চিকিৎসা, ব্যবসা কিংবা অন্য কোনো প্রয়োজনে কলকাতা যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন? যাত্রার প্রস্তুতিতে এবার শুধু ভিসা, টিকিট কিংবা হাসপাতালের অ্যাপয়েন্টমেন্ট থাকলেই হবে না—থাকার জায়গাটিও আগেভাগে নিশ্চিত করা জরুরি।
কলকাতায় সাম্প্রতিক একটি মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের পর স্থানীয় প্রশাসন আবাসিক হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এর ফলে কিছু প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় শহরটিতে গিয়ে হঠাৎ আবাসন সংকটে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য সতর্কতামূলক নির্দেশনা দিয়েছে কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশন।
হোটেল বুকিং এখন আর শেষ মুহূর্তের বিষয় নয়
কলকাতায় যাওয়ার আগে হোটেল বুকিং নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শুধু অনলাইনে একটি বুকিং করলেই দায়িত্ব শেষ নয়; যাত্রার আগে হোটেলটি বর্তমানে চালু আছে কি না, বুক করা কক্ষটি বাস্তবে পাওয়া যাবে কি না এবং হোটেলটির অবস্থান কোথায়—এসব বিষয়ও যাচাই করে নিতে বলা হয়েছে।
কারণ, সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের পর নিরাপত্তার কারণে কলকাতার কিছু আবাসিক হোটেল ও রেস্তোরাঁ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। ফলে আগে বুকিং করা কোনো হোটেলও পরবর্তী সময়ে বন্ধ হয়ে যেতে পারে বা সেখানে কক্ষের প্রাপ্যতা পরিবর্তিত হতে পারে।
চিকিৎসার জন্য গেলে বাড়তি প্রস্তুতি
কলকাতা বাংলাদেশি রোগীদের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাগন্তব্য। বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসকের কাছে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে প্রতিবছর অসংখ্য মানুষ সেখানে যান। রোগীর পাশাপাশি থাকেন এক বা একাধিক স্বজন বা অ্যাটেনডেন্ট।
চিকিৎসার উদ্দেশ্যে কলকাতা যাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে তাই হোটেল নির্বাচন আরও গুরুত্বপূর্ণ। উপহাইকমিশনের নির্দেশনায় রোগীর সফরসঙ্গীদেরও যাত্রার আগে হোটেল বুকিং নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে শুধু কক্ষ পাওয়া যাবে কি না, তা জানাই যথেষ্ট নয়। বুকিংটি বৈধ কি না, হোটেলটি বর্তমানে কার্যক্রম চালাচ্ছে কি না এবং হাসপাতাল থেকে হোটেলটির দূরত্ব কত—এসব বিষয়ও আগে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে রোগী যদি বয়স্ক, অসুস্থ বা চলাফেরায় সমস্যায় থাকা ব্যক্তি হন, তাহলে হাসপাতালের কাছাকাছি নিরাপদ ও কার্যকর হোটেল বেছে নেওয়া ভ্রমণকে অনেক সহজ করে দিতে পারে।
বুকিংয়ের পরও একবার যাচাই
ভ্রমণের কয়েক দিন আগে হোটেলে সরাসরি যোগাযোগ করে বুকিং পুনরায় নিশ্চিত করা যেতে পারে। একই সঙ্গে জেনে নেওয়া ভালো—
হোটেলটি বর্তমানে চালু আছে কি না;
বুক করা কক্ষটি নিশ্চিতভাবে পাওয়া যাবে কি না;
হোটেলটির বর্তমান অবস্থান ও যোগাযোগের তথ্য;
হাসপাতাল বা নির্ধারিত গন্তব্য থেকে দূরত্ব;
প্রয়োজনীয় পরিবহন ও অন্যান্য সুবিধা;
স্থানীয় নিরাপত্তাবিধি বা প্রশাসনিক কোনো বিধিনিষেধ রয়েছে কি না।
অনলাইনে কোনো বুকিং দেখাচ্ছে বলেই সেটি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কার্যকর থাকবে—এমন নিশ্চয়তা ধরে না নেওয়াই নিরাপদ।
কেন এই সতর্কতা?
সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের পর কলকাতার স্থানীয় প্রশাসন দুর্ঘটনাপ্রবণ আবাসিক হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে। নিরাপত্তাবিধি ও অন্যান্য নিয়মকানুন মেনে এসব প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু করতে এক মাসেরও বেশি সময় লাগতে পারে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ফলে আগে যেখানে পর্যটক বা চিকিৎসাপ্রার্থীরা সহজেই থাকার জায়গা পেয়ে যেতেন, সেখানে এখন পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। বিশেষ করে হাসপাতালকেন্দ্রিক এলাকায় হোটেলের চাহিদা বেশি থাকায় শেষ মুহূর্তে বিকল্প আবাসন খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
ভ্রমণের আগে ছোট্ট একটি চেকলিস্ট
কলকাতার উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে তাই কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করে নেওয়া ভালো:
হোটেল: বুকিং নিশ্চিত করুন এবং হোটেলটি চালু আছে কি না যাচাই করুন।
বুকিং: বুকিংয়ের প্রমাণ ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করুন।
অবস্থান: হোটেলের সঠিক ঠিকানা ও হাসপাতাল থেকে দূরত্ব জেনে নিন।
চিকিৎসা: হাসপাতালের অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখুন।
বিকল্প ব্যবস্থা: প্রয়োজনে বিকল্প হোটেল সম্পর্কে আগাম ধারণা রাখুন।
যোগাযোগ: হোটেল ও সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের ফোন নম্বর হাতের কাছে রাখুন।
কলকাতা ভ্রমণের ক্ষেত্রে নতুন এই সতর্কতার মূল উদ্দেশ্য ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করা নয়; বরং অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে পড়ে ভোগান্তি এড়ানো। বিশেষ করে চিকিৎসার মতো জরুরি প্রয়োজনে কলকাতায় গেলে থাকার জায়গা নিয়ে অনিশ্চয়তা রোগী ও স্বজনদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। তাই টিকিট কাটার পাশাপাশি আবাসনের বিষয়টিকেও ভ্রমণ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশি নাগরিকদের উদ্দেশে কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের পরামর্শও তাই স্পষ্ট—অগ্রিম হোটেল বুকিং নিশ্চিত না করে কলকাতার উদ্দেশে যাত্রা না করাই ভালো।
তথ্যসূত্র: ডয়চে ভেলে