“আমি সবসময় সেই মানুষকে সহকর্মী হিসেবে গ্রহণ করি, যার কাজ করার ইচ্ছা আছে, চেষ্টা আছে। চেষ্টা করে পারবে না, সেটা মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু চেষ্টা না করা, আমি এ ধরনের মানুষের সঙ্গে চলতে পছন্দ করি না।”—সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে কথাগুলো বলেছেন একটি স্বনামধন্য বিজ্ঞাপনী সংস্থার এমডি ত্রপা মজুমদার।
কর্মক্ষেত্রে নেতৃত্ব ও সহকর্মী নির্বাচনের ক্ষেত্রে এই কথাটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ একটি প্রতিষ্ঠানে প্রত্যেক কর্মীর দক্ষতা একরকম হবে না। কেউ অভিজ্ঞ, কেউ নতুন; কেউ দ্রুত শিখতে পারেন, কারও একটু বেশি সময় লাগে। কিন্তু শেখার ও চেষ্টা করার ইচ্ছা থাকলে একজন কর্মীর বিকাশের সুযোগ থাকে।
দক্ষতার চেয়ে চেষ্টা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
নতুন কোনো কর্মী প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়ার সময় তিনি হয়তো সব কাজ জানেন না। প্রতিষ্ঠানের নিয়ম, কাজের ধরন, টিমের সঙ্গে সমন্বয়—সবকিছু বুঝতে তাঁর সময় লাগতে পারে। একজন ভালো নেতৃত্ব সেখানে কর্মীর শেখার আগ্রহকে গুরুত্ব দিতে পারেন। কারণ দক্ষতা শেখানো যায়, অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায়। কিন্তু কাজের প্রতি অনীহা কিংবা দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার মানসিকতা বদলানো অনেক কঠিন।
ত্রপা মজুমদারের বক্তব্যের মূল জায়গাটিও এখানেই—চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়া গ্রহণযোগ্য, কিন্তু চেষ্টা না করা নয়।
একজন কর্মী কোনো কাজ করতে গিয়ে ভুল করতেই পারেন। নতুন দায়িত্বে প্রথমবার সফল নাও হতে পারেন। কিন্তু তিনি যদি ভুল থেকে শেখেন, পরেরবার আরও ভালো করার চেষ্টা করেন এবং প্রয়োজন হলে সাহায্য চান, তাহলে সেই কর্মীর মধ্যে সম্ভাবনা আছে।
ভুল করলে সমস্যা নয়, চেষ্টা না করাটাই সমস্যা
কর্মক্ষেত্রে ‘ভুল’ শব্দটি অনেক সময় কর্মীদের মধ্যে ভয় তৈরি করে। ফলে অনেকে নতুন কোনো দায়িত্ব নিতে চান না। মনে হয়, ভুল হলে বস কী ভাববেন? কিন্তু একটি সুস্থ কর্মপরিবেশে ভুলের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত ভুল থেকে শেখার মানসিকতা।
একজন কর্মী যদি কোনো কাজ করতে গিয়ে ব্যর্থ হন, তাঁকে প্রশ্ন করা যেতে পারে—তিনি কি চেষ্টা করেছিলেন? কোথায় সমস্যা হয়েছে? কীভাবে পরেরবার আরও ভালো করা যায়? এর বিপরীতে একজন কর্মী যদি কাজটি করার আগেই নানা অজুহাত খুঁজতে থাকেন, দায়িত্ব এড়িয়ে যান কিংবা চেষ্টা না করেন, তাহলে তাঁর ওপর আস্থা তৈরি করা কঠিন।
তাই কর্মক্ষেত্রে একজন কর্মীর মূল্যায়নে শুধু ফলাফল নয়, চেষ্টাটাও গুরুত্বপূর্ণ।
বসের কাছে কেমন কর্মী মূল্যবান?
ত্রপা মজুমদারের বক্তব্য ধরে বলা যায়, একজন কর্মীর কয়েকটি গুণ প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ মূল্য তৈরি করতে পারে—
কাজ করার ইচ্ছা: দায়িত্ব পেলে কাজটি করার মানসিক প্রস্তুতি থাকা।
চেষ্টা করার মানসিকতা: কাজটি কঠিন হলেও শুরু করার সাহস রাখা।
শেখার আগ্রহ: না জানলে শিখতে চাওয়া এবং প্রয়োজন হলে প্রশ্ন করা।
দায়িত্বশীলতা: কাজের দায়িত্ব নিয়ে সেটি শেষ করার চেষ্টা করা।
ভুল থেকে শেখা: ব্যর্থতার পর হাল ছেড়ে না দিয়ে কোথায় ভুল হয়েছে তা বোঝার চেষ্টা করা।
এই গুণগুলো একজন কর্মীকে শুধু বসের কাছে নয়, সহকর্মীদের কাছেও নির্ভরযোগ্য করে তুলতে পারে।
শুধু ‘পারব’ বললেই হবে না
কর্মক্ষেত্রে অনেক সময় আত্মবিশ্বাসী কথা বলা মানুষকে খুব দক্ষ মনে হয়। কিন্তু বাস্তবে কাজের সময় সেই আত্মবিশ্বাসের প্রমাণ দিতে হয়। ‘আমি পারব’ বলার পাশাপাশি কাজটি করার জন্য সময় দেওয়া, প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা, সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং প্রয়োজনে নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করাই আসল।
অন্যদিকে কেউ যদি বলেন, ‘আমি আগে কখনো করিনি, তাই পারব না’—তাহলে সেখানেই শেখার সুযোগটি বন্ধ হয়ে যায়। বরং বলা যেতে পারে, ‘আমি আগে করিনি, তবে শিখে করার চেষ্টা করব।’ এই মানসিকতার কর্মীই ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানের জন্য সম্পদ হয়ে উঠতে পারেন।