কালজয়ী মহানায়িকা ববিতা—আলো-ঝলমলের আড়ালে এক সংগ্রামী জীবন

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালি সময়ের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্রের  নাম ফরিদা আক্তার ববিতা। অভিনয়গুণ, সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্ব দিয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের এক কালজয়ী মুখ। সত্যজিৎ রায়ের অশনি সংকেত-এ অভিনয় করে তিনি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পরিচিতি পান। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে প্রায় ২৭৫টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। 


তবে পর্দার সাফল্যের আড়ালে ছিল তার জীবনের কঠিন এক অধ্যায়। ১৯৮২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ব্যবসায়ী ইফতেখারুল আলমকে বিয়ে করেন ববিতা। ১৯৮৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি তাদের একমাত্র সন্তান অনিক ইসলামের জন্ম।


কিন্তু ছেলের বয়স মাত্র তিন বছর, ১৯৯৩ সালের ১০ জানুয়ারি স্বামীকে হারান ববিতা। এরপর শুরু হয় একা হাতে সন্তান ও ক্যারিয়ার সামলানোর সংগ্রাম। মীর মৃত্যুর পর পরিবার ও পরিচিতজনদের কাছ থেকে দ্বিতীয়বার বিয়ের প্রস্তাব এলেও ববিতা আর বিয়ে করেননি।


সন্তানের ভবিষ্যৎ ও নিজের অভিনয়জীবনকে সামনে রেখে তিনি একাই পথ চলার সিদ্ধান্ত নেন। ছেলের জন্য অনেক সময় শুটিংয়ের কাজও সীমিত করতে হয়েছে তাকে। তার নিজের ভাষায়, জীবন ছিল কঠিন, কিন্তু সন্তানের মুখ দেখলেই সেই কষ্ট অনেকটা সার্থক মনে হতো। 


আজ ববিতা চলচ্চিত্রে আগের মতো নিয়মিত না হলেও তার মর্যাদা ও জনপ্রিয়তা অমলিন।


২০২৬ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হয়েছেন। বর্তমানে একমাত্র ছেলে অনিক, যিনি কানাডায় বসবাস ও কাজ করেন, তার সঙ্গেই অনেকটা সময় কাটান।


ববিতার জীবন তাই শুধু একজন নায়িকার সাফল্যের গল্প নয় এটি একজন নারীর, একজন মায়ের এবং নিজের সিদ্ধান্তে অবিচল থেকে জীবনকে নতুন করে গড়ে তোলার গল্প।


sidebar ad