পাকিস্তানে ডিভোর্স নারীদের জন্য একটি সামাজিক ট্যাবু৷ তারপরও দেশটিতে নিজেই বিবাহবিচ্ছেদ ঘটিয়েছেন এমন নারীর সংখ্যা বাড়ছে৷ পাকিস্তানের মতো রক্ষণশীল সমাজেও কেন বাড়ছে নারীদের বিবাহবিচ্ছেদ?
দক্ষিণ এশিয়ার দেশ পাকিস্তানে শরিয়া আইন অনুযায়ী, একজন নারী ডিভোর্স বা বিবাহবিচ্ছেদের জন্য আবেদন করতে পারেন না৷ তবে শরিয়া আইন অনুযায়ী, স্বামীর অনুমতি ছাড়া তারা বিয়ে ভেৃঙে দিতে পারেন৷ বিয়ে ভেঙে দেওয়ার এই রীতিকে বলা হয় ‘খুলা’৷ এটি সাধারণত পারিবারিকবাবেই হয়ে থাকে, অর্থাৎ, পারিবারিক আদালত বসিয়ে এ ধরনের বিষয়ের মীমাংসা করা হয়৷ তবে বিয়ে ভেঙে দেওয়া বা খুলার আবেদনের জন্য একজন নারীকে সুনির্দিষ্ট কারণ দেখাতে হয়৷ যেমন, নির্যাতন, স্বামীর চলে যাওয়া, স্বামীর মানসিক রোগ সংক্রান্ত বিষয় ইত্যাদি৷
পাকিস্তান জুড়ে কতজন নারী এভাবে বৈবাহিক সম্পর্ক থেকে মুক্তি নিয়েছেন তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা না গেলেও এমন নারীর সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা৷
আইনজীবীরা বলছেন, পাকিস্তানে ‘খুলা'র আবেদন করা বা বিবাহবিচ্ছেদ করা নারীর সংখ্যা প্রতিনিয়তই বাড়ছে৷ পাকিস্তানের মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস প্রোটেকশন সেন্টারের অ্যাটর্নি আতিকা হাসান রাজা বলেন, ‘‘পাকিস্তানে ধীরে ধীরে নারীরা বুঝতে পারছেন যে, শারীরিক নির্যাতন ছাড়া অন্য কারণেও, যেমন মানসিক নির্যাতন ইত্যাদির কারণে নারীরা বিয়েবিচ্ছেদ করতে পারে৷’’
শিক্ষিত ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী নারীরাই সাধারণত বিবাহবিচ্ছেদ বা ‘খুলা’র জন্য আবেদন করে থাকেন৷ সামাজিক-অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা গ্রামের নারীদের জন্য নিজের ইচ্ছায় বিবাহ বিচ্ছেদ করা অনেক কঠিন৷ কারণ, জীবন যাপনের জন্য তাদের অর্থনৈতিক সহযোগিতা দরকার৷
তথ্যসূত্র: ডয়চে ভেলে