কাজের চাপ কী বাড়াচ্ছে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি?

প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজের ব্যস্ততা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার চাপ, অফিসের নানা জটিলতা আর ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা—সব মিলিয়ে আধুনিক কর্মজীবনে মানসিক চাপ যেন নিত্যসঙ্গী। কিন্তু দীর্ঘদিনের এই কাজের চাপ শুধু মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরই প্রভাব ফেলে না, বাড়িয়ে দিতে পারে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও।



কাজের চাপ ও ডায়াবেটিসের মধ্যে সম্পর্ক কোথায়?


দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপে শরীরে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিনের মতো স্ট্রেস হরমোনের নিঃসরণ বাড়তে পারে। এসব হরমোন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ও ইনসুলিনের কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে। দীর্ঘদিন এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে, বিশেষ করে যাঁদের আগে থেকেই ডায়াবেটিসের ঝুঁকি রয়েছে, তাঁদের বিপাকীয় স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।


তবে শুধু কাজের চাপই ডায়াবেটিসের জন্য দায়ী নয়। বংশগত প্রবণতা, অতিরিক্ত ওজন, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও ঘুমের ঘাটতির মতো বিষয়ও এই ঝুঁকিতে ভূমিকা রাখে।



কাজের চাপ কীভাবে ঝুঁকি বাড়াতে পারে?


কাজের অতিরিক্ত চাপ অনেক সময় আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনেও পরিবর্তন আনে। যেমন—



১. অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস: সময়ের অভাবে খাবার বাদ দেওয়া কিংবা অতিরিক্ত ফাস্ট ফুড ও মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে।



২. ঘুমের ঘাটতি: রাত জেগে কাজ করা ও পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া শরীরের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করতে পারে।



৩. শারীরিক পরিশ্রমের অভাব: দীর্ঘ সময় চেয়ারে বসে কাজ করার ফলে শারীরিক সক্রিয়তা কমে যায়, যা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।



৪. মানসিক চাপ ও হরমোনের পরিবর্তন: দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের ডায়াবেটিস রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে চাপের সময় রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ওঠানামা করতে পারে।



ঝুঁকি কমাতে কী করবেন?


কর্মব্যস্ত জীবনে কাজের চাপ পুরোপুরি এড়িয়ে চলা কঠিন। তবে কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে এর নেতিবাচক প্রভাব কমানো সম্ভব।



১. প্রতিদিন অন্তত ৭–৯ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন।



২. নিয়মিত সময়ে সুষম খাবার খান এবং অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন।



৩. দীর্ঘ সময় একটানা বসে না থেকে বিরতি নিন এবং নিয়মিত হাঁটুন।



৪. সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যকলাপের লক্ষ্য রাখুন, যদি আপনার শারীরিক অবস্থা সে অনুমতি দেয়।



৫. কাজের ফাঁকে শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, ধ্যান বা পছন্দের কোনো কাজে সময় দিন।



৬. ব্যক্তিগত জীবন ও কর্মজীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখুন এবং প্রয়োজন হলে কাজের চাপ কমাতে সহকর্মী বা বিশেষজ্ঞের সহায়তা নিন।



কখন সতর্ক হবেন?


পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস থাকলে, অতিরিক্ত ওজন থাকলে কিংবা দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের মধ্যে থাকলে রক্তে গ্লুকোজ পরীক্ষা করার বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ঘন ঘন প্রস্রাব ও অকারণে ওজন কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলেও চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। মনে রাখবেন, টাইপ-২ ডায়াবেটিসের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকেরই কোনো লক্ষণ থাকে না।



কাজের চাপ হয়তো আপনার প্রতিদিনের জীবনের অংশ, কিন্তু নিজের স্বাস্থ্যের অবহেলা যেন সেই চাপের আরেকটি পরিণতি না হয়। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, অপর্যাপ্ত ঘুম ও অনিয়মিত জীবনযাপন ডায়াবেটিসের ঝুঁকিতে ভূমিকা রাখতে পারে। তাই কাজের পাশাপাশি শরীর ও মনের যত্ন নেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।



তথ্যসূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO)

sidebar ad