ছুটি মানেই কী কাজের চাপ থেকে মুক্তি?

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬

ছবি: এআই/রোদসী
ছবি: এআই/রোদসী

ছুটির দিনের জন্য কত পরিকল্পনা! একটু বেশি ঘুমানো, পছন্দের খাবার খাওয়া, প্রিয় মানুষের সঙ্গে সময় কাটানো কিংবা নিজের মতো করে কিছুক্ষণ থাকা। কিন্তু ছুটির সকাল শুরু হতেই মনে পড়ে যায়—কাপড় ধোয়া বাকি, ঘর গোছাতে হবে, বাজার করতে হবে, পরিবারের জন্য রান্নাও করতে হবে। একসময় দেখা যায়, ছুটির দিনটিও কেটে গেল কাজের ব্যস্ততায়।


বিশেষ করে কর্মজীবী নারীদের অনেকের জন্য ছুটি মানে অফিসের কাজ থেকে বিরতি, কিন্তু ঘরের দায়িত্ব থেকে নয়। কর্মদিবসে অফিস সামলে বাড়ি ফিরতে হয়, আর ছুটির দিনে সামলাতে হয় জমে থাকা সংসারের কাজ। ফলে বিশ্রামের জন্য যে সময়টুকু বরাদ্দ থাকার কথা, সেটিই হারিয়ে যায় দায়িত্বের ভিড়ে।


তাহলে ছুটি কি সত্যিই ছুটি, নাকি কাজের ধরনটাই শুধু বদলে যায়?


অফিস বন্ধ, দায়িত্ব কী বন্ধ?


অনেক পরিবারে ঘরের কাজ, রান্না, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সন্তানদের দেখাশোনা কিংবা বয়স্কদের যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব এখনো নারীর ওপর বেশি পড়ে। কর্মজীবী নারীদের ক্ষেত্রে অফিসের দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত হয় এই অদৃশ্য শ্রমও। ছুটির দিনেও তাই তাঁদের কাজের শেষ থাকে না।


অথচ ঘরের কাজ কোনো একজনের একার দায়িত্ব নয়। পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের অংশগ্রহণ থাকলে কাজের চাপ কমে এবং সবার জন্যই বিশ্রামের সুযোগ তৈরি হয়। সংসার সবার হলে দায়িত্বও সবার—এই ভাবনাটি বাস্তবে প্রয়োগ করা জরুরি।


বিশ্রাম কী বিলাসিতা?


কাজের ফাঁকে একটু ঘুম, বই পড়া, গান শোনা, হাঁটতে যাওয়া কিংবা প্রিয় মানুষের সঙ্গে গল্প করা—এসবকে অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় সময় কাটানো বলে মনে করা হয়। বিশেষ করে নারীরা নিজের জন্য সময় বের করলে কখনো কখনো তাঁদের শুনতে হয়, আগে কাজ শেষ করো।


কিন্তু বিশ্রাম কোনো বিলাসিতা নয়। শারীরিক ও মানসিকভাবে ভালো থাকার জন্য অবসর প্রয়োজন। সারাক্ষণ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজের প্রয়োজনকে উপেক্ষা করলে ক্লান্তি জমতে থাকে। তাই নিজের জন্য সময় রাখা মানে দায়িত্বহীন হওয়া নয়; বরং নিজের সুস্থতা ও ভালো থাকাকেও গুরুত্ব দেওয়া।


ছুটিকে সত্যিকারের ছুটি করবেন কীভাবে?


ছুটির আগেই জরুরি কাজগুলো ভাগ করে নেওয়া যেতে পারে। পরিবারের সদস্যরা রান্না, বাজার, ঘর গোছানো কিংবা সন্তানদের দেখাশোনায় দায়িত্ব ভাগ করে নিলে একজনের ওপর সব চাপ পড়ে না। সব কাজ এক দিনেই শেষ করার বাধ্যবাধকতা থেকেও বেরিয়ে আসা দরকার।


ছুটির দিনে কিছু সময় একেবারেই কাজমুক্ত রাখুন। কোথাও ঘুরতে না গেলেও নিজের পছন্দের কাজে সময় দিন। আর পরিবারের অন্য সদস্যদেরও উৎসাহিত করুন, যেন তাঁরাও একে অপরের বিশ্রামের প্রয়োজনকে সম্মান করেন।


ছুটি হোক নিজের মতো করে বাঁচার সময়


ছুটি মানেই বাইরে বেড়াতে যাওয়া কিংবা বিশেষ কোনো আয়োজন করা নয়। কখনো ঘরে বসে প্রিয় সিনেমা দেখা, কখনো দুপুরে একটু ঘুমানো, আবার কখনো কিছু না করে চুপচাপ বসে থাকাও হতে পারে ছুটি উপভোগ করার উপায়।


প্রশ্ন হলো, ছুটির দিনেও যদি একজন নারীকে প্রতিটি দায়িত্ব একা সামলাতে হয়, তাহলে তাঁর বিশ্রামের সময় কোথায়? ছুটির প্রকৃত আনন্দ তখনই আসে, যখন কাজের চাপ কমে, দায়িত্ব ভাগ হয় এবং প্রত্যেকে নিজের মতো করে সময় কাটানোর সুযোগ পান।


মনে রাখবেন, ছুটি শুধু অফিস বন্ধ থাকার নাম নয়। ছুটি মানে কাজের চাপ থেকে কিছুটা মুক্তি, নিজের জন্য সময় এবং নতুন উদ্যমে ফিরে আসার সুযোগ। নারীর ছুটিও হোক সত্যিকারের ছুটি—দায়িত্বের তালিকা নয়, যেখানে গুরুত্ব পাবে তাঁর বিশ্রাম, আনন্দ ও ভালো 

sidebar ad