রোদসী ডেস্ক:
ভারতের বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক এবার রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি বৃহস্পতিবার সংসদের উচ্চকক্ষের সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগের পরপরই বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে তাঁর বৈঠক নতুন রাজনৈতিক জল্পনার জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে তিনিও বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন।
আজ সকালে কোয়েল মল্লিক তাঁর পদত্যাগপত্র নিয়ে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান ও ভারতের উপরাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেন। এর আগে গত ১১ জুন তিনি ই–মেইলের মাধ্যমে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছিলেন। তবে রাজ্যসভার নিয়ম অনুযায়ী সশরীরে চেয়ারম্যানের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হয় বলে সেটি গ্রহণ করা হয়নি। পরে তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
টালিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা রণজিৎ মল্লিকের কন্যা কোয়েল মল্লিককে গত মার্চ মাসে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের কোটায় রাজ্যসভার সদস্য মনোনীত করেন। একই সময়ে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) রাজীব কুমার, সংগীতশিল্পী বাবুল সুপ্রিয় এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীও তৃণমূলের মনোনয়নে রাজ্যসভার সদস্য হন।
কোয়েল মল্লিকের পদত্যাগ এমন এক সময়ে এল, যখন তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙনের আলোচনা তীব্র হয়েছে। এর আগে ৯ জুলাই তৃণমূলের রাজ্যসভার তিন সদস্য—শুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইক—সংসদ সদস্যপদ ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। একই দিন বিজেপি তাঁদের আসন্ন রাজ্যসভার নির্বাচনে দলের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে।
কোয়েল মল্লিকের পদত্যাগের ফলে রাজ্যসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্যসংখ্যা কমে ৯-এ নেমে এসেছে। পদত্যাগের পর তিনি সরাসরি দিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে যান। এরপরই রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন শুরু হয় যে, শুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইকের মতো তিনিও বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। যদিও এ বিষয়ে কোয়েল মল্লিক কিংবা বিজেপির পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
এদিকে ভূপেন্দ্র যাদবের নাম সম্প্রতি ভারতের জাতীয় রাজনীতিতেও আলোচনায় রয়েছে। তাঁর উদ্যোগে লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জন দল ছেড়ে নতুন দল এনসিপিআইতে যোগ দিয়েছেন। নতুন দলটি লোকসভায় পৃথক স্বীকৃতি চেয়ে স্পিকার ওম বিড়লার কাছে আবেদন করেছে। আগামী ২০ জুলাই শুরু হতে যাওয়া লোকসভার বর্ষাকালীন অধিবেশনের আগেই স্পিকার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।