ওজন কম, তবু নীরবে বাড়ছে কোলেস্টেরল, বুঝবেন কীভাবে?

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

শরীরের ওজন কম, পেটেও বাড়তি মেদ নেই—তাই কোলেস্টেরল নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই, এমন ধারণা অনেকেরই। কিন্তু বাস্তবতা হলো, শরীরের ওজন কম হলেও রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। বাইরে থেকে সুস্থ দেখালেও ভেতরে ভেতরে বাড়তে পারে হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি।



কোলেস্টেরল হলো একধরনের চর্বিজাতীয় পদার্থ, যা শরীরের কোষ তৈরি ও বিভিন্ন হরমোন উৎপাদনে প্রয়োজন হয়। তবে রক্তে এর মাত্রা অস্বাভাবিক হয়ে গেলে, বিশেষ করে ক্ষতিকর এলডিএল (LDL) কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে, ধমনিতে চর্বিজাতীয় পদার্থ জমতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এমনটা চলতে থাকলে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।



ওজন কম হলেও কেন বাড়ে কোলেস্টেরল?


কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়ার পেছনে শুধু অতিরিক্ত ওজন দায়ী নয়। এর পেছনে থাকতে পারে কয়েকটি কারণ—



১. বংশগত কারণ: পরিবারের কারও উচ্চ কোলেস্টেরল থাকলে অন্য সদস্যদেরও এ সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। কিছু ক্ষেত্রে জিনগত কারণে অল্প বয়সেই কোলেস্টেরল অনেক বেড়ে যায়।



২. খাদ্যাভ্যাস: নিয়মিত অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাটযুক্ত খাবার, যেমন চর্বিযুক্ত মাংস, মাখন, ঘি এবং কিছু প্রক্রিয়াজাত খাবার খেলে এলডিএল কোলেস্টেরল বাড়তে পারে। ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবারও এ ক্ষেত্রে ক্ষতিকর।



৩. শারীরিক পরিশ্রমের অভাব: ওজন স্বাভাবিক থাকলেও দীর্ঘ সময় বসে থাকা এবং নিয়মিত ব্যায়াম না করার কারণে রক্তের চর্বির ভারসাম্য খারাপ হতে পারে।



৪. কিছু শারীরিক সমস্যা: থাইরয়েডের কার্যকারিতা কমে যাওয়া, ডায়াবেটিস এবং কিডনির কিছু রোগ কোলেস্টেরলের মাত্রাকে প্রভাবিত করতে পারে।



৫. বয়স ও জীবনযাপন: বয়স বাড়ার সঙ্গে কোলেস্টেরলের মাত্রা পরিবর্তিত হতে পারে। ধূমপান, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং পারিবারিক ইতিহাসও হৃদ্‌রোগের সামগ্রিক ঝুঁকিতে ভূমিকা রাখে।




কীভাবে বুঝবেন কোলেস্টেরল বাড়ছে?


সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, উচ্চ কোলেস্টেরলের সাধারণত কোনো স্পষ্ট লক্ষণ থাকে না। মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, দুর্বলতা কিংবা ক্লান্তি হলেই যে কোলেস্টেরল বেড়েছে, তা নয়। আবার কোনো উপসর্গ না থাকলেও রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকতে পারে।


তাই শুধু শরীরের ওজন, চেহারা কিংবা শারীরিক অনুভূতির ওপর নির্ভর করে কোলেস্টেরল সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় না।


কোলেস্টেরলের মাত্রা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শে লিপিড প্রোফাইল রক্ত পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। এ পরীক্ষায় সাধারণত মোট কোলেস্টেরল, এলডিএল, এইচডিএল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা দেখা হয়। কত ঘন ঘন পরীক্ষা প্রয়োজন, তা নির্ভর করে বয়স, পারিবারিক ইতিহাস, অন্যান্য রোগ ও সামগ্রিক হৃদ্‌রোগের ঝুঁকির ওপর।



কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখবেন কীভাবে?



শাকসবজি, ফল, ডাল, ওটস ও আঁশযুক্ত শস্য নিয়মিত খান।


মাছ, বাদাম ও পরিমিত পরিমাণে স্বাস্থ্যকর উদ্ভিজ্জ তেল বেছে নিন।


অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার কমান।


সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যকলাপের চেষ্টা করুন, শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী।


ধূমপান এড়িয়ে চলুন এবং ডায়াবেটিস ও থাইরয়েডের মতো সমস্যা থাকলে যথাযথ চিকিৎসা নিন।


চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ শুরু বা বন্ধ করবেন না।



কখন সতর্ক হবেন?


রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে গেলেই তাৎক্ষণিকভাবে কোনো লক্ষণ দেখা দেবে, এমন নয়। কিন্তু বুকে চাপ বা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট কিংবা হঠাৎ মুখ বেঁকে যাওয়া, এক পাশের হাত-পা দুর্বল হয়ে পড়া বা কথা জড়িয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।



কোলেস্টেরল বাড়ার ঝুঁকি নির্ধারণে ওজন একমাত্র মাপকাঠি নয়। শরীরের ওজন স্বাভাবিক হলেও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সুষম খাদ্যাভ্যাস ও সক্রিয় জীবনযাপন হৃদ্‌যন্ত্রকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।



তথ্যসূত্র: সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন

sidebar ad