বাংলাদেশের অভিনয়জগতের ইতিহাসে ষাটের দশক ছিল এক গুরুত্বপূর্ণ সময়। সেই সময়ের চলচ্চিত্রে যাঁরা নিজেদের উপস্থিতি দিয়ে দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন, অভিনেত্রী নাসিমা খান তাঁদেরই একজন। সময়ের স্রোতে বদলে গেছে চলচ্চিত্রের ভাষা, বদলেছে দর্শকের রুচি ও বিনোদনের মাধ্যম। কিন্তু পুরোনো দিনের শিল্পীদের অবদান রয়ে গেছে বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসের পাতায়। সেই ইতিহাসের এক পরিচিত মুখ নাসিমা খান এবার পাড়ি জমালেন না-ফেরার দেশে।
রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এই অভিনেত্রী। তাঁর মৃত্যুর খবরে চলচ্চিত্র অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ষাটের দশকের অভিনয়জগতের সঙ্গে যাঁদের স্মৃতি জড়িয়ে আছে, তাঁদের কাছে নাসিমা খানের চলে যাওয়া একটি সময়ের স্মৃতিকেই নতুন করে সামনে নিয়ে আসে।
সোনালি সময়ের এক মুখ
ষাটের দশকের বাংলা চলচ্চিত্র ছিল নানা পরিবর্তন ও সম্ভাবনার সময়। সে সময়ের শিল্পীরা সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও নিজেদের অভিনয় দিয়ে দর্শকদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন। চলচ্চিত্রের পর্দায় তাঁদের উপস্থিতি তৈরি করেছে এক বিশেষ সময়ের সাংস্কৃতিক পরিচয়। নাসিমা খানও সেই সময়ের অভিনয়জগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
একজন শিল্পীর জীবন কেবল তাঁর অভিনীত চরিত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। পর্দার বাইরে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং সময়ের সঙ্গে তাঁর পথচলাও হয়ে ওঠে শিল্প-ইতিহাসের অংশ। তাই পুরোনো দিনের কোনো শিল্পীর বিদায় মানে শুধু একজন মানুষের চলে যাওয়া নয়, বরং তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অনেক স্মৃতি ও অভিজ্ঞতার অধ্যায়ের সমাপ্তি।
স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন শিল্পীরা
সময়ের ব্যবধানে অনেক শিল্পীর নাম নতুন প্রজন্মের কাছে অপরিচিত হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু তাঁদের কাজ ও অবদান চলচ্চিত্রের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়েই থাকে। পুরোনো দিনের অভিনয়শিল্পীদের জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা তাই কেবল অতীত স্মরণ নয়; বরং দেশের চলচ্চিত্রের শেকড়কে চিনে নেওয়ারও একটি উপায়।
নাসিমা খানের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ষাটের দশকের অভিনয়জগতের সঙ্গে যুক্ত আরেকটি পরিচিত মুখ হারাল বাংলাদেশের বিনোদন অঙ্গন। তাঁর প্রয়াণে শোকের পাশাপাশি ফিরে আসে সেই সময়ের চলচ্চিত্র, শিল্পীদের সংগ্রাম এবং দর্শকের ভালোবাসার স্মৃতি।
মানুষ একদিন চলে যান, কিন্তু শিল্পের সঙ্গে তাঁর যে সম্পর্ক, তা সব সময় মুছে যায় না। পর্দায় রেখে যাওয়া কাজ আর সময়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতির মধ্য দিয়েই শিল্পীরা বেঁচে থাকেন। নাসিমা খানের বিদায়েও রয়ে গেল সেই চিরন্তন সত্য—পর্দার আলো নিভে গেলেও শিল্পীর স্মৃতি থেকে যায় দর্শকের মনে।