শিশুদের মধ্যেও দিন দিন বাড়ছে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি। বিশেষ করে টাইপ-১ ডায়াবেটিস শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। এ ছাড়া অতিরিক্ত ওজন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক পরিশ্রমের অভাবের কারণে টাইপ-২ ডায়াবেটিসেও আক্রান্ত হতে পারে শিশুরা। তবে অনেক সময় ডায়াবেটিসের প্রাথমিক লক্ষণগুলো সাধারণ শারীরিক সমস্যার মতো মনে হওয়ায় অভিভাবকেরা বিষয়টি বুঝতে পারেন না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু লক্ষণ দেখা দিলে শিশুর ডায়াবেটিসের বিষয়ে সতর্ক হওয়া জরুরি। জেনে নেওয়া যাক এমন ছয়টি লক্ষণ—
১. ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া
শিশু যদি আগের তুলনায় ঘন ঘন প্রস্রাব করে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে। রাতে বারবার প্রস্রাবের বেগ হওয়া কিংবা আগে বিছানা ভেজানোর অভ্যাস না থাকলেও হঠাৎ বিছানা ভেজানো ডায়াবেটিসের লক্ষণ হতে পারে।
২. অতিরিক্ত তৃষ্ণা পাওয়া
শিশু যদি বারবার পানি পান করতে চায় এবং পানি খাওয়ার পরও তৃষ্ণা না কমে, তাহলে সতর্ক হোন। রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে শরীর থেকে প্রস্রাবের মাধ্যমে বেশি পানি বেরিয়ে যায়। ফলে অতিরিক্ত তৃষ্ণা তৈরি হয়।
৩. অস্বাভাবিক ক্ষুধা লাগা
পর্যাপ্ত খাবার খাওয়ার পরও শিশুর বারবার ক্ষুধা লাগতে পারে। ডায়াবেটিসের কারণে শরীরের কোষগুলো প্রয়োজনীয় গ্লুকোজ ব্যবহার করতে পারে না। ফলে শরীরে শক্তির ঘাটতি তৈরি হয় এবং শিশুর ক্ষুধা বেড়ে যায়।
৪. দ্রুত ওজন কমে যাওয়া
খাবার ঠিকমতো খাওয়ার পরও শিশুর ওজন কমতে থাকলে বিষয়টি অবহেলা করবেন না। শরীর যখন গ্লুকোজ থেকে প্রয়োজনীয় শক্তি পায় না, তখন শক্তির জন্য চর্বি ও পেশি ভাঙতে শুরু করে। এর ফলে অল্প সময়ের মধ্যে শিশুর ওজন কমে যেতে পারে।
৫. অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা
শিশু যদি আগের মতো খেলাধুলা করতে না চায়, অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে কিংবা সারাক্ষণ অবসন্ন থাকে, তাহলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে শরীরের কোষগুলো পর্যাপ্ত শক্তি পায় না। ফলে শিশুর মধ্যে দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।
৬. চোখে ঝাপসা দেখা
শিশু যদি বই পড়তে, টেলিভিশন দেখতে কিংবা দূরের কোনো বস্তু চিনতে অসুবিধার কথা বলে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিন। রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে চোখের লেন্সে পরিবর্তন হতে পারে। এর ফলে সাময়িকভাবে দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যেতে পারে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
শিশুর মধ্যে এসব লক্ষণের একাধিকটি দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। রক্তে গ্লুকোজ পরীক্ষা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য পরীক্ষার মাধ্যমে ডায়াবেটিস শনাক্ত করা যায়।
বিশেষ সতর্কতা: শিশুর অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ঘন ঘন প্রস্রাব ও দ্রুত ওজন কমার সঙ্গে বমি, পেটব্যথা, দ্রুত বা গভীর শ্বাস, ফলের মতো গন্ধযুক্ত নিঃশ্বাস কিংবা অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব দেখা দিলে এটি ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিসের (DKA) লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দেরি না করে জরুরি বিভাগে নিতে হবে।
তথ্যসূত্র: NHS, American Academy of Pediatrics, World Health Organization (WHO)