দেশের উপজেলা পর্যায়ে ছড়িয়ে থাকা সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তাদের খুঁজে বের করে অর্থায়ন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে ‘উদ্যোগ (UDYOG): উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি’ চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্টের ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের সার্কুলারে এ কর্মসূচির নীতিমালা প্রকাশ করা হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় উপজেলা পর্যায়ে সম্ভাবনাময় তরুণদের ব্যবসায়িক উদ্যোগ বা ব্যবসায়িক ধারণা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন, পরামর্শ এবং বাজারসংযোগের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
কারা আবেদন করতে পারবেন
বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, আবেদন গ্রহণের শেষ তারিখে বয়স সর্বোচ্চ ২৮ বছর এমন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক এ কর্মসূচিতে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। তাঁর নিজস্ব ব্যবসায়িক উদ্যোগ বা ব্যবসায়িক ধারণা থাকতে হবে, অথবা নতুন ব্যবসা শুরুর বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা থাকতে হবে।
তবে আগে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ঋণ নেওয়া থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এ কর্মসূচির আওতায় বিবেচিত হবেন না। ঋণখেলাপি এবং সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিরাও এ কর্মসূচির অর্থায়নের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন না।
কী ধরনের ব্যবসা করা যাবে
কর্মসূচির আওতায় প্রচলিত আইন অনুযায়ী বৈধ সব ধরনের ব্যবসা বা উদ্যোগ বিবেচনা করা হবে। এর মধ্যে কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তশিল্প, মৎস্য, পশুপালন, পর্যটন, সেবা, সৌরবিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি, হালকা প্রকৌশল এবং প্রযুক্তিভিত্তিক স্টার্টআপসহ বিভিন্ন খাত রয়েছে।
নতুন ব্যবসায়িক ধারণার পাশাপাশি বিদ্যমান ব্যবসা সম্প্রসারণের উদ্যোগও এ কর্মসূচির আওতায় বিবেচিত হবে।
সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা অর্থায়ন
নির্বাচিত উদ্যোক্তার প্রকৃত ব্যবসায়িক চাহিদা ও প্রস্তাবিত ব্যয়ের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত সমন্বিত অর্থায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে।
এই অর্থায়নের ৫০ শতাংশ হবে ব্যাংক ঋণ এবং বাকি ৫০ শতাংশ অনুদান। অর্থাৎ সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অনুদান পাওয়া যেতে পারে।
তবে প্রত্যেক নির্বাচিত উদ্যোক্তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পাবেন না। ব্যবসার প্রকৃত প্রয়োজন, ব্যয় পরিকল্পনা ও চূড়ান্ত মূল্যায়নের ভিত্তিতে অর্থায়নের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালায় উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, কোনো উদ্যোক্তার ব্যবসার জন্য ১২ লাখ টাকা প্রয়োজন হলে তিনি সর্বোচ্চ ৬ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ এবং ৬ লাখ টাকা অনুদান পেতে পারেন।
জামানত ছাড়াই ঋণের সুযোগ
এ কর্মসূচির আওতায় দেওয়া ঋণের বিপরীতে সহায়ক জামানত গ্রহণ ছাড়াও ঋণ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ঋণনীতি ও প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। ঋণের পাশাপাশি সমপরিমাণ অনুদান দেওয়া হবে। ঋণ ও অনুদানের অর্থ একই সময়ে এককালীনভাবে উদ্যোক্তার ব্যাংক হিসাবে দেওয়া হবে; নগদে অর্থ দেওয়ার সুযোগ নেই।
তবে ঋণের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার না করলে বা ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে অনুদানের অর্থও ঋণে রূপান্তরিত হতে পারে।
কোথায় আবেদন করতে হবে
সংশ্লিষ্ট উপজেলার যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় নির্ধারিত ফরমে আবেদন করা যাবে। যে ব্যাংকে আবেদন করা হবে, সেখানে আগে থেকে হিসাব থাকা বাধ্যতামূলক নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট, এসএমই পোর্টাল এবং তফসিলি ব্যাংকগুলোর ওয়েবসাইট থেকে আবেদন ফরম সংগ্রহ করা যাবে। ব্যাংকের শাখা থেকেও ফরম নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
আবেদনের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র, সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ (যদি থাকে), পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাগজপত্র জমা দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার প্রমাণ হিসেবে ওয়ার্ড কমিশনার বা কাউন্সিলরের দেওয়া নাগরিক সনদ বা প্রত্যয়নপত্রও প্রয়োজন হবে।
কীভাবে উদ্যোক্তা নির্বাচন হবে
আবেদন পাওয়ার পর ব্যবসায়িক ধারণার যৌক্তিকতা ও বাস্তবায়নযোগ্যতা, বাজারের সম্ভাবনা, আর্থিক পরিকল্পনা, উদ্যোক্তার সক্ষমতা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা বিবেচনা করে উদ্যোক্তা নির্বাচন করা হবে।বাংলাদেশ ব্যাংক, ব্যাংক প্রতিনিধি, সফল উদ্যোক্তা, সরকারি-বেসরকারি সহযোগী প্রতিষ্ঠান, সংশ্লিষ্ট খাতের শিল্পনেতা, শিক্ষাবিদ ও অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে।
তবে নির্বাচিত হওয়াই ঋণ পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়। চূড়ান্ত মনোনয়নের পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংক নিজস্ব ঋণনীতি ও প্রচলিত বিধিবিধান অনুসরণ করে ঋণ অনুমোদন করবে।
আবেদনের শেষ সময়
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত আবেদন ফরমে ১৫ অক্টোবর ২০২৬-কে আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে আপনার দেওয়া প্রচারপত্রে ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর ২০২৬ এবং অন্যান্য জেলার উপজেলার জন্য ১ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত আবেদনের সময় উল্লেখ করা হয়েছে। এই দ্বিতীয় সময়সূচিটি মূল ১২ পৃষ্ঠার সার্কুলারে পাঠ্য হিসেবে আমি নিশ্চিতভাবে খুঁজে পাইনি। তাই প্রকাশের আগে এ অংশটি সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ ব্যাংক/ব্যাংক শাখা থেকে পুনরায় যাচাই করা ভালো।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল সার্কুলার: ‘উদ্যোগ (UDYOG)’ কর্মসূচির সার্কুলার ও আবেদন ফরম' ।