নারীকে সমাজ কীভাবে নির্দিষ্ট ভূমিকা ও প্রত্যাশার মধ্যে গড়ে তোলে— তার ওপর ভিত্তি করে নারীর সুখ, দুঃখের ভিত্তি গড়ে ওঠে। তারপরেও বলা যায়, নারীর জীবনের দুঃখ একরকম নয়; তা বয়স, সমাজ, পরিবার, অর্থনৈতিক অবস্থা ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সঙ্গে বদলে যায়। অনেক দুঃখ প্রকাশ্য, আবার অনেক কষ্ট নীরবে বয়ে বেড়ান অনেক নারী।
১. নিজের স্বপ্নকে বারবার পিছিয়ে দেওয়া
আমাদের সমাজ থেকে একজন নারী ছোটবেলা থেকেই শেখেন—পরিবার, স্বামী, সন্তান ও অন্যদের প্রয়োজন আগে। ফলে নিজের ইচ্ছা, শিক্ষা, ক্যারিয়ার বা সৃষ্টিশীলতার স্বপ্ন অনেক সময় অপেক্ষার তালিকায় চলে যায়।
২. স্বীকৃতির অভাব
একজন নারী পরিবারকে আগলে রাখেন, অসংখ্য দায়িত্ব পালন করেন; কিন্তু তার শ্রম, অনুভূতি ও ত্যাগ অনেক সময় স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। প্রশংসা বা কৃতজ্ঞতার অভাব তার ভেতরে এক ধরনের একাকিত্ব তৈরি করতে পারে।
৩. নিজের শরীর নিয়ে সামাজিক চাপ
একজন নারী শৈশব থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত নারীর শরীর নিয়ে নানা মন্তব্য শুনে থাকেন।—চেহারা, ওজন, বয়স, ত্বক, পোশাক, মাতৃত্ব—সবকিছু নিয়েই সমাজের প্রত্যাশা থাকে। নিজের শরীরকে নিজের মতো গ্রহণ করার স্বাধীনতা অনেকের জন্য কঠিন হয়ে ওঠে।
৪. সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতার অভাব
এই সমাজের একজন নারী কোথায় পড়বেন, কী কাজ করবেন, কাকে বিয়ে করবেন, কীভাবে জীবন কাটাবেন—এসব সিদ্ধান্তে নিজের মত প্রকাশের সুযোগ সীমিত পান।
৫. সম্পর্কের ভেতরের নীরব কষ্ট
অনেক নারী সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে নিজের কষ্ট, অভিমান বা অপূর্ণতাকে চেপে রাখেন। কখনো ভালোবাসার অভাব, কখনো অবহেলা, কখনো অসম দায়িত্ব ভাগাভাগি তাদের মানসিকভাবে ক্লান্ত করে তোলে।
৬. মাতৃত্বের আনন্দের সঙ্গে যুক্ত চাপ
সন্তান জন্ম দেওয়া ও লালন-পালন অনেক নারীর জীবনের বড় আনন্দ হলেও এর সঙ্গে থাকে শারীরিক পরিবর্তন, মানসিক চাপ, ক্যারিয়ার বিরতি এবং ‘ভালো মা’ হওয়ার সামাজিক চাপ।
৭. বয়স বাড়ার সঙ্গে অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার অনুভূতি
সমাজ অনেক সময় তরুণ বয়সের সৌন্দর্যকে বেশি গুরুত্ব দেয়। বয়স বাড়লে অনেক নারী অনুভব করেন, তাদের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও ব্যক্তিত্বের চেয়ে চেহারাকে বেশি মূল্য দেওয়া হচ্ছে।
৮. নিজের পরিচয় হারিয়ে ফেলার ভয়
অনেক নারী স্ত্রী, মা, কন্যা বা কর্মীর পরিচয়ে পরিচিত হন; কিন্তু “আমি একজন মানুষ হিসেবে কী চাই?”—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে অনেকেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দেন।