সায়মা রহমান তুলি
কফির আমন্ত্রণের বিষয়টা কিন্তু কেবল কফি পান করানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। মানুষের জীবনের নানামুখী ভাবনা, কাজের শেয়ার, কেয়ার, বিজনেস গ্রোথ আর ভবিষ্যৎ সম্পর্কের বীজ লুকিয়ে থাকে কফি মিটিংয়ে।
কর্পোরেটদের অফিসের পর সন্ধ্যাটা জমে ওঠে না কফি না পান করলে। ঢাকার অভিজাত এলাকা থেকে শুরু করে অলিগলিতে এখন কফিশপ। শুধু তাই নয়, আগে রাস্তায়, পার্কে, মেলায়, পূজামণ্ডপে, গলিতে, এমনকি কক্সবাজারে সমুদ্রের ঢেউ গুনতে গুনতেও ফ্লাস্কে চা নয়, কফি নিয়ে ঘুরে বেড়ানো মামাদের দেখা মেলে। কফি এতটাই প্রিয় এখন চা-প্রেমী বাঙালিদের কাছেও!
কফি কোনো স্ট্যাটাসের খাবার নয়। যারা কফি চেনে, স্বাদ বোঝে, বিনটা বুঝতে চায়—তাদের কফি নিয়ে কত ফ্যান্টাসি! একটা স্টারবাকসের জন্য ক্রেজ প্রত্যেকেরই আছে। দেশের বাইরে গেলে এয়ারপোর্টে পৌঁছেই শুরু হয়ে যায় স্টারবাকসের খোঁজ।
কফির ব্যাপারে কোন বিষয়টি লক্ষণীয়?
২০২২ সালে বনানীর এসপ্রেসো হাউজের ব্র্যান্ড ম্যানেজার ছিলাম। তখন বিভিন্ন ধরনের কফি চিনতে হয়েছে, ওয়েটারদের ট্রেনিং করাতে হয়েছে। কারণ, কফি নিয়ে টিজির যে ফ্যান্টাসি, তাতে অবশ্যই ওয়েটারকে কানেক্ট করতে হয়। বারিস্তাদের যেন ম্যাজিক জানতে হয়। আর্টের মাধ্যমে মন খুশি করে নিতে হয়।
অনেকে প্রেম বা বিয়ের জন্য প্রপোজও করেন কফি আর্টের মাধ্যমে। তাই কফিতে ‘I Love You’ লেখা দেখে আপনি সারপ্রাইজ হতেই পারেন!
ম্যাক্সিমাম জেন-জির পছন্দ ফ্র্যাপুচিনো, তিরামিসু, কোল্ড কফি ইত্যাদি। প্রফেশনালরা হ্যাজেলনাট ক্যাপুচিনো, ক্যাপুচিনো, মোকা, লাতে, ফ্ল্যাট হোয়াইট—ইদানীং মরিঙ্গা লাতে ও সিনামন লাতেও পছন্দ করছেন। যারা স্বাস্থ্যসচেতন, তারা আমেরিকানো বেছে নেন। পুরুষদের বেশির ভাগই এসপ্রেসো, আমেরিকানো, চাই লাতে ও কোল্ড ব্রু পছন্দ করেন। যাদের বিশেষ ফ্যান্টাসি, বিশেষ করে টিনএজারদের আফোগাতো খেতে দেখা যায়।
ঢাকায় সবার পছন্দের শীর্ষে নর্থএন্ড কফি রোস্টারস, তাবাক; এরপর গ্লোরিয়া জিন্স। রিচার্ডের ব্যাপারটা একেবারেই আলাদা—সেটা কফিপ্রেমীরা জানেন। টেরাকোটা টেলসের স্পেশাল ভাইবসও আলাদা।
বনানীতে ছোট একটি দোকান ‘কাফ’ দারুণ ব্যবসা করে, যা চোখে পড়ার মতো। খিলগাঁও এলাকা ‘আপন কফি’র মাধ্যমে যেন আলাদা পরিচিতি পেয়েছিল। কিছু ইয়াং জেনারেশনের কাছে আড্ডা মানেই ক্রিমসন কাপ। এছাড়াও সেকেন্ড কাপ, সাও পাওলোসহ অনেক পছন্দের ব্র্যান্ড রয়েছে। একসময় সেরা পছন্দের একটি ছিল কফি ওয়ার্ল্ড।
কফিশপে সবাই ছবি তুলতে ভালোবাসে। তাই ক্যাফেগুলোও সাজানো হয় সেই আবেশকে মাথায় রেখে।
তবে সবকিছুর শেষে, স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে কফি খেতে হবে। কফি হোক আড্ডার, সম্পর্কের, কাজের কিংবা ভালোবাসার—কাপটা যেন থাকে উপভোগের!