট। 


গর্ভাবস্থা একটি সুন্দর জিনিস। গর্ভধারনের ৯টি মাস একজন নারীর জীবনের সবচেয়ে রুপান্তরকারী এবং অলৌকিক একটি জার্নি। নিজের ভেতর আরেকটি প্রাণের সঞ্চার, যার কোন তুলনা হয়না। পার করে দেয়া এই দীর্ঘ জার্নির কিছুটা সময়কে মুঠোবন্দী করে রাখার বিষয়টি দিন দিন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। দেশে বাহিরে বেবি বাম্প দেখিয়ে এই ধরনের ছবি তোলার চল অনেক আগে থেকেই প্রচলন থাকলেও আমাদের দেশে ব্যাপারটি ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। ক্রমবর্ধমান বেবি বাম্পের সৌন্দর্যকে ক্যাপচার করে এবং মা ও শিশুর একতা ফুটে উঠে এসব সেশনগুলোতে। তারকা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সবাই এই যাত্রা ধরে রাখছেন নিজেদের স্মৃতির পাতায়। 


একটি পারফেক্ট ম্যাটারনিটি শুট করতে কি লাগে? এর জবাব হলো ইতিবাচক মনোভাব, ভালো ফটোগ্রাফার, কিছু পরিকল্পনা এবং পর্যাপ্ত আলোকব্যবস্থা। এগুলোর সংমিশ্রণ এবং সাথে নিজেকে রাখতে হবে হাসিখুশি এবং প্রাণবন্ত। তবেই সবকিছুর মিশেলে পাওয়া যাবে নিজের আকাঙ্ক্ষিত ফটোশুট। এই সময়ে নারীর শরীরে যে পরিবর্তন আসে, তা এক অনন্য সৌন্দর্যের প্রতীক। ফটোশুট হবু মায়েদের নিজেদের বডি ইমেজ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ও স্পেশাল বোধ করতে সাহায্য করে।   


ফটোশুটের জন্য সঠিক সময় কখন? 


বেশিরভাগ ফটোগ্রাফার গর্ভাবস্থার ২৮ থেকে ৩৬ সপ্তাহ এর মধ্যে ফটো সেশনের পরামর্শ দেন। এটি সপ্তম মাসের প্রথম দিকে, কিন্তু অষ্টম মাসের শেষের দিকে নয়। তৃতীয় ত্রৈমাসিকের চারপাশে এই সময়টি সেরা সময়সীমা। এই সময় বেবি বাম্প খুব সুন্দরভাবে বোঝা যায় এবং হবু মায়ের জন্য খুব বেশি ক্লান্তিকরও হয়না। ফটো তোলার সময় দাঁড়ানো বা পোজ করা কম ঝক্কির হয়। ৯ মাসের দিকে ক্লান্তি ও অস্বস্তি বেড়ে যায়, তাই একটু আগেই শুটের পরিকল্পনা করে ফেলা বুদ্ধিমানের কাজ। 


নিখুঁত ছবির দারুন কিছু আইডিয়া


সবচেয়ে ভালো হয় ফটোশুট যদি বাইরের পরিবেশে করা হয়। সূর্য ডোবার নরম আলোয় যা গোল্ডেন আওয়ার নামে পরিচিত, কোনো পার্ক, নদী বা বাগানে শুট করলে ছবিগুলো দূর্দান্ত এবং জীবন্ত দেখায়। আউটডোর শুটের ক্ষেত্রে আলোকব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সূর্যোদয়ের কয়েক ঘন্টার পর এবং সূর্যাস্তের কয়েক ঘন্টা আগে, দিনের সেরা সময়ে শুটিং করে ফেলা ভালো। আর যদি বাইরে যেতে ক্লান্তি লাগে, তবে স্টুডিও বা বাসায় নিজের ঘরের চেনা পরিবেশেই শুট করতে পারেন। বিছানায় বসে বই পড়া, বাচ্চার ছোট জুতা বা জামা নিয়ে অপেক্ষা করা; এই ধরনের ছবিগুলো খুব ইমোশনাল হয়ে থাকে। ইনডোরে শুটের ক্ষেত্রে কোন ধরনের আলো এবং ডিজাইন ফোকাসে আসবে তা আগে থেকে নির্ধারন করে রাখতে হবে। 


মিনিমালিস্ট বা ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট এই থিমটা দিয়েও কাজ করা যেতে পারে। সাদাকালো ছবির একটি আলাদা গভীরতা আছে। আলো ছায়ার খেলায় বেবি বাম্পের অবয়ব ফুটিয়ে তুললে তা অত্যন্ত ক্লাসিক দেখায়। 

প্রপস হিসেবে আল্ট্রাসাউন্ডের ছবি, অনাগত সন্তানের প্রথম জুতো, নরম খেলনা বা বিভিন্ন লেখাযুক্ত প্ল্যাকার্ড ব্যবহার করে ছবিকে আরও অর্থবহ করা যায়। এছাড়াও আরও সন্তান থাকলে তাদের সাথে কয়েকটি শটে পোজ দেয়া যেতে পারে। বেশিরভাগই মায়ের পেটে হাত এবং চোখ ফোকাস করতে পছন্দ করেন।


এবার আসি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন প্রসঙ্গে। আর তা হলো পোশাক নির্বাচন। গর্ভাবস্থায় ফটোশুটের প্ল্যানিং যখন করা হবে তখন পোশাকের চিন্তা সবার আগে মাথায় আনতে হবে। এমন পোশাক নির্বাচন করতে হবে যাতে নিজেকে সুন্দর ও আরামদায়ক অনুভব হয়। এই ক্ষেত্রে বেছে নিতে পারেন লং ফ্লোয়িং গাউন বা ম্যাক্সি ড্রেস। যা সুন্দর দেখানোর পাশাপাশি আরামবোধ করায়। ডিজাইনের ক্ষেত্রে লেইস, এক রঙয়ের বা ফ্লোরাল প্রিন্ট বাছাই করা যেতে পারে।  এছাড়াও, শাড়িও বেছে নিতে পারেন। শাড়ির ক্ষেত্রে ভারী বা হিবিজিবি ডিজাইনের না নিয়ে  পাতলা পাড় এবং কম ডিজাইনের বেছে নিতে হবে। ত্বকের রঙের সাথে মানানসই হালকা বা প্রাণবন্ত রঙ নিলে ভালো হবে। মাথায় হাত খোঁপা করে হালকা ফুল গুঁজে দিলে স্নিগ্ধ দেখাবে। 


ম্যাটারনিটি ফটোগ্রাফি মানে শুধু দামি ক্যামেরা আনলাম আর কিছু পোজ দিয়ে দিলাম, তা নয়। এটি হলো একটি ভালোবাসার গল্পকে ফ্রেমে আবদ্ধ করে রাখা। একটি দুর্দান্ত শুট নিশ্চিত করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো সমস্ত প্রক্রিয়া চলাকালীন গর্ভবতী যিনি তার আরামদায়কতা নিশ্চিত করা। এই আরামদায়কতা নির্ভর করে পোশাক, দৃশ্যাবলী এবং ফটোগ্রাফারের উপর। স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করলেই তবেই বিশেষ কিছু মুহূর্ত স্মরণীয় হয়ে থাকবে।


লেখা: শায়লা জাহান

sidebar ad