চীনের সরকার বিয়েতে উৎসাহ দিচ্ছে, তবুও বিয়ে করতে চাইছেন না চীনের নারীরা! কেন? বেকারত্ব, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, নাকি বদলে যাওয়া জীবনদর্শন?
চীনে বিয়ের হার আশঙ্কাজনকভাবে কমছে। চীনের সিভিল অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে চীন জুড়ে ৬১ লাখের কিছু বেশি যুগল বিয়ে নিবন্ধন করিয়েছেন, গত ৩৭ বছরের মধ্যে যা সর্বনিম্ন। আগের বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালে এই সংখ্যা ছিল ৭৬ লাখ ৮০ হাজার।
বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিয়ে ও পরিবার গঠনের আগ্রহ কমছে। এর পেছনে বড় কারণ বেকারত্ব, বাড়তি জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা। অনেকেই মনে করছেন, আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না করে বিয়ে ও সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত কঠিন।
নারীদের ক্ষেত্রে রয়েছে বাড়তি চ্যালেঞ্জ। কিংস কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক ইয়ে ল্যুর মতে, চীনের কর্মক্ষেত্রে এখনো লিঙ্গবৈষম্য রয়েছে। চাকরিতে নারীদের নিয়োগের সময় মাতৃত্ব ও সন্তান জন্মদানের সম্ভাবনাও বিবেচনায় নেওয়া হয়। ফলে অনেক নারীকে ক্যারিয়ার ও পারিবারিক জীবনের মধ্যে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
চীনের কর্তৃপক্ষের কাছে তরুণ-তরুণীদের বিয়ের প্রতি আগ্রহী করা এবং সন্তান জন্মদানে উৎসাহ বাড়ানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ এদিকে দেশটিতে বয়স্কদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। করোনা কালের অর্থনৈতিক স্থবীরতা কাটিয়ে ২০২৪ সালে চীনে জন্মহার কিছুটা বেড়েছে অন্যদিকে বিবাহ বিচ্ছেদও কিছুটা বেড়েছে সরকারি তথ্য অনুযায়ী চীনে গত বছর ২৬ লাখের বেশি যুগল বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য আবেদন করেছেন এটা ২০২৩ সালের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি।
বিয়ে শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন।
প্রশ্ন হলো—শুধু সরকারি প্রণোদনা দিয়ে কি বিয়ে ও পরিবার গঠনে আগ্রহী করা সম্ভব, নাকি প্রয়োজন আরও নিরাপদ অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ?