কর্মক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছে। প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) ব্যবহার, বদলে দিচ্ছে কাজের ধরন, দক্ষতার চাহিদা ও পেশাগত পরিবেশ। তাই অনেকের মনেই এখন প্রশ্ন—এআইয়ের যুগে আমি কি টিকে থাকতে পারব?
বাস্তবতা হলো, পরিবর্তনকে এড়িয়ে নয়, বরং পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মেলাতে নিজের পুরোনো দক্ষতাকে আরও সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি প্রয়োজন নতুন দক্ষতা অর্জন করা। অর্থাৎ, সময়ের সঙ্গে নিজেকে রি-স্কিল ও আপ-স্কিল করে তোলাই হতে পারে কর্মজীবনে এগিয়ে থাকার অন্যতম চাবিকাঠি। কারণ ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে শুধু অভিজ্ঞতা নয়, পরিবর্তনের সঙ্গে শেখার ও নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার সক্ষমতাই বড় শক্তি হয়ে উঠবে।
আরও পড়ুন: কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে নারীরা পিছিয়ে, বাড়ছে চ্যালেঞ্জ
পরিবর্তনকে গ্রহণ করার সবচেয়ে শক্তিশালী উদাহরণ পাওয়া যায় সফল নারীদের জীবনেই। অভিনেত্রী ও উপস্থাপক অপরাহ উইনফ্রে তাঁর জীবনে বহুবার পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছেন। তিনি টেলিভিশন সাংবাদিকতা থেকে নিজের মিডিয়া সাম্রাজ্য তৈরি করেছেন।—পরিচিত গণ্ডির বাইরে বেরিয়ে আসার সাহসই তাঁর সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি।
লেখক মায়া অ্যাঞ্জেলোর কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। তাঁর কথাতেও পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দর্শন পাওয়া যায়। তাঁর ভাষায়, কোনো কিছু ভালো না লাগলে সেটি পরিবর্তন করতে হবে; আর যদি সেটি পরিবর্তন করা সম্ভব না হয়, তাহলে নিজের চিন্তার ধরন পরিবর্তন করতে হবে।
এই ভাবনাটি শুধু অনুপ্রেরণামূলক উক্তি নয়; জীবনের পরিবর্তনকে দেখার একটি মানসিক কাঠামোও হতে পারে। সব পরিস্থিতি নিজের ইচ্ছামতো বদলানো সম্ভব নয়। কিন্তু পরিস্থিতির সঙ্গে নিজের অবস্থান, দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রতিক্রিয়া বদলানো সম্ভব।
আরও পড়ুন: সাফল্যের শিখরে উঠতে উদ্যোক্তার ৯টি অপরিহার্য অভ্যাস
নারী যখন পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেন
নারী শুধু পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেন না, অনেক সময় পরিবর্তনের নেতৃত্বও দেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় নারীর অংশগ্রহণের পর কিছু প্রতিষ্ঠানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরণ আরও পরিবর্তনমুখী হয়েছে এবং ঝুঁকিনির্ভর অধিগ্রহণের বদলে গবেষণা ও উন্নয়নের দিকে বেশি মনোযোগ দেখা গেছে। অর্থাৎ নারী পরিবর্তনের পথে পিছিয়ে থাকেন—এমন ধারণা বাস্তবতার পুরো ছবিটি তুলে ধরে না।
বরং অনেক নারী পরিবর্তনকে গ্রহণ করেন হিসাব করে, পর্যবেক্ষণ করে এবং সম্ভাব্য ফলাফল বিবেচনা করে।
তাহলে কেন মনে হয় নারীরা সময় নেন?
এর পেছনে সামাজিক বাস্তবতাও গুরুত্বপূর্ণ। একজন পুরুষ নতুন চাকরি নিতে চাইলে হয়তো সিদ্ধান্তটি তার ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের বিষয় হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু একজন নারীর ক্ষেত্রে একই সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে সংসার, সন্তানের যত্ন, স্বামীর কর্মস্থল, বাবা-মায়ের দায়িত্ব কিংবা সামাজিক প্রত্যাশা।
ফলে তার সিদ্ধান্তের ‘মূল্য’ অনেক সময় বেশি হয়ে যায়। এ কারণেই নতুনকে গ্রহণের ক্ষেত্রে একজন নারী যদি একটু বেশি সময় নেন, সেটিকে ভয় বা অক্ষমতা হিসেবে না দেখে প্রেক্ষাপট দিয়ে বোঝা জরুরি।
নতুনকে স্বাগত জানানোর প্রথম ধাপ আত্মবিশ্বাস
পরিবর্তনকে গ্রহণ করার জন্য সবসময় বড় কোনো সাহসের প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন ছোট ছোট পদক্ষেপের। নতুন কিছু শেখা, নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া, পুরোনো অভ্যাসের বাইরে বেরিয়ে আসা কিংবা নিজের জন্য একটি নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া—এসবই পরিবর্তন গ্রহণের পাঠ।
উল্লেখ্য, সুযোগ ও সমর্থন পেলে নারী শুধু নতুনকে গ্রহণ করেন না; অনেক সময় তিনিই নতুন পথ তৈরি করেন।