ব্যাংকিং পেশায় যোগ দিলেন তমা মির্জা

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬

তমা মির্জা। ছবি: সংগৃহীত
তমা মির্জা। ছবি: সংগৃহীত

রুপালি পর্দায় অভিনয় দিয়ে দর্শকের ভালোবাসা কুড়িয়েছেন তমা মির্জা। চরিত্রের ভেতরে নিজেকে মেলে ধরাই ছিল তাঁর পরিচিত জগৎ। তবে জীবনের গল্পে কখনো কখনো নতুন অধ্যায় আসে, যেখানে পরিচিত গণ্ডির বাইরে গিয়ে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কারের সুযোগ তৈরি হয়। তমা মির্জার জীবনেও এখন তেমনই এক নতুন অধ্যায়।



একটি সংবাদমাধ্যম থেকে জানা যায়, অভিনয়ের পাশাপাশি দেশের একটি বেসরকারি ব্যাংকে অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট (এভিপি—ব্র্যান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশনস) হিসেবে কাজ শুরু করেছেন তিনি। প্রায় তিন মাস ধরে নতুন এই পেশায় যুক্ত আছেন এই অভিনেত্রী। ফলে একই সঙ্গে দুটি ভিন্ন জগতের অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন—একদিকে অভিনয়ের সৃজনশীলতা, অন্যদিকে করপোরেট জগতের দায়িত্ব ও পেশাদারিত্ব।



অভিনয়ই তার প্রথম ভালোবাসা-


ব্যাংকে যোগ দেওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—তাহলে কি অভিনয়ে অনিয়মিত হয়ে যাবেন তমা?


এই প্রশ্নের উত্তরেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি। তমার কাছে অভিনয় শুধু একটি পেশা নয়, বরং তাঁর ভালোবাসার জায়গা। তাই নতুন পেশায় যুক্ত হলেও অভিনয় থেকে দূরে সরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই তাঁর। তাঁর ভাষায়, ‘অভিনয় আমার প্রথম ভালোবাসা আর ভালো লাগার জায়গা। এখানেই আছি, থাকব, আমৃত্যু কাজ করব ইনশা আল্লাহ।’


অভিনয় চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার কথাও জানিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ করপোরেট জীবনের নতুন দায়িত্ব তাঁকে রুপালি পর্দা থেকে সরিয়ে দিচ্ছে না; বরং জীবনের পরিধি আরও বিস্তৃত করছে।



বছরে এক-দুই সিনেমা, তবে বেছে বেছে


তমা মির্জার অভিনয়জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো—তিনি কাজের ক্ষেত্রে বেশ বাছাই করে এগিয়ে চলেন। নিয়মিত পর্দায় উপস্থিত থাকার চেয়ে ভালো গল্প, ভালো চরিত্র ও নিজের পছন্দের কাজকে বেশি গুরুত্ব দেন। তাই বছরে একটি কিংবা দুটি সিনেমায় কাজ করলেও অভিনয় তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে। এই জায়গা থেকেই নতুন পেশাকে দেখছেন ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা হিসেবে। তমা বলেন, ‘আমি খুব বেছে বেছে কাজ করি। বছরে একটা কিংবা দুটো সিনেমায় কাজ করি। জীবনের বাকি সময়টা অন্য কিছু এক্সপ্লোর করতে পারাটা দারুণ একটা সুযোগ।’




রুপালি পর্দা থেকে করপোরেট বোর্ডরুম


অভিনয় আর ব্যাংকিং—দুটি জগতের কাজের ধরন একেবারেই আলাদা। একটি সৃজনশীলতা, আবেগ ও চরিত্র নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত; অন্যটি পরিকল্পনা, যোগাযোগ, ব্র্যান্ডিং, কৌশল ও পেশাদার সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে তমার নতুন দায়িত্বের সঙ্গে তাঁর অভিনয়জীবনেরও কিছু জায়গায় মিল খুঁজে পাওয়া যায়। অভিনয়ের জন্য যেমন মানুষের মন ও আচরণ বোঝার প্রয়োজন হয়, ব্র্যান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশনসের ক্ষেত্রেও মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, ভাবনা ও প্রত্যাশা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ।


ফলে তাঁর অভিনয়জীবনের অভিজ্ঞতাও নতুন কর্মক্ষেত্রে কোনো না কোনোভাবে কাজে লাগতে পারে। একই সঙ্গে করপোরেট পরিবেশ তাঁকে শেখাচ্ছে নতুন ধরনের শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও পেশাগত দক্ষতা।



নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের গল্প


জীবনের একটি পর্যায়ে এসে একই পরিচয়ের মধ্যে আটকে না থেকে নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করছেন তমা মির্জা। তাঁর কাছে ব্যাংকের চাকরি তাই অভিনয়ের বিকল্প নয়; বরং নিজের অভিজ্ঞতার ঝুলিকে আরও সমৃদ্ধ করার একটি সুযোগ। নতুন পেশা সম্পর্কে তাঁর ভাবনাতেও সেই ইতিবাচক মনোভাব স্পষ্ট—‘সেই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে আমার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চাই।’


একজন অভিনেত্রীর করপোরেট জগতে প্রবেশ তাই কেবল পেশা বদলের গল্প নয়। এটি নিজের সক্ষমতাকে নতুন জায়গায় পরীক্ষা করার গল্প, নতুন কিছু শেখার গল্প এবং জীবনের পরিচিত সীমানাকে আরও একটু বড় করে দেখার গল্প।



একই মানুষ, দুটি পরিচয়


আজকের তমা মির্জাকে শুধু নায়িকা পরিচয়ে দেখলে তাঁর বর্তমান যাত্রার পুরোটা ধরা পড়ে না। তিনি একই সঙ্গে একজন অভিনেত্রী এবং একজন করপোরেট পেশাজীবী। দুটি আলাদা জগতের দায়িত্ব সামলে নিজের মতো করে এগিয়ে চলেছেন।


রুপালি পর্দায় অভিনয়ের স্বপ্ন যেমন তাঁর সঙ্গে ছিল, তেমনই জীবনের অন্য ক্ষেত্রগুলোকে জানার কৌতূহলও রয়েছে। আর সেই কৌতূহল থেকেই শুরু হয়েছে নতুন পথচলা। নায়িকা থেকে ব্যাংকের এভিপি—তমা মির্জার এই যাত্রা তাই পরিচয় বদলের নয়, বরং পরিচয়ের পরিধি বাড়ানোর গল্প। অভিনয় তাঁর প্রথম ভালোবাসা হয়েই থাকছে, আর করপোরেট জগত যোগ করছে নতুন অভিজ্ঞতা।


ঢাকা/আরএস

sidebar ad