এক শাড়ি, নানা স্টাইল: বদলে দিন ড্রেপিং, বদলে যাবে লুক

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

শাড়ি নারীর এমন এক ভূষণ যা গায়ে জড়াতেই এক অন্যরকম লুক সংযোজন করে। যে কোন উপলক্ষেই নারীর পছন্দের তালিকায় থাকে শাড়ি। কালের বিবর্তনে বদলেছে  শাড়ির পাড়-আঁচল, বুনন এবং পরিধান কৌশল। শাড়ি এখন আর নিছক ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সীমাবদ্ধ নেই, এর নিখুঁত এবং অনন্য চেহারা পেতে এর সাথে চলে নানা এক্সপেরিমেন্টের।


একই শাড়ি, অথচ পরার ধরন বদলালেই বদলে যায় পুরো লুক। কখনো কুঁচি সামনে তো কখনো আঁচল কাঁধে গুজে দেওয়া। আবার কখনো কোমরের চারপাশে ভিন্ন ভঙ্গি, শাড়ি যেন একই সঙ্গে ঐতিহ্য আর ব্যক্তিত্ব প্রকাশের ভাষা হিসেবে কাজ করে।

 

শাড়ির ভিন্ন ভিন্ন পরার কৌশল:


কোমরের চারপাশে শাড়ি জড়ানোর সবচেয়ে সাধারণ পদ্ধতি থেকে শুরু করে বেশ কয়েকটি পদ্ধতিতে প্যাঁচিয়ে পড়া যেতে পারে, যদিও ক্ষেত্রবিশেষ কিছু শৈলীর জন্য নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্য বা আকারের শাড়ি প্রয়োজন। শাড়ির ইতিহাসবিদ এবং স্বীকৃত বস্ত্রশিল্প পণ্ডিত রতা কাপুর চিশতি তার ‘শাড়িসঃ ট্র্যাডিশন অ্যান্ড বিয়ন্ড’ গ্রন্থে শাড়ি পরিধানের ১০৮টি পদ্ধতি নথিভুক্ত করেছেন।


চলুন, পরিচিত শাড়িকেই একটু ভিন্নভাবে পরার কয়েকটি স্টাইল দেখে নেওয়া যাক।

 

সিডিউড ড্রেপ:


অফিস, অনুষ্ঠান কিংবা পার্টি, যারা শাড়িতে একটু স্মার্ট ও গোছানো লুক চান, তাদের জন্য সিডিউড বা নিখুঁতভাবে প্লিট করা ড্রেপিং হতে পারে দারুণ পছন্দ। এখানে কুঁচি ও আঁচল তুলনামূলকভাবে পরিপাটি থাকে, ফলে চলাফেরাতেও স্বাচ্ছন্দ্য পাওয়া যায়।


সিম্পল ব্লাউজ, মিনিমাল গয়না ও ছোট হ্যান্ডব্যাগের সঙ্গে এই স্টাইল তৈরি করতে পারে মার্জিত লুক।

 

বেল্ট স্টাইল :


বেল্টের শাড়ি স্টাইলও বেশ জনপ্রিয়। সাধারণভাবেই শাড়িটি পরতে হবে এবং সাথে একটি বেল্ট যোগ করতে হবে, যা আঁচলকে নিয়ে কোমরে জড়িয়ে থাকবে। যদি আরেকটু ঐতিহ্যবাহী চেহারা পেতে চান, তবে কোমরে কোমরবান্ধও ব্যবহার করতে পারেন।


এই ধরনের স্টাইল শিফন, সিল্ক কিংবা শাটিন শাড়ির সাথে অনায়াসে করা যাবে। শাড়ি সুন্দরভাবে সেট হয়ে থাকার পাশাপাশি স্টাইলিশও দেখাবে। ভারী গয়নার পরিবর্তে এ ক্ষেত্রে কম গয়না রাখলেই পুরো সাজটি বেশি ব্যালান্সড দেখায়।


ধুতি স্টাইল :


এর স্বতন্ত্র চেহারার জন্য এটিও বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। নিচের দিকে ধুতি-স্টাইলের বুননের জন্য এটি ঐতিহ্যবাহী শাড়ি থেকে আলাদা। ভালো ড্র্যাপিংয়ের উদ্দেশ্যে এই স্টাইলে শাড়ির নিচে পেটিকোটের পরিবর্তে একটি লেগিংস পরতে হবে। শাড়ি কোমরে না পেঁচিয়ে পায়ের মাঝে ভরে ধুতির মতো করে পরতে হবে। এতে চলাফেরায় স্বাচ্ছন্দ্য দেয় এবং লুকে আনে শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী ভাব। প্রয়োজনে এর সাথে বেল্টও যোগ করা যেতে পারে।


 

গুজরাটি স্টাইল :


গুজরাটি ড্রেপিংয়ে শাড়ির আঁচল সামনে এনে সাজানো হয়। এতে শাড়ির আঁচলটি বাম কাঁধে নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে, পিছন থেকে ঘুরিয়ে ডান কাঁধে নিয়ে যেতে হবে এবং আঁচলের প্লীটগুলো সামনে ছড়িয়ে দেয়া হয়। ফলে আঁচলের নকশা ও পাড় বেশ ভালোভাবে দৃশ্যমান থাকে। জমকালো পাড় বা সুন্দর কারুকাজের শাড়ির সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে এই স্টাইল বেশ আকর্ষণীয়। বিয়ে, পূজা কিংবা কোনো ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানে এই ড্রেপিং আলাদা মাত্রা যোগ করতে পারে।



মারমেইড স্টাইল :


ড্র্যাপিংয়ের এই স্টাইলটি প্লিটের নিচের অংশে ছড়িয়ে পড়ে, যা ঘুরেফিরে মারমেইডের লেজের মতো দেখায়। ড্রেপটি দেখতে অনেক কঠিন মনে হলেও এটির জন্য শুধুমাত্র কয়েকটি অতিরিক্ত টাক এবং প্লিট প্রয়োজন।

 

নেক স্টাইল :


এই স্টাইলে শাড়ির আঁচল স্কার্ফের মতো করে গলায় পেঁচাতে হবে। এই ধরন করতে হলে নরমালি  আঁচলের জন্য যতটুকু কাপড় রাখা হয় তার থেকে দৈর্ঘ্য আরও লম্বা রাখতে হবে। প্রথমে শাড়ি যেমনভাবে পরে সেভাবে পরার পর আঁচল মাথার পেছন থেকে ঘুরিয়ে গলায় আটকাতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে এই পেঁচানো যাতে খুব বেশি টাইট না হয়ে যায়।

 

লেহেঙ্গা স্টাইল :


যখন একটি শাড়ি দিয়েই আস্ত লেহেঙ্গা স্টাইল করা যায় তাহলে আর দামি লেহেঙ্গা কিনবেন কেন? এর দূর্দান্ত লুক আনার জন্য শাড়ির সাথে স্কার্ট বা লেহেঙ্গা স্টাইল পেটিকোট পরতে পারেন। এতে শাড়ির পরার ধরনে আরও ফ্লাফি দেখাবে। আঁচলের অংশটুকু সুন্দর ভাবে কাঁধে সেট করে, কুঁচির প্লিট সামনে না দিয়ে পেছনের দিকে আটকে দিতে হবে। শেষ অংশটি কোমরে আটকে দিলেই হয়ে যাবে লেহেঙ্গা স্টাইল শাড়ি।

 

শাড়ির সঙ্গে জ্যাকেট :


শাড়ি মানেই শুধু ব্লাউজ, এই ধারণাও এখন বদলে গেছে। শাড়ির সঙ্গে লম্বা জ্যাকেট, কেপ বা বেল্ট যোগ করে তৈরি করা যায় ফিউশন লুক। বিশেষ করে শীতের অনুষ্ঠান বা ফ্যাশনেবল সন্ধ্যার আয়োজনে এই স্টাইল বেশ মানানসই। তবে শাড়ি ও জ্যাকেটের রং এবং কাপড়ের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখা জরুরি।

 

মিনিমাল ড্রেপ :


সবসময় ভারী গয়না, জমকালো ব্লাউজ কিংবা জটিল ড্রেপিং প্রয়োজন নেই। সাদামাটা শাড়ি, গুছানো কুঁচি, স্বাভাবিকভাবে নেওয়া আঁচল এবং ছোট একটি কানের দুল; এতেই তৈরি হতে পারে অত্যন্ত মার্জিত লুক।

অফিস কিংবা দিনের কোনো অনুষ্ঠানের জন্য এই স্টাইল হতে পারে সবচেয়ে সহজ ও পরিশীলিত পছন্দ।

 

শাড়ির সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য এখানেই; একটি পোশাক, অথচ প্রকাশের ধরন অসংখ্য। আপনার স্বাচ্ছন্দ্য, ব্যক্তিত্ব ও অনুষ্ঠানের সঙ্গে যে ড্রেপিং সবচেয়ে বেশি মানানসই, সেটিই হতে পারে আপনার সেরা স্টাইল।


ঢাকা/টিএ

sidebar ad