নারীদের একা থাকার প্রবণতা বাড়ছে—কিন্তু কেন?


নারীদের একা থাকার প্রবণতা বাড়ছে—কিন্তু কেন?

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নারীদের একা থাকা বা সিঙ্গেল জীবন বেছে নেওয়ার প্রবণতা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে বিষয়টি শুধু ‘বিয়ে করতে না চাওয়া’র মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।


মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন—


১. আর্থিক স্বাধীনতা


আগের তুলনায় এখন অনেক নারী নিজের ক্যারিয়ার গড়ছেন, আয় করছেন এবং নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নিতে পারছেন। ফলে শুধু আর্থিক নিরাপত্তার জন্য সম্পর্কে জড়ানোর প্রয়োজনীয়তা অনেকের কাছেই কমে গেছে।


২. মানসিক শান্তিকে অগ্রাধিকার


অনেক নারী মনে করেন, একটি অসুস্থ বা বিষাক্ত সম্পর্কের চেয়ে একা থাকা বেশি শান্তিপূর্ণ। তাই তাঁরা সম্পর্কের চেয়ে নিজের মানসিক সুস্থতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।


৩. ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত লক্ষ্য


উচ্চশিক্ষা, পেশাগত উন্নতি, ভ্রমণ কিংবা নিজের স্বপ্ন পূরণ—এসব লক্ষ্যকে অনেক নারী বিয়ের আগে, কিংবা কখনো কখনো বিয়ের পরিবর্তে, অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।


৪. সম্পর্কের মান নিয়ে সচেতনতা


বর্তমান প্রজন্মের নারীরা সম্পর্কে সমতা, সম্মান ও পারস্পরিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। সেই মানদণ্ড পূরণ না হলে অনেকেই আপস করে সম্পর্কে জড়ানোর পরিবর্তে একা থাকাকেই বেছে নিচ্ছেন।


৫. সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন


একসময় অবিবাহিত নারীকে সমাজ নেতিবাচকভাবে দেখত। ধীরে ধীরে সেই ধারণা বদলাচ্ছে। একা থাকা এখন অনেকের কাছেই একটি বৈধ ও সম্মানজনক জীবনধারা।


মনোবিজ্ঞানী ড. বেলা ডিপাওলোর মতে, স্বেচ্ছায় একা থাকা ব্যক্তিরা একটি ‘মনস্তাত্ত্বিকভাবে সমৃদ্ধ জীবন’ উপভোগ করেন। তাঁরা নিজস্ব নীতি, মূল্যবোধ ও পছন্দের ভিত্তিতে জীবনযাপন করেন এবং একাকীত্বকে ভয়ের বিষয় হিসেবে নয়, বরং উপভোগের একটি অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখেন।


মনে রাখা জরুরি


সব নারী একা থাকতে চান—এমন নয়। আবার যাঁরা সম্পর্কে আছেন, তাঁরা সবাই অসুখী—এ কথাও সত্য নয়। জীবনযাপনের পছন্দ ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন। কেউ সম্পর্কে থেকে সুখী হন, কেউ একা থেকে।


*সুরাইয়া নাজনীন


ঢাকা/আরএস

sidebar ad