স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে যেসব অভ্যাস গড়ে তুলবেন

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

স্তন ক্যানসার নারীদের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যঝুঁকি। বয়স, পারিবারিক ইতিহাস ও কিছু জৈবিক কারণের মতো কিছু ঝুঁকি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তবে দৈনন্দিন জীবনযাপনের কিছু অভ্যাস স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) আফ্রিকা অঞ্চলের একটি তথ্যচিত্রে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে চারটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে—স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, নিয়মিত শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা, অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা এবং তামাক পরিহার করা।


স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন


শরীরের ওজন সুস্থ সীমার মধ্যে রাখা শুধু সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক হতে পারে। অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে খাবারের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। অতিরিক্ত ক্যালরি, অস্বাস্থ্যকর খাবার ও অতিরিক্ত চিনি গ্রহণের বদলে পুষ্টিকর ও সুষম খাবার বেছে নেওয়া যেতে পারে। শাকসবজি, ফলমূল, শস্য ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা ভালো।


তবে ওজন কমানোর ক্ষেত্রে দ্রুত ফল পাওয়ার আশায় কঠোর বা অস্বাস্থ্যকর ডায়েট অনুসরণ না করে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলাই গুরুত্বপূর্ণ।


নিয়মিত শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকুন


শরীরচর্চা শুধু ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে না, শরীর ও মনের সামগ্রিক সুস্থতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের জীবনে শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকার অভ্যাস গড়ে তোলা তাই জরুরি। হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার, ব্যায়াম কিংবা নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অন্য কোনো শারীরিক কর্মকাণ্ড বেছে নেওয়া যেতে পারে। যাঁরা দীর্ঘ সময় বসে কাজ করেন, তাঁরাও কাজের ফাঁকে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি বা নড়াচড়া করার অভ্যাস করতে পারেন। ব্যায়ামকে আলাদা কোনো কঠিন কাজ হিসেবে না দেখে প্রতিদিনের জীবনযাপনের অংশ করে নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর।


অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন


অনেক সময় সামাজিকতা বা বিনোদনের অংশ হিসেবে অ্যালকোহল গ্রহণকে স্বাভাবিক মনে করা হয়। কিন্তু স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকা একটি সচেতন জীবনযাপনের অংশ হতে পারে।


তামাক থেকে দূরে থাকুন

ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য থেকে দূরে থাকাও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শুধু নিজের ধূমপান নয়, সম্ভব হলে পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শ থেকেও দূরে থাকা ভালো। তামাক বর্জনের অভ্যাস শুধু স্তন ক্যানসারের ঝুঁকির বিষয়েই নয়, সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।


ঝুঁকি কমানো মানেই ঝুঁকি পুরোপুরি দূর করা নয়


স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে, কিন্তু কোনো একটি অভ্যাস অনুসরণ করলেই স্তন ক্যানসার পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব—এমন নিশ্চয়তা নেই। কারণ এই রোগের পেছনে এমন অনেক ঝুঁকির কারণ রয়েছে, যেগুলো ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণের বাইরে।


তাই স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, নিয়মিত শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা, অ্যালকোহল ও তামাক এড়িয়ে চলার পাশাপাশি নিজের স্তনের স্বাভাবিক পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন থাকাও জরুরি। অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন চোখে পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

sidebar ad