ইরাকের নারীরা: যুদ্ধের ক্ষত, বৈষম্য আর অধিকার ফিরে পাওয়ার লড়াই

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট ও সামাজিক রক্ষণশীলতার দীর্ঘ ছায়া এখনো ইরাকের নারীদের জীবনকে প্রভাবিত করছে। কেউ লড়ছেন শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে নিজের জায়গা তৈরি করতে, কেউ পারিবারিক সহিংসতা থেকে বাঁচতে, আবার কেউ নিজের বিয়ে, পোশাক ও জীবনযাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রক্ষায়। একদিকে উচ্চশিক্ষিত ও কর্মজীবী নারীদের এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা, অন্যদিকে আইন ও সামাজিক বাস্তবতার নানা বাধা—সব মিলিয়ে ইরাকের নারীদের জীবন যেন এগিয়ে যাওয়া ও পিছিয়ে পড়ার এক জটিল গল্প।


মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরাকের ইতিহাসে যুদ্ধ, সংঘাত ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঘটনা নতুন নয়। কয়েক দশকের যুদ্ধ, সাদ্দাম হোসেনের শাসন, ২০০৩ সালের মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযান, পরবর্তী সাম্প্রদায়িক সংঘাত এবং ইসলামিক স্টেটের (আইএস) উত্থান—প্রতিটি অধ্যায়ই দেশটির সাধারণ মানুষের জীবনকে বদলে দিয়েছে। এর সবচেয়ে গভীর প্রভাব পড়েছে নারীদের জীবনে।


যুদ্ধের সময় স্বামী হারানো, পরিবারের দায়িত্ব একা বহন করা, বাস্তুচ্যুত হওয়া, যৌন সহিংসতার শিকার হওয়া কিংবা সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লড়াই—ইরাকের বহু নারীকে এসব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। যুদ্ধ শেষ হলেও তাঁদের জীবনের সংকট পুরোপুরি শেষ হয়নি। বরং নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, সামাজিক মর্যাদা ও ব্যক্তিগত অধিকার নিয়ে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ সামনে এসেছে।


যুদ্ধের ক্ষত এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন নারীরা


ইরাকের নারীদের বর্তমান বাস্তবতা বুঝতে হলে দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসের দিকে তাকাতে হয়। ২০১৪ সালে আইএসের উত্থানের পর দেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চল তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। বিশেষ করে ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের নারীরা ভয়াবহ নির্যাতন, অপহরণ, দাসত্ব ও যৌন সহিংসতার শিকার হন। বহু নারী তাঁদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। কেউ কেউ দীর্ঘ সময় বন্দিদশায় কাটানোর পর মুক্তি পান।


আইএসের নিয়ন্ত্রণ থেকে অঞ্চলগুলো মুক্ত হওয়ার পরও বাস্তুচ্যুত নারীদের জীবনে স্বাভাবিকতা ফেরেনি। অনেকের বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে, পরিবারের সদস্য নিখোঁজ, জীবিকার উৎস হারিয়ে গেছে। যাঁরা ফিরেছেন, তাঁদের অনেককে নতুন করে সমাজে জায়গা করে নিতে হয়েছে।


শুধু আইএস-অধ্যুষিত এলাকার নারীরাই নন, যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে ইরাকের বিভিন্ন অঞ্চলের নারীরা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সংঘাতের মানসিক ক্ষতও তাঁদের জীবনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে।


বিয়ের আইন ঘিরে নতুন উদ্বেগ


ইরাকের নারীদের অধিকার নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা তৈরি হয়েছে দেশটির ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আইন পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে।


১৯৫৯ সালের পার্সোনাল স্ট্যাটাস ল আইনটি দীর্ঘদিন ধরে ইরাকে বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, সন্তানের অভিভাবকত্ব ও উত্তরাধিকারের মতো বিষয় নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল। ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি এই আইনে সংশোধনী কার্যকর হয়। সংশোধনী অনুযায়ী, বিয়ের চুক্তি করার সময় দম্পতিরা ১৯৫৯ সালের আইন অথবা শিয়া জাফারি মাজহাবভিত্তিক পৃথক পারিবারিক বিধান বেছে নিতে পারেন।


এ নিয়ে নারী অধিকারকর্মীদের উদ্বেগের জায়গা হলো, একই দেশের নাগরিকদের জন্য ধর্মীয় পরিচয়ভেদে পারিবারিক অধিকারের ভিন্ন ব্যবস্থা তৈরি হতে পারে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) মতে, এই পরিবর্তন নারীর বিবাহবিচ্ছেদ, সন্তানের অভিভাবকত্ব ও উত্তরাধিকারের অধিকারে বৈষম্য তৈরি করতে পারে। 


বিতর্ক এখানেই শেষ হয়নি। ২০২৫ সালের ২৭ আগস্ট ইরাকের পার্লামেন্ট জাফারি পার্সোনাল স্ট্যাটাস কোড অনুমোদন করে। এই বিধানে স্বামীর একক সিদ্ধান্তে বিয়ের চুক্তি নতুন আইনের আওতায় নেওয়া, স্ত্রীকে না জানিয়ে বিবাহবিচ্ছেদ এবং সাত বছর বয়সের পর সন্তানের দায়িত্ব বাবার কাছে চলে যাওয়ার মতো বিধান রয়েছে বলে এইচআরডব্লিউ জানিয়েছে।


নারী অধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, এসব বিধান নারীর নিজের জীবন ও সন্তানের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সীমিত করতে পারে। ফলে ইরাকে নারীর অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। 


বাল্যবিবাহ এখনো বড় উদ্বেগ


ইরাকের মেয়েদের জীবনে বাল্যবিবাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যা। ইউনিসেফের তথ্য উদ্ধৃত করে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, দেশটিতে প্রায় ২৮ শতাংশ মেয়ের বিয়ে ১৮ বছর হওয়ার আগেই হয়ে যায়। প্রচলিত ব্যক্তিগত মর্যাদা আইনে বিয়ের সাধারণ ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর হলেও বিচারকের অনুমতি নিয়ে ১৫ বছর বয়সে বিয়ের সুযোগ রয়েছে।


বাল্যবিবাহের সঙ্গে মেয়েদের শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া, অল্প বয়সে মাতৃত্ব, স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পারিবারিক সহিংসতার ঝুঁকি জড়িয়ে আছে। বিশেষ করে দরিদ্র পরিবার, সামাজিক অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতা মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ের দিকে ঠেলে দিতে পারে।


এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিয়ে শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয় নয়; এটি মেয়েদের শিক্ষা, কর্মজীবন ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। অল্প বয়সে সংসারের দায়িত্ব কাঁধে এলে অনেক মেয়ের পক্ষে পড়াশোনা শেষ করা কিংবা নিজের পায়ে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে। 


ঘরের ভেতরেও কি নিরাপদ নারীরা?


নারীর নিরাপত্তা নিয়ে ইরাকে আরেকটি বড় উদ্বেগ পারিবারিক সহিংসতা। শারীরিক নির্যাতন, জোরপূর্বক বিয়ে, মানসিক নিপীড়ন ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণের মতো ঘটনা অনেক নারীর জীবনকে কঠিন করে তুলছে।


হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ২০২৬ সালের ইরাকবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির কেন্দ্রীয় পার্লামেন্টে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ আইন ২০২৫ সালেও পাস হয়নি। ফলে সহিংসতার শিকার নারীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়, আইনি সহায়তা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ সীমিত রয়ে গেছে।


ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে ২০১১ সাল থেকে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে আইন থাকলেও সেখানে অভিযোগ জানানো ও সুরক্ষা পাওয়ার ক্ষেত্রেও নানা বাধার কথা জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। অর্থাৎ আইন থাকলেই যে একজন নারী সহজে নিরাপত্তা পাবেন, বাস্তবতা সব সময় তেমন নয়।


নারীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রের স্বল্পতা, সামাজিক লজ্জা ও পরিবারের চাপ অনেক সময় তাঁদের নির্যাতনের কথা প্রকাশ করতে বাধা দেয়। ফলে অনেক ঘটনা অপ্রকাশিত থেকে যায়। 


কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ এত কম কেন?


শিক্ষিত হওয়া আর অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া এক বিষয় নয়। ইরাকের নারীদের ক্ষেত্রেও এই ব্যবধান স্পষ্ট।


বিশ্বব্যাংকের জেন্ডার ডেটা পোর্টালের ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী নারীদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার মাত্র ১০ দশমিক ৯ শতাংশ। বিপরীতে পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার ৭২ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থাৎ কর্মক্ষম বয়সী নারীদের বড় একটি অংশ শ্রমবাজারের বাইরে রয়েছেন।


এর পেছনে রয়েছে কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা, সামাজিক ও পারিবারিক দায়িত্ব, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার উদ্বেগ এবং নারীর কাজ করার বিষয়ে প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি। অনেক নারী শিক্ষা শেষ করেও উপযুক্ত কাজ পান না। আবার কেউ কেউ পারিবারিক দায়িত্ব ও সামাজিক বিধিনিষেধের কারণে চাকরি বা ব্যবসায় যুক্ত হতে পারেন না।


তবে এর অর্থ এই নয় যে ইরাকের নারীরা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে একেবারেই অনুপস্থিত। সরকারি চাকরি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা ও বিভিন্ন পেশায় নারীরা কাজ করছেন। কেউ উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের পরিচিতি গড়ে তুলছেন, কেউ আবার পরিবার পরিচালনার পাশাপাশি উপার্জনের দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু তাঁদের এই অগ্রযাত্রার পরিসর এখনো সীমিত।


রাজনীতিতে প্রতিনিধিত্ব আছে, সিদ্ধান্ত গ্রহণে কতটা ক্ষমতা?


ইরাকের রাজনীতিতে নারীর উপস্থিতি একেবারে কম নয়। জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংস্থা ইউএন উইমেনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশটির পার্লামেন্টের আসনগুলোর ২৯ দশমিক ২ শতাংশ নারীদের দখলে ছিল।


এটি নারীর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। কিন্তু পার্লামেন্টে আসন পাওয়া আর নীতিনির্ধারণে সমান প্রভাব বিস্তার করা এক বিষয় নয়। রাজনৈতিক দল, সামাজিক কাঠামো এবং পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে নারীদের নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এখনো নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে।


অন্যদিকে নারী অধিকারকর্মীরা ব্যক্তিগত আইন, বাল্যবিবাহ, পারিবারিক সহিংসতা ও কর্মক্ষেত্রে সমান সুযোগের মতো বিষয়ে সোচ্চার। ২০২৫ সালের পারিবারিক আইন সংশোধনীর বিরুদ্ধেও তাঁরা প্রতিবাদ করেছেন। তাঁদের এই আন্দোলন দেখায়, ইরাকের নারীরা কেবল পরিস্থিতির শিকার নন; নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁরা সংগঠিত হচ্ছেন।


শিক্ষা ও সামাজিক পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা


ইরাকের নারীদের অগ্রগতির অন্যতম ভিত্তি শিক্ষা। দেশটির ২০২৪ সালের জনসংখ্যা ও গৃহগণনার তথ্যের ভিত্তিতে জাতিসংঘে জমা দেওয়া একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি শিক্ষার্থীদের ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ নারী।


একই প্রতিবেদনে দেখা যায়, ৬৩ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ মনে করেন কর্মক্ষেত্রে নারীদের পুরুষদের সমান সুযোগ দেওয়া উচিত। ৭২ দশমিক ৪ শতাংশের মতে, ছেলেদের মতো মেয়েদের শিক্ষাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।


তবে একই সঙ্গে ৬০ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ মনে করেন, পুরুষেরা নারীদের তুলনায় ভালো রাজনৈতিক নেতা হতে পারেন। অর্থাৎ সমাজে নারীর শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের পক্ষে মনোভাব থাকলেও নেতৃত্বের প্রশ্নে প্রচলিত লিঙ্গভিত্তিক ধারণা এখনো রয়ে গেছে।


এই পরিসংখ্যান ইরাকি সমাজের একটি দ্বৈত বাস্তবতা তুলে ধরে। একদিকে নারীদের শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা বাড়ছে, অন্যদিকে সামাজিক বিশ্বাস ও প্রথার পরিবর্তন হচ্ছে তুলনামূলক ধীরগতিতে।


ইয়াজিদি নারীদের জীবনে যুদ্ধের ভয়াবহ স্মৃতি


ইরাকের নারীদের দুর্দশার কথা বলতে গেলে ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের নারীদের অভিজ্ঞতা আলাদাভাবে উল্লেখ করতে হয়। ২০১৪ সালে সিনজার অঞ্চলে আইএসের হামলার পর হাজারো ইয়াজিদি নারী ও শিশু অপহরণ, যৌন নির্যাতন, দাসত্ব ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির শিকার হন।


২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের তদন্তকারী দল UNITAD একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আইএসের সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের যুক্তিসংগত ভিত্তি থাকার কথা উল্লেখ করা হয়।


অনেক নারী বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেলেও তাঁদের জন্য স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা সহজ হয়নি। পরিবারের সদস্যদের হারানো, সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া, মানসিক আঘাত এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা তাঁদের জীবনকে প্রভাবিত করছে। বিশেষ করে যৌন সহিংসতার শিকার নারীদের জন্য সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও পুনর্বাসন এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।


বদলে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন ইরাকের নারীরা


ইরাকের নারীদের জীবনকে শুধু যুদ্ধ, নির্যাতন কিংবা বৈষম্যের গল্প দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাবে না। দেশটির বহু নারী প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজেদের অবস্থান তৈরি করছেন। তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন, চিকিৎসক, শিক্ষক, সাংবাদিক, উদ্যোক্তা ও রাজনীতিবিদ হিসেবে কাজ করছেন। নারী অধিকার সংগঠনগুলোও বিভিন্ন সামাজিক ও আইনি পরিবর্তনের দাবিতে কাজ করে যাচ্ছে।


তবে এই অগ্রগতির পাশাপাশি তাঁদের প্রতিদিনের বাস্তবতায় রয়েছে নানা বাধা। কখনো পারিবারিক সিদ্ধান্তে নিজের মত প্রকাশের স্বাধীনতা, কখনো কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ, কখনো সন্তানের অভিভাবকত্ব কিংবা নিজের নিরাপত্তা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই করতে হচ্ছে।


ইরাকের নারীদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু যুদ্ধের ক্ষত কাটিয়ে ওঠা নয়; বরং এমন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে একজন নারী নিজের জীবন সম্পর্কে নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। বিয়ে করবেন কি না, পড়াশোনা চালিয়ে যাবেন কি না, কোন পেশায় যুক্ত হবেন কিংবা কীভাবে সন্তানকে বড় করবেন—এসব সিদ্ধান্তে তাঁর মতামত গুরুত্ব পাবে।


দেশটির নারীদের বর্তমান বাস্তবতা তাই একই সঙ্গে সংগ্রাম ও সম্ভাবনার। পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা রয়েছে, অধিকার আদায়ের আন্দোলনও রয়েছে। কিন্তু সেই পরিবর্তন কতটা বাস্তব হবে, তা নির্ভর করছে আইন, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ এবং সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি কতটা বদলায় তার ওপর।


সূত্র: এইচআরডব্লিউ রিপোর্ট  ২০২৬, সূত্র: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, ১৫ অক্টোবর ২০২৫।

sidebar ad