‘কেন জানি বুয়েটের ক্যাফেটেরিয়াতে খেতে চাইতাম না’

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘কেন জানি বুয়েটের ক্যাফেটেরিয়াতে খেতে চাইতাম না’

তাসনুভা হায়দার


বুয়েটে থাকতে কেন জানি বুয়েটের ক্যাফেটেরিয়াতে খেতে চাইতাম না। বেশ হৈহৈ রৈরৈ করে আশপাশে খেতে যেতাম। তেল বেশি ছিল? যদি জিজ্ঞেস করেন, হ্যাঁ, ছিল! তবে গায়ে লাগত না। সে ছিল এক ড্যাশিং সময়!


বিকেলের ক্লাস বা সেশনাল কুইজ থাকলে মুরগি তেহারি খেতাম। মুরগি তেহারিটা খুব একটা মজা ছিল না। এখন দেখি, খাবারে বেশ বৈচিত্র্য এসেছে বুয়েট ক্যাফেতে।




বেশির ভাগ সময় ঝোঁক ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাভেনাস টংয়ের খিচুড়ি, অথবা লালবাগে নান্না বিরিয়ানির নানা তেহারি আর কাচের বোতলের কোক দিয়ে দুপুরের লাঞ্চ সারা। আমার সবচেয়ে প্রিয় ছিল নান্নার ওই তেহারি—৩০ টাকা হাফ প্লেট, পারফেক্ট!


আর নীলক্ষেতে তো রয়্যাল তেহারি খাওয়া হতোই। তবে নান্নাটার দিকে ঝোঁক ছিল বেশি। টিউশনির টাকা হাতে পেলে বা বেশি শখ জাগলে বুমারস ক্যাফেতে মাসে একবার খাওয়া হতো।


আর বৈকালিক আড্ডায় দ্য গ্রেট পকেট শর্মা অব হাতিরপুল, আর সঙ্গে আচ্ছামতো হোয়াইট সস! হাতিরপুলের শর্মা হাউজের ফোর সিজনস পিজা, সিসিলি পিজা, মেক্সিকান হট পিজাও খাওয়া হতো।


নান্নার বিরিয়ানিতে ব্যাক করা যাক। নান্নার মোরগ পোলাওটাও সেই ছিল! দেখতেও কেমন বেশ কড়কড়ে, মুখরোচক লাগত। তবে এটা বেশি খাওয়া হয়েছে দিলকুশায় অফিস থাকার সময়। মতিঝিলে একটা নান্না ছিল, তবে ওটা নাকি আসল নান্না ছিল না। কিন্তু স্বাদ একেবারে আসল নান্নার মতোই ছিল।


পুরান ঢাকা, মতিঝিল, বংশাল/কাজী আলাউদ্দিন রোডের আসল-নকল নান্না মিলিয়ে তেহারি ও মোরগ পোলাও খাওয়া হয়েছে অনেকবার। তবে হাজী নান্না বিরিয়ানির প্রথম ঐতিহ্যবাহী বেচারাম দেউড়ির শাখায় যেতে দেরিই হয়ে গেল একপ্রকার। আর এখন সরু রাস্তা আরও বেশি গ্যাঞ্জামের হয়ে গেছে অবাধ টেসলার কারণে!


তবুও জীবন অগাধ! বেচারাম দেউড়ির হাজী নান্না বিরিয়ানির শাখাটা দেখা এবং আদি শাখার স্বাদটা কেমন, সেটা চেখে দেখার শখ তো ছিলই।


সময়ের চাহিদায় বেচারাম দেউড়ির শাখার ভেতরে এসি, ঝকঝকে লাইট—সবকিছুরই ব্যবস্থা আছে। নান্নার মোরগ পোলাও অর্ডার করা হলো। দেখতে একই রকম হলেও আগের স্বাদটা একটু মিস করেছি।


হাফ প্লেট মোরগ পোলাও কিন্তু প্লেটজুড়ে থাকে—এটা আমার বেশ মজা লাগে। পোলাওটাও বেশিই দিয়েছিল, পরিমাণে। এই নান্না বা হাজীর বিরিয়ানির চমৎকার ব্যাপার হলো, খেয়ে কখনোই পেটে সমস্যা হয়নি। সেদিন এত ভ্যাপসা গরমেও না।


ওহ হ্যাঁ, কাচের বোতলের স্প্রাইট ছিল সঙ্গে।


(প্রিয় পাঠক, রোদসীর নারীর ডায়েরিতে লিখতে পারেন আপনিও।)  

sidebar ad