কিছু মানুষ আছেন, যারা কথায় কথায় অন্যকে ছোট করেন, অপমান করেন, ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে খোঁচা দেন। এরপর মুখে হাসি নিয়ে বলে ওঠেন, ‘আরে, মজা করলাম! এত সিরিয়াস হওয়ার কী আছে?’
কিন্তু প্রশ্ন হলো, কাউকে অপমান করে সেটাকে মজা বলে চালিয়ে দেওয়া কি সত্যিই স্বাভাবিক আচরণ?
এটা কি মানসিক রোগ?
সব সময় নয়। মজার ছলে কাউকে অপমান করা নিজে থেকে কোনো মানসিক রোগের লক্ষণ নয়। তবে এই আচরণের পেছনে থাকতে পারে কিছু মানসিক ও সামাজিক কারণ।
১. নিজেকে বড় প্রমাণ করার প্রবণতা: অন্যকে ছোট করে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করতে চান কেউ কেউ।
২. সহানুভূতির অভাব: নিজের কথায় অন্য ব্যক্তি কষ্ট পাচ্ছেন কি না, তা বোঝার বা গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা কম থাকতে পারে।
৩. হীনম্মন্যতা ও নিরাপত্তাহীনতা: কেউ কেউ নিজের দুর্বলতা আড়াল করতে অন্যকে নিয়ে ঠাট্টা করেন। তবে এমন আচরণ দেখেই কারও মধ্যে হীনম্মন্যতা আছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায় না।
৪. ছোটবেলা থেকে শেখা অভ্যাস: পরিবার বা বন্ধুদের মধ্যে অপমান করে হাসাহাসি করার চল থাকলে কেউ সেটাকেই স্বাভাবিক রসিকতা হিসেবে শিখতে পারেন।
৫. অন্যকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা: বারবার অপমান করে পরে ‘মজা করেছি’ বলা কখনো কখনো অন্যের অনুভূতিকে অগ্রাহ্য করা কিংবা নিজের আচরণের দায় এড়িয়ে যাওয়ার উপায় হতে পারে।
কখন বুঝবেন, মজাটা আর মজার পর্যায়ে নেই?
আপনি বারবার কষ্ট পাচ্ছেন, অথচ সেই ব্যক্তি নিজের আচরণ বদলানোর পরিবর্তে আপনাকেই ‘অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ’ বলে দোষ দিচ্ছেন—তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
মনে রাখবেন, সুস্থ রসিকতায় দুজনই আনন্দ পান। কিন্তু একজন হাসেন আর অন্যজন অপমানে কষ্ট পান, তাহলে সেটি আর নিছক মজা থাকে না।
আপনি কী করবেন?
শান্তভাবে বলুন, ‘তোমার কাছে এটা মজা হতে পারে, কিন্তু আমার কাছে অপমানজনক। দয়া করে এমন কথা বলো না।’
আপনার অনুভূতি জানানোর পরও যদি কেউ বারবার একই আচরণ করেন, তাহলে তার সঙ্গে স্পষ্ট সীমারেখা তৈরি করুন।
কাউকে অপমান করার পর ‘মজা করেছি’ বললেই অপমানটা মুছে যায় না। আর নিজের সম্মান রক্ষা করতে আপত্তি জানানো মানেই আপনি রসবোধহীন নন।
তথ্যসূত্র: American Psychological Association